Logo

সাহিত্য সংস্কৃতি    >>   আজ বিশ্ব মা দিবস: যে নারীর কারণে সারা বিশ্বে পালিত হয় মা দিবস!

আজ বিশ্ব মা দিবস: যে নারীর কারণে সারা বিশ্বে পালিত হয় মা দিবস!

আজ বিশ্ব মা দিবস: যে নারীর কারণে সারা বিশ্বে পালিত হয় মা দিবস!

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:

আজ বিশ্ব মা দিবস। বিশ্বের সকল মায়ের জন্য রইল শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা আর ভালবাসা। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মা দিবস পালন করা হয়। মা দিবসের সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে হলেও বর্তমানে বাংলাদেশসহ প্রায় সারা বিশ্বেই দিবসটি পালিত হয় নানা আয়োজনে।

সন্তানরা মায়ের প্রতি ভালোবাসা জানাতে কেউ ফুলসহ বিভিন্ন উপহার দিয়ে মাকে শুভেচ্ছা জানাবে। কেউ কেক কিনবে। কেউবা আবার মায়ের পছন্দের উপহার কিনে দেবে। অথবা কেউ রান্না করে খুশি করবে মাকে। তবে মা দিবস শুধু একটি নির্দিষ্ট দিনেই সীমাবদ্ধ হওয়া উচিত না। একজন মা যেভাবে তার সন্তানকে যত্ন ও ভালোবাসা দিয়ে বড় করে তোলেন, সে ঋণ পরিশোধ করা কোনোকিছু দিয়েই সম্ভব না। তাই মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও যত্ন শুধু একটি দিবসের মধ্যে না রেখে মাকে নিঃশর্তভাবে ভালোবাসাই সন্তানদের কর্তব্য।

মাতার প্রনাম মন্ত্র :-

                         মাতা জননী ধরিত্রীদয়াদ্র হৃদয়া সতী
                     দেবীভ্যো রমণী শ্রেষ্ঠা নির্দ্দোশা সর্ব দুঃখ হারা।। 

যে নারীর মাধ্যমে শুরু হয় মা দিবস:-

মূলত যুক্তরাষ্ট্রে মা দিবস পালনের প্রচলন শুরু হয় আমেরিকান সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্ড হোই নামের এক নারীর হাত ধরে। ১৮৭০ সালে আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় শান্তির প্রত্যাশায় জুলিয়া একটি ঘোষণাপত্র লেখেন। এটি মাদারস ডে প্রোক্লেমেশন নামে পরিচিত ছিল। এ ঘোষণার মধ্যে জুলিয়া রাজনৈতিক স্তরে সমাজ প্রতিষ্ঠায় নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন। এরপর যুদ্ধ শেষে পরিবারহীন অনাথদের সেবায় ও একত্রীকরণে নিয়োজিত হন মার্কিন সমাজকর্মী এ্যান মারিয়া রিভস জার্ভিস ও তার মেয়ে এ্যানা মেরি জার্ভিস। এ সময় তারা জুলিয়া ওয়ার্ড ঘোষিত মা দিবস পালন করতে শুরু করেন। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে এ্যানা রিভিজ জার্ভিস ১৯০৫ সালের ৫ মে মারা যান। তার মৃত্যুর পর মেয়ে আনা মায়ের স্বপ্ন পূরণে কাজ শুরু করেন। ১৯০৮ সালে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার একটি গির্জায় আনা তার মায়ের স্মরণে অনুষ্ঠান করেন। একই বছর মার্কিন কংগ্রেস মা দিবসকে স্বীকৃতি দিয়ে সরকারি ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব নাকচ করে। তবে হার মানেননি আনা। তিনি তার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মা দিবস পালিত হতে থাকে। অবশেষে আনার প্রচেষ্টা সফল হয়। ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। দিনটিকে সরকারি ছুটি হিসেবেও ঘোষণা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পরপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মা দিবস হিসেবে পালিত হতে থাকে।

১৯০৮ সালের ১২ মে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রাফটনে আনা জারভিসের মায়ের স্মরণে প্রথম মা দিবস পালিত হয়। এরপর দীর্ঘ প্রচারণা ও জনসমর্থনের মাধ্যমে ১৯১৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে জাতীয় মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন।

এ্যানা জার্ভিসের মা এ্যান জার্ভিস ছিলেন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। ১৮৬৮ সালে তিনি গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে "মাদার্স ফ্রেন্ডশিপ ডে" উদযাপনের আয়োজন করেছিলেন, যা ইউনিয়ন ও কনফেডারেট সেনাদের মধ্যে বন্ধনের প্রতীক ছিল। ছোটবেলায় মায়ের এক প্রার্থনা আনার হৃদয়ে গেঁথে যায়: “আমি আশা করি, কোনো একদিন কেউ একজন এমন একটি মা দিবস প্রতিষ্ঠা করবে, যেটি মায়েদের সেবার জন্য স্মরণ করবে।”

আরো পড়ুন:- International Mother's Day to be celebrated at the Jewish Center in Jackson Heights, New York,USA

মায়ের মৃত্যুর পর সেই প্রার্থনাকে বাস্তব রূপ দিতে আনা জারভিস শুরু করেন চিঠি লেখা, জনসভার আয়োজন ও প্রচারণা। মা দিবসকে তিনি কেবল একটি “ব্যক্তিগত ও আন্তরিক দিবস” হিসেবে কল্পনা করেছিলেন—যেখানে পরিবার একত্র হবে, মা’কে সম্মান জানাবে।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মা দিবস হয়ে ওঠে একটি বাণিজ্যিক উৎসব। ফুল, কার্ড ও উপহারের আদান-প্রদান ছিল যেটির মূল বৈশিষ্ট্য, তা পরিণত হয় বিপুল বাণিজ্যে। প্রতিবছর শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই বিক্রি হয় ১০ কোটিরও বেশি মা দিবসের কার্ড। আনুষ্ঠানিক ফুল হিসেবে এখনো সাদা কার্নেশন বহুল ব্যবহৃত হয়—যা এ্যানার মায়ের প্রিয় ছিল।

দিবসটির এমন বাণিজ্যিকীকরণ দেখে এ্যানা জারভিস ছিলেন গভীরভাবে হতাশ। তিনি এক পর্যায়ে মা দিবসের বাণিজ্যিক রূপের বিরোধিতা করে বলেন, “এই মহৎ ও অকৃত্রিম আন্দোলনকে যারা লোভের মাধ্যমে ধ্বংস করছে, তারা প্রতারক, ডাকাত ও ঘুণপোকা।” জীবনের শেষ দিকে এসে তিনি নিজেই এই দিবসটি বিলুপ্ত করার আহ্বান জানান।

আজ বিশ্বজুড়ে মা দিবস পালিত হয় নানা আয়োজনে—কিন্তু সেই সূচনা মুহূর্তের পেছনে যিনি দাঁড়িয়ে আছেন, সেই এ্যানা জারভিসের ত্যাগ ও ভালোবাসা স্মরণীয় হয়ে থাকবে ইতিহাসের পাতায়।