Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   কোরআন হাতে শপথ, ইসলামোফোবিয়ার মুখোমুখি নিউইয়র্ক: জোহরান মামদানির শপথ ঘিরে দক্ষিণপন্থী ক্ষোভ ও বহুত্ববাদের ঐতিহাসিক বার্তা

কোরআন হাতে শপথ, ইসলামোফোবিয়ার মুখোমুখি নিউইয়র্ক: জোহরান মামদানির শপথ ঘিরে দক্ষিণপন্থী ক্ষোভ ও বহুত্ববাদের ঐতিহাসিক বার্তা

কোরআন হাতে শপথ, ইসলামোফোবিয়ার মুখোমুখি নিউইয়র্ক: জোহরান মামদানির শপথ ঘিরে দক্ষিণপন্থী ক্ষোভ ও বহুত্ববাদের ঐতিহাসিক বার্তা

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো ১ জানুয়ারি ২০২৫ বৃহস্পতিবার। নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি পবিত্র কোরান শরিফ হাতে শপথ গ্রহণ করেন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও বহুত্ববাদী এই মহানগরের ইতিহাসে এই প্রথম একজন মুসলিম মেয়র কোরানে হাত রেখে শপথ নিলেন। তবে ঐতিহাসিক এই মুহূর্তটি উদযাপনের বদলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তা রূপ নেয় তীব্র রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিতর্কে।
শপথ গ্রহণের পরপরই মার্কিন রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মামদানির ধর্মীয় পরিচয় ও শপথগ্রহণের পদ্ধতিকে কেন্দ্র করে শুরু হয় সংগঠিত আক্রমণ। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এই শপথ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সমালোচনার কেন্দ্রে ছিল ইসলাম, অভিবাসন এবং আমেরিকান পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজন।
এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে আসে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ম, অভিবাসন ও জাতিগত পরিচয়কে ঘিরে রাজনৈতিক মেরুকরণ চরম আকার ধারণ করেছে। ডানপন্থী রাজনীতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মামদানির শপথকে “নিউইয়র্কের পতন” হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং ইসলামকে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
গত ২১ ডিসেম্বর আলাবামার রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল “শরিয়া আইনের আমেরিকায় কোনো জায়গা নেই”—এমন মন্তব্য করে বিতর্কে ঘি ঢালেন। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ তিনি দাবি করেন, মামদানির “আনুগত্য আমেরিকার প্রতি নয়, ইসলামের প্রতি।” ডানপন্থী সাংবাদিক ও ইনফ্লুয়েন্সার অ্যামি মেক লেখেন, “আল্লাহু আকবর, নিউইয়র্ক সিটি—আত্মসমর্পণ সম্পূর্ণ।” ইউরোপ থেকেও আসে প্রতিক্রিয়া। নেদারল্যান্ডসের কট্টর ডানপন্থী নেতা গিয়ার্ট উইল্ডার্স একে “অবৈধ শপথ” আখ্যা দিয়ে মন্তব্য করেন, “যুক্তরাষ্ট্র কোনো ইসলামি রাষ্ট্র নয়।”

কোরান হাতে শপথ জোহরান মামদানির। ছবি: সংগৃহীত
এই আক্রমণ শুধু রিপাবলিকান শিবিরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। নিউইয়র্কের প্রাক্তন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোসহ একাধিক প্রভাবশালী নেতা মামদানির ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে জোহরান মামদানি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, তিনি নিজের মুসলিম পরিচয় অস্বীকার করবেন না। তার ভাষায়, এই আক্রমণগুলো নিউইয়র্কের রাজনীতির গভীরে প্রোথিত ইসলামোফোবিয়া ও অভিবাসনবিদ্বেষেরই বহিঃপ্রকাশ।
এই প্রেক্ষাপট মাথায় রেখেই মামদানির টিম শপথগ্রহণের জন্য কোরান নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। লক্ষ্য ছিল এমন একটি প্রতীক ব্যবহার করা, যা নিউইয়র্ক শহরের বহুত্ববাদ, কৃষ্ণাঙ্গ ইতিহাস ও অভিবাসী সংগ্রামের উত্তরাধিকারকে তুলে ধরবে। সেই অনুসন্ধানের ফলেই নির্বাচিত হয় বিখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ ইতিহাসবিদ ও লেখক আর্টুরো শোমবার্গ–এর সংগ্রহে থাকা একটি ঐতিহাসিক কোরান।
এই কোরান কেবল একটি ধর্মীয় গ্রন্থ নয়; এটি নিউইয়র্কের বহুত্ববাদী ইতিহাস, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংগ্রাম এবং সাংস্কৃতিক সহাবস্থানের প্রতীক। মামদানির শপথ তাই কেবল একজন মুসলিম মেয়রের শপথগ্রহণ নয়—এটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানসম্মত ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বহুত্ববাদের এক শক্তিশালী ঘোষণা।
জোহরান মামদানির কোরান হাতে শপথ, একদিকে যেমন ডানপন্থী রাজনীতির অস্বস্তি উন্মোচন করেছে, তেমনি অন্যদিকে নিউইয়র্ককে আবারও প্রমাণ করেছে—এই শহর বৈচিত্র্যকে ভয় পায় না, বরং তা থেকেই তার শক্তি জন্ম নেয়। সূত্র: সনজীবন কুমার ও আজকাল ওয়েবডেস্ক

 

 

 

কোরআন হাতে শপথ, ইসলামোফোবিয়ার মুখোমুখি নিউইয়র্ক: জোহরান মামদানির শপথ ঘিরে দক্ষিণপন্থী ক্ষোভ ও বহুত্ববাদের ঐতিহাসিক বার্তা