পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় উদযাপনে নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য সমাবেশ: নতুন বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও সনাতনী ঐক্যের আহ্বান
- By Progga News Desk --
- 10 May, 2026
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
“দ্য ড্রিম অব ওয়েস্ট বেঙ্গল কামস ট্রু” স্লোগানকে সামনে রেখে গত ৮ মে ২০২৬ শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় নিউইয়র্কের ফ্লোরাল পার্কস্থ Golden Years Senior Program মিলনায়তনে এক বর্ণাঢ্য বিজয় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ২৫৮-২০ হিলসাইড অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ভারতীয় ও বাংলাদেশি সনাতনী সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল বিজয়ের উচ্ছ্বাস, সনাতনী ঐক্যের বার্তা এবং পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে আশাবাদের প্রকাশ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই কমিউনিটির পরিচিত সনাতনী সংগঠক প্রিয় তোষ দে’র উপস্থাপনায় অতিথিদের স্বাগত জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তব্য রাখেন বিজেপি নেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। তিনি উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, দুঃশাসন, রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রশাসনিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছিলেন। তিনি দাবি করেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনামলে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার চরম আকার ধারণ করে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি, কয়লা ও গরু পাচার, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে পড়েছিল। বক্তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে হিন্দু ও সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, মন্দিরে হামলা, পূজা-পার্বণে বাধা এবং রাজনৈতিকভাবে সনাতনীদের কোণঠাসা করার প্রবণতা দেখা গেছে।
বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী তার বক্তব্যে বলেন, বিজেপির উত্থান কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, এটি পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত আত্মপরিচয় পুনরুদ্ধারের আন্দোলন। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের মহান শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ ও ভারতীয় জনসংঘের (বর্তমান বিজেপির পূর্বসূরি) প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ছিলেন আধুনিক পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রধান স্থপতি। দেশভাগের সময় যখন সমগ্র বাংলা পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তখন তিনি দৃঢ় অবস্থান নিয়ে হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলেন। বক্তারা বলেন, তার ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণেই বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে টিকে থাকে।
বক্তারা আরও বলেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ছিলেন বাঙালি হিন্দুদের অধিকার ও নিরাপত্তার অন্যতম কণ্ঠস্বর। অবিভক্ত বাংলায় মুসলিম লীগ সরকারের সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং পশ্চিমবঙ্গকে একটি নিরাপদ আবাসভূমি হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তার শিক্ষাবিদ পরিচয়ের কথাও তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, মাত্র অল্প বয়সে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং শিক্ষা ও জাতীয় চেতনা বিকাশে অসামান্য অবদান রাখেন। স্বাধীনতার পর জওহরলাল নেহেরুর মন্ত্রিসভায় ভারতের প্রথম শিল্প ও সরবরাহ মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে নেহেরু-লিয়াকত চুক্তির বিরোধিতা করে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন এবং ১৯৫১ সালে ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
বক্তারা বলেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর রাজনৈতিক দর্শন ছিল জাতীয়তাবাদ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর ভিত্তি করে। পশ্চিমবঙ্গের অস্মিতা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক অস্তিত্ব রক্ষায় তার ঐতিহাসিক অবদানের কারণে তিনি আজও কোটি মানুষের কাছে শ্রদ্ধার প্রতীক হয়ে আছেন।
অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিজয় পশ্চিমবঙ্গে নতুন আশার দ্বার উন্মোচন করেছে। “এটি শুধু রাজনৈতিক বিজয় নয়, এটি বাংলার সংস্কৃতি, নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও সনাতনী চেতনার বিজয়,”—বলেন বক্তারা। নতুন নেতৃত্বের অধীনে পশ্চিমবঙ্গকে দুর্নীতিমুক্ত, উন্নত ও নিরাপদ রাজ্যে পরিণত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সফল ব্যবসায়ী ও জনপ্রিয় জনমুখী ব্যক্তিত্ব অজয় নায়েক, দেবাল গুপ্ত, কাঞ্চন ব্যানার্জী, জয় শিয়া রাম সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, “হার হার মহাদেব” ধ্বনিতে মুখরিত ভক্তবৃন্দ, মহন্ত শ্রী মা রাজ্যলক্ষ্মী, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাইস্টেট আরএসএস নেতা সত্যব্রত মুখার্জী, বাংলাদেশি সনাতনী নেতা ড. সমীর সরকার এবং সীতাংশু গুহ। বক্তারা প্রবাসে সনাতনী ঐক্য জোরদার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে গীতা পাঠ করেন নৃপেন। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবহে পুরো অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পরে ভারতীয় বাঙালি সংগীত শিল্পী তপন দাস ও সমীর চ্যাটার্জী পুরোনো দিনের বাংলা ও হিন্দিতে সংগীত পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় প্রজ্ঞা নিউজ পেপার্স-এর সম্পাদক ও প্রকাশক উত্তম কুমার সাহাকে। বিজেপি নেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বলেন, “উত্তম সাহা প্রবাসে থেকে প্রজ্ঞা পত্রিকার মাধ্যমে সমাজ, সংস্কৃতি ও কমিউনিটির সংবাদ তুলে ধরছেন। আমরা সবাই মিলে তাকে সহযোগিতা করবো।”
এ সময় উত্তম কুমার সাহা উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “প্রজ্ঞা নিউজ সবসময় সত্য, সমাজ ও প্রবাসী কমিউনিটির কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করতে চায়।” তিনি সকলকে ProggaNews.us অনলাইন পত্রিকা পড়া, প্রতিমাসে প্রকাশিত প্রিন্ট সংস্করণ সংগ্রহ করা, Progga News YouTube চ্যানেল দেখার পাশাপাশি Uttomshaha84@gmail.com ও 1-917-302-5051 WhatsApp এ লেখা, বিজ্ঞাপন ও সার্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এ ধরনের সহযোগিতার জন্য বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সবশেষে উপস্থিত অতিথিদের জন্য সুস্বাদু খাবার ও মিষ্টি পরিবেশন করা হয়। রাত ১১টা পর্যন্ত চলা এ অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে আয়োজক ও বিজেপি নেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সনাতনী সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।



















