বাঙালি জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে তোফায়েল আহমেদকে: নিউইয়র্কে শোকসভায় বক্তারা; জাতীয় বীরের অবদান ইতিহাসে অম্লান থাকবে
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
বাংলাদেশের রাজনীতির বরপুত্র, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতীয় বীর ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে নিউইয়র্কে এক আবেগঘন শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৬ জুন শনিবার সন্ধ্যায় ব্রঙ্কসের এশিয়ান ড্রাইভিং স্কুল মিলনায়তনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্মৃতি সংসদ-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ শোকসভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে তোফায়েল আহমেদের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সংগঠনের সভাপতি রুহেল চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুব্রত তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা, বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, ফোবানার চেয়ারম্যান ও যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও ফোবানার উপদেষ্টা চেয়ারম্যান হাকিকুল ইসলাম খোকন, এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদ নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সভাপতি সাখাওয়াত আলী।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ সোহাগ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ
নিউইয়র্ক স্টেট কমান্ডার মঞ্জুর আহমদ, ডেপুটি কমান্ডার আবু জাফর, মদনমোহন কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট শেখ মখলু মিয়া, যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম জিকু, হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন, ছালেহা ইসলাম, সোহান আহমেদ টুটুল, হেলাল আহমেদ, শেখ শফিকুর রহমান, শেখ জামাল হোসেন, রেজা আব্দুল্লাহ, নুরুল ইসলাম, সাদিকুর রহমান, শ্যামল চন্দ্র চন্দ, হাবিবুর রহমান কামাল, আব্দুল গাফফার চৌধুরী খসরু, কবি সুধাংশু রঞ্জন মণ্ডল, শামীম আহমেদ, শেখ অলি আহাদ, ছাদেকুর রহমান, জহিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় পাতায় তোফায়েল আহমেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং জাতির সংকটময় মুহূর্তে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাঙালি জাতি চিরদিন তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।”
প্রধান বক্তা আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, “জাতীয় নেতা তোফায়েল আহমেদ শুধু একজন রাজনীতিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ও আদর্শের একনিষ্ঠ ধারক। বঙ্গবন্ধুকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করার ঐতিহাসিক ঘোষণার সঙ্গে তাঁর নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তোফায়েল আহমেদ এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়।”
বক্তারা মরহুম তোফায়েল আহমেদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তাঁরা বলেন, “বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন জাতীয় বীর তোফায়েল আহমেদের নাম জাতির হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে। তাঁর আদর্শ, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেম আগামী প্রজন্মকে পথ দেখাবে।”
শোকসভার শেষে মরহুমের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
— প্রেস বিজ্ঞপ্তি



















