কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে ‘লেখকের অঙ্গন’-এর ২৬তম আসর: গ্রন্থালোচনায় প্রাণবন্ত সাহিত্য আড্ডা, নবীন-প্রবীণ লেখকদের মিলনমেলা
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
প্রবাসে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ‘লেখকের অঙ্গন’-এর ২৬তম গ্রন্থালোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৭ জুন ২০২৬, শনিবার নিউইয়র্কের কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে সাহিত্যপ্রেমী, কবি, লেখক ও সংস্কৃতিমনস্ক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত এই সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি শহীদ কাদরীর অনুপ্রেরণাকে ধারণ করে নবীন ও প্রবীণ লেখকদের মধ্যে বইপাঠ ও সাহিত্যচর্চার সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে ‘লেখকের অঙ্গন’-এর পরিচালক নীরা কাদরী দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর উদ্যোগেই নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে এই গ্রন্থালোচনা সভা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মমতাজ বেগম সুমি আলোচনা করেন মোবারক হোসেন খানের গ্রন্থ ‘ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ও তাঁর পত্রাবলি’ নিয়ে। তিনি বলেন, কিংবদন্তি সংগীতগুরু ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর জীবন, দর্শন, মানবিকতা ও শিল্পচিন্তার গুরুত্বপূর্ণ দলিল এই গ্রন্থ। ব্যক্তিগত চিঠিপত্রের মাধ্যমে তাঁর জীবনদর্শনের অনন্য দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে, যা ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
এরপর কবি ও সাবেক ব্যাংকার মোহাম্মদ মহিবুর রহমান আলোচনা করেন তারাপদ রায়ের ‘কাণ্ডজ্ঞান’ গ্রন্থ নিয়ে। তিনি বলেন, রম্যরচনা, ব্যঙ্গ এবং জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার অসাধারণ সমন্বয়ে রচিত এই বইয়ে হাস্যরসের আড়ালে সমাজ ও মানুষের আচরণের গভীর বিশ্লেষণ উঠে এসেছে।
কবি ও লেখক মনিজা রহমান আলোচনা করেন রাহুল সাংকৃত্যায়নের কালজয়ী গ্রন্থ ‘ভলগা থেকে গঙ্গা’ নিয়ে। তিনি বলেন, ইতিহাস, নৃতত্ত্ব ও কল্পনার অপূর্ব সংমিশ্রণে মানবসভ্যতার দীর্ঘ বিবর্তনের এক অনন্য সাহিত্যিক উপস্থাপনা এই গ্রন্থ, যা পাঠককে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে মানবজাতির অগ্রযাত্রাকে ভাবতে শেখায়।
গবেষক ও লেখক ধনঞ্জয় সাহা আলোচনা করেন জার্মান দার্শনিক ফ্রিডরিখ নীটশের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘Thus Spoke Zarathustra’ নিয়ে। আলোচনায় তিনি গ্রন্থটির ‘অতিমানব’ ধারণা, স্বাধীন চিন্তা, নৈতিকতা ও আত্মোন্নয়নের দর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং দর্শনচর্চায় আগ্রহীদের জন্য বইটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।
সবশেষে কবি ও সাহিত্যিক এ বি এম সালেহউদ্দিন আলোচনা করেন আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিনের ‘সূর্যোদয়ের দেশে’ গ্রন্থ নিয়ে। তিনি বলেন, ভ্রমণ, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার সমন্বয়ে রচিত এই গ্রন্থ পাঠককে নতুন দেশ, সমাজ ও সভ্যতা সম্পর্কে জানার আগ্রহ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে আহমেদ মাযহার, শৈবালসহ সাহিত্যপ্রেমী ও সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক নীরা কাদরী কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরির ম্যানেজার শান্তে গেন্সসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও বাংলা সাহিত্যচর্চার এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
সূত্র: প্রেস বিজ্ঞপ্তি।



















