বগুড়ায় জাতীয় সংগীত কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে নিউইয়র্কে উদীচীর সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ সমাবেশ: দোষীদের শাস্তির দাবি, মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের প্রতিরোধ করার আহ্বান
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশের বগুড়ায় মৌলবাদী গোষ্ঠীর সন্ত্রাসী হামলা ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয় ভাঙচুরের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ১৮ মে ২০২৫, রোববার সন্ধ্যায় জ্যামাইকার হিলসাইড এভিনিউর ১৬৮ স্ট্রিটে অবস্থিত ‘স্টার কাবাব’ রেস্টুরেন্টের সামনে আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী জ্যামাইকা শাখার সভাপতি আশীষ রায়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শাখার সাধারণ সম্পাদক হিরো চৌধুরী।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা এবং মুক্তিযুদ্ধ—এই তিনটি চেতনার ওপর আঘাত হানা মানেই জাতির অস্তিত্বে আঘাত। বগুড়ার ঘটনায় এই মৌলবাদী চক্র জাতির চেতনাকেই ক্ষতবিক্ষত করেছে।”
ঘটনার পটভূমি-
গত ১৪ মে ২০২৫, বুধবার বিকেলে বগুড়ার শহীদ খোকন পার্ক ও সাতমাথা চত্বরে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ’–এর ব্যানারে আয়োজিত সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার কর্মসূচিতে একদল মৌলবাদী দুষ্কৃতকারী দু’দফা হামলা চালায়।
তারা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর জেলা কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ছিঁড়ে ফেলে দেয় এবং কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলা করে। এতে আহত হন সিপিবি, ছাত্র ইউনিয়ন, ক্ষেতমজুর সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের অন্তত সাতজন নেতাকর্মী।
নিন্দা ও শাস্তির দাবি-
উক্ত হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন উদীচী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক কল্লোল দাশ, যিনি বলেন—
“জাতীয় সংগীত গাওয়ার মতো একটি স্বাধীন সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে হামলা শুধু কাপুরুষোচিত নয়, তা আমাদের রাষ্ট্রীয় চেতনার বিরুদ্ধেও এক বিপজ্জনক আগ্রাসন। আমরা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”
জ্যামাইকা শাখার সভাপতি আশীষ রায় বলেন,
“একটি সাম্প্রদায়িক, ধর্মান্ধ গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা কখনো জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, কখনো জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের দাবি তোলে। উদীচীসহ প্রগতিশীল শক্তি এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে মাঠে ছিল, আছে, এবং থাকবে।”
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক কল্লোল দাশ বলেন,
“জাতীয় সংগীত কারো দয়া বা অনুমতির বিষয় নয়—এটি ৩০ লাখ শহীদের রক্তে, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমে অর্জিত। এর অবমাননা মানেই আমাদের অস্তিত্বের ওপর চরম আঘাত।”
প্রগতিশীল শক্তির বৃহত্তর ঐক্যের আহ্বান
সমাবেশ থেকে সারা বিশ্বের বিবেকবান মানুষ, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও মুক্তচিন্তার ধারক সকল গোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা-
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন:
• হাফিজুল হক, সভাপতি, প্রগ্রেসিভ ফোরাম ইউএসএ ,
* ফজলুর রহমান, প্রধান সম্পাদক, সাপ্তাহিক ঠিকানা ,
* জুলফিকার হোসেন বকুল, সমাজসেবক ও সংগঠক ,
• জাকির হোসেন বাচ্চু, সংগঠক , সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব , সমাজসেবক ও উদীচী নেতা।
• নুসরাত শাহ আজাদ, সাংস্কৃতিক কর্মী ,
. গোপাল স্যানাল, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ,
* তাপস সাহা, সংগঠক ও ফটো সাংবাদিক ,
• অধ্যাপিকা হোসনে আরা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ,
• এহসান হাসান, মানবাধিকারকর্মী,
• সনজীবন কুমার সরকার, সিনিয়র সাংবাদিক, সাপ্তাহিক সন্ধান,
• পিনাকী তালুকদার, সিনিয়র সাংবাদিক,
• আলীম উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, উদীচী,
• বাবুল আচার্য্য, সাংস্কৃতিক সংগঠক,
• সাবিনা হাই উর্বি , সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগঠক,
• মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সংগঠক,
• সুলেখা পাল, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও উদীচী নেত্রী,
•সুচরিত দত্ত, লেকচারার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব,
• স্নিগ্ধা আচার্য্য, সংগীত শিল্পী,
* ফুলু রায় চৌধুরী , সংগীত শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক উদীচী জ্যামাইকা শাখা ,
• উত্তম কুমার সাহা, সম্পাদক ও প্রকাশক, প্রজ্ঞা নিউজ,
• দীপক আচার্য্য, সম্পাদক ও প্রকাশক, সাউথ এশিয়ান টাইমস,
• গোপা পাল মুক্তা, সংগীতশিল্পী,
• দিলীপ মোদক, সংগঠক,
• মুনমুন সাহা, আবৃত্তি শিল্পী ও উদীচী সদস্য,
• সুপর্ণা সরকার রীমা, সংগীতশিল্পী ও উদীচী সদস্য,
• লুনা চৌধুরী, উদীচী সদস্য,
• মুক্তি সরকার, সাংস্কৃতিক কর্মী,
• পপি ঘোষ, প্রতিমা সরকার, বিপুল সাহা, উর্মিসাহা প্রমুখ।
সমাবেশে উদীচী জ্যামাইকা শাখার সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সংগীতশিল্পী ফুলু রায় চৌধুরীর পরিচালনায় শিল্পীরা উপস্থিত জাতীয় সংগীতসহ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধকারী গান পরিবেশন করেন। গানের মধ্য দিয়ে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন এবং প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বার্তা পৌঁছে দেন।
প্রতিবেদন: প্রজ্ঞা নিউজ | নিউইয়র্ক | ১৮ মে ২০২৫


















