প্রবাসে বাংলা সংগীতচর্চার নতুন দিগন্ত: নিউইয়র্কে ‘হৃদয়বীণা সংগীতালয়’-এর শুভ উদ্বোধন, আয়েশা খানের উদ্যোগে শিল্প-সংস্কৃতির প্রাণবন্ত মিলনমেলা
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
প্রবাসে বাংলা সংগীত, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ ও প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো ‘আয়েশা খানের হৃদয়বীণা সংগীতালয়’। গত ৩০ মে ২০২৬, শনিবার, জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে এক বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংগীতালয়ের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা, সমন্বয় ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় ছিলেন বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী, সংগঠক ও উপস্থাপক কবির কিরণ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চ্যানেল আই উত্তর আমেরিকার সিইও রাশেদ আহমেদ ফিতা কেটে সংগীতালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লেখক ওবায়দুল্লাহ মামুন, এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজ যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালক ফকরুল আলম , এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি কানু দত্ত, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও কলামিস্ট কল্লোল দাশ, কবি এবিএম সালেহ আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক লাভলু আনসার, নজরুল একাডেমি নিউইয়র্কের প্রেসিডেন্ট শাহ আলম দুলাল, সংগীত পরিচালক ড. সবিতা দাস, লেখক ও নাট্যকার খান শওকত, কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মিনহাজ আহমেদ, আবৃত্তি শিল্পী সুচরিত দত্ত, শহিদুল ইসলাম, রবীন্দ্র একাডেমির সিইও ডক্টর রুমা চৌধুরী, আক্তার হোসেন, প্রজ্ঞা নিউজের সম্পাদক ও প্রকাশক উত্তম কুমার সাহা, আজিজুল হক মুন্নাসহ নিউইয়র্কের সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত শিল্পীরা সম্মিলিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। এ সময় কানায় কানায় পূর্ণ জুইস সেন্টার হলের দর্শক-শ্রোতারা দাঁড়িয়ে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। পুরো হলজুড়ে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন ও গর্বময় পরিবেশ, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক মহামিলনমেলায় রূপ নেয়।
সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন সংগঠনের সিইও ও প্রতিষ্ঠাতা আয়েশা খান, ড. সবিতা দাস, নিউইয়র্ক ও বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী চন্দন চৌধুরী, ফুলু রায় চৌধুরী, রুনা রায়, অরুণা সাহা, মনিকা দাস, রাবিতা, কণিকা দাস, রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ইন্দ্রাণী ভট্টাচার্য, রবীন্দ্র একাডেমির সংগীতশিল্পী ও শিক্ষক শোভিত রায় চৌধুরীসহ স্থানীয় শিল্পীবৃন্দ। শিল্পীরা রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলসংগীত পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আয়েশা খানের একক সংগীত পরিবেশনা। তাঁর কণ্ঠে পরিবেশিত গান দর্শক-শ্রোতাদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায় এবং নতুন এই সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি সবার প্রত্যাশা আরও বৃদ্ধি করে।
অনুষ্ঠানে আবেগঘন এক মুহূর্তের সৃষ্টি হয় যখন আয়েশা খান তাঁর প্রয়াত সৈয়দ আতাহার উদ্দিন পিতাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তাঁর বাবা ছিলেন একজন সংগীতপ্রেমী সংগীতশিল্পী ও বেহালা সংগীত ওস্তাদ যিনি তাঁর জীবনের প্রথম সংগীত শিক্ষক। বাবার অনুপ্রেরণাতেই তাঁর সংগীতযাত্রার সূচনা। তিনি হৃদয়বীণা সংগীতালয়ের এই শুভযাত্রা তাঁর বাবার স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করেন। তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত দর্শক ও শ্রোতারা আবেগাপ্লুত হয়ে করতালির মাধ্যমে সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
নৃত্য পরিবেশন করেন লিয়ানা ও এরিনা। আবৃত্তি পরিবেশন করেন কবির কিরণ। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন তপন মোদক ও মাসুদ রানা। সাউন্ড পরিচালনায় ছিলেন সায়েম।
অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন ড. সবিতা দাস, রাম দাস ঘরামী ও মীনা ইসলাম। সহযোগিতায় ছিল চ্যানেল আই, এটিএন বাংলা, প্রজ্ঞা নিউজ এবং ইউএস বাংলা। অনুষ্ঠান শেষে হৃদয়বীণা সংগীতালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, সিইও ও সংগীত পরিচালক আয়েশা খান উপস্থিত সকল অতিথি, শিল্পী, শুভানুধ্যায়ী, দর্শক ও সহযোগীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
প্রবাসে বাংলা সংগীত ও সংস্কৃতির বিকাশে আয়েশা খানের হৃদয়বীণা সংগীতালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বলে উপস্থিত অতিথিরা অভিমত ব্যক্ত করেন। তাঁদের মতে, নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা গান, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা বিস্তারে এই প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আয়েশা খানের এই সাহসী ও সৃজনশীল উদ্যোগ প্রবাসী সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।



















