প্রবাসে সম্প্রীতি ও আনন্দের মিলনমেলা—বাংলাদেশী বুড্ডিস্ট কমিউনিটি অব ইউএসএ’র বার্ষিক বনভোজন-২০২৬ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারিবারিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশী বুড্ডিস্ট কমিউনিটি অব ইউএসএ, ইনক.-এর বার্ষিক বনভোজন-২০২৬। গত ৪ জুলাই নিউইয়র্কের মনোরম রেন্ডালস আইল্যান্ডের সবুজ-শ্যামল পরিবেশে আয়োজিত এ বনভোজন প্রবাসী বাংলাদেশি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
নিউইয়র্কজুড়ে চলমান বনভোজন মৌসুমের আবহে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পরিবার-পরিজন, শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী ও প্রবীণদের সরব উপস্থিতিতে রেন্ডালস আইল্যান্ড যেন এক টুকরো বাংলাদেশে রূপ নেয়।
দিনব্যাপী সুস্বাদু খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি নানা ধরনের ক্রীড়া ও বিনোদনমূলক আয়োজন অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। নারী-পুরুষ এবং শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে ক্যারাম, লুডু, বালিশ খেলা, মার্বেল দৌড়, ফুটবলসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
সাংস্কৃতিক পর্বে শিল্পী যুগল মেহজাবিন ও মার্শালের পরিবেশনায় দেশাত্মবোধক ও জনপ্রিয় গানের আসর দর্শকদের মুগ্ধ করে। প্রাণবন্ত সংগীত পরিবেশনা পুরো বনভোজনকে আরও উৎসবমুখর করে তোলে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রাফেল ড্র। বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বনভোজন প্রাঙ্গণ। আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে বিজয়ীরা মূল্যবান পুরস্কার গ্রহণ করেন।
এদিন সন্ধ্যায় ম্যানহাটনের ইস্ট রিভারের আকাশজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণিল আতশবাজির মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী বনভোজনে অংশগ্রহণকারীদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়। রঙিন আলোর ঝলকানিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ, যা উপস্থিত সবার জন্য স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
সফল এই বনভোজন আয়োজনে নিরলস পরিশ্রম, সময় ও সহযোগিতা প্রদান করেন অমল বিকাশ বড়ুয়া, বাবু মং, সুমিত বড়ুয়া, সংগীন বড়ুয়া, সুমন বড়ুয়া, উজ্জ্বল বড়ুয়া, সৌরভ বড়ুয়া, সিদ্ধার্থ বড়ুয়া, প্রসেনজিৎ বড়ুয়া, বিপুল বড়ুয়া, দুলাল সিংহ, খোকন বড়ুয়া, সবুজ বড়ুয়া, এস. কে. বড়ুয়া, প্রণমেশ বড়ুয়া, সুজয় বড়ুয়া এবং শিমুল বড়ুয়া।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের বনভোজন শুধু বিনোদনের উপলক্ষ নয়; বরং প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক উদ্যোগ। অংশগ্রহণকারীরাও ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।



















