Logo

সাহিত্য সংস্কৃতি    >>   নিউইয়র্কে ড্রামা সার্কেলের “পাখি” মঞ্চস্থ: জীবনের বেদনার নান্দনিক প্রতিচ্ছবি

নিউইয়র্কে ড্রামা সার্কেলের “পাখি” মঞ্চস্থ: জীবনের বেদনার নান্দনিক প্রতিচ্ছবি

নিউইয়র্কে ড্রামা সার্কেলের “পাখি” মঞ্চস্থ: জীবনের বেদনার নান্দনিক প্রতিচ্ছবি

প্রজ্ঞা নিউজ, নিউইয়র্ক:

সমাজের নীরব কান্না, বিষন্নতা ও বেঁচে থাকার সংকটকে নাট্যরূপ দিয়ে ড্রামা সার্কেল নিউইয়র্ক মঞ্চস্থ করলো তাদের নতুন নাটক “পাখি”। বিশিষ্ট নাট্যকার মনোজ মিত্রের লেখা ও জহির মাহমুদের নির্দেশনায় এই নাটকটি পরিবেশিত হয় ২২ জুন, রবিবার সন্ধ্যা সাতটায় জ্যামাইকা সেন্টার ফর আর্টস অ্যান্ড লার্নিং-এর ব্ল্যাক বক্স থিয়েটারে। “পাখি” শুধু একটি নাটক নয়, এটি যেন জীবনের এক নিঃশব্দ ভাষ্য। একঘন্টার এই মঞ্চনাটকে জীবনের ক্লান্তি, অভাব, হাহাকার, প্রেম ও আশ্রয়ের আকাঙ্ক্ষা একাকার হয়ে উঠেছে। নাটকটি দর্শকদের হৃদয়ে তৈরি করেছে এক অন্তরঙ্গ, অন্তরস্পর্শী আবহ, যা ভাবিয়ে তুলেছে উপস্থিত সবাইকে। প্রতিটি সংলাপ ও দৃশ্যপট ছিল পরিমিত, শিল্পিত ও বাস্তবঘন।

নাটকে নিতিশ চরিত্রে আবীর আলমগীর এবং শ্যামা চরিত্রে কান্তা আলমগীর জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতে জর্জর এক দম্পতির বাস্তবতা তুলে ধরেছেন সংবেদনশীল অভিনয়ে। দু’জনের পারস্পরিক নির্ভরতা, নিঃশব্দ ভালোবাসা ও সম্পর্কের টানাপড়েন দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। গোপালের চরিত্রে চন্দন চৌধুরীর প্রাণবন্ত অভিনয় ও সংলাপ প্রক্ষেপণ নাটকে প্রাণ এনেছে। মিস চৈতালী চরিত্রে জাফরিন আবেদীন একজন আত্মবিশ্বাসী আইনজীবী হিসেবে ছিলেন দৃঢ় ও স্বতঃস্ফূর্ত। নাটকের নির্দেশক জহির মাহমুদের মুনশিয়ানায় নাটকটি হয়ে ওঠে সহজ কিন্তু গভীর বয়ানের এক শিল্পসৃষ্টি। দৃশ্য, শব্দ ও সংলাপের মধ্যে ছিল সংবেদনশীল ভারসাম্য—যা দর্শকদের সঙ্গে গড়ে তোলে আবেগের সেতুবন্ধ।

প্রযোজনার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন নার্গিস আহমেদ, প্রযোজনা অধিকর্তা রিপা আহমেদ। মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় এস কে বুখারি ও মিল্টন আহমেদ, আবহ সংগীতে ফারহানা তুলি, আলোক পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণে ছিলেন আবু সুফিয়ান বিপ্লব। সঞ্চালনায় ছিলেন আদিবা জহির এবং বক্স অফিস নিয়ন্ত্রনে অমিতা ইসলাম। ভিডিও চিত্র ধারণ করেছেন তানভির আজহার সুকি। মিলনায়তন ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মোহাম্মদ মোহসিন, লুৎফর রহমান, শারমিন মোহসিন, আলেয়া ফেরদৌসী, শাহ আলম, রুকসান আরা, লেমন চৌধুরী, শায়লা আজিম, রুমি মুস্তাফা, সুদান শেখ, শাহনাজ পারভিন রিতা, আকাশ আহসান, লিলি ইসলাম, নিশাত খাজা, জুয়েল খাজা, ফারজানা মম সুলতানা ও জায়ান।

১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ড্রামা সার্কল নিউইয়র্ক এক দশকে পরপর ২৩টি পূর্ণাঙ্গ নাটক মঞ্চস্থ করে প্রবাসের নাট্যজগতে এক স্বাতন্ত্র্যসূচক অবস্থান গড়ে তোলে। বেশ কয়েক বছর বিরতির পর “পাখি” দিয়ে তারা আবার ফিরে এল মঞ্চে, নতুন প্রাণ, নতুন প্রযোজনা ও একই প্রতিশ্রুতি নিয়ে। এই প্রত্যাবর্তন শুধুমাত্র একটি নাট্য আয়োজন নয়, এটি নিউইয়র্কের প্রবাসী বাঙালি সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনাও বটে। তথ্যসূত্র:- আবীর আলমগীরের ফেসবুক পেইজ