Logo

আন্তর্জাতিক    >>   যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের লক্ষ্য করে ইরানের আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনা চরমে

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের লক্ষ্য করে ইরানের আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনা চরমে

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের লক্ষ্য করে ইরানের আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনা চরমে

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনরত যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিনগত রাতে সংঘটিত এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। বিশ্লেষকদের মতে, আকস্মিক এই হামলার মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা আবারও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক ঊর্ধ্বতন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, জর্ডানে অবস্থিত একটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিই ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রধান লক্ষ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্র সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই সফলভাবে প্রতিহত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনরত যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও উচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর আগে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নৈশ বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে ইরানের বিরুদ্ধে। যদিও গত সপ্তাহে উভয় পক্ষ সাময়িকভাবে সরাসরি সামরিক অভিযান স্থগিত রেখেছিল।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন সংঘাত

বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ প্রবাহিত হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর এই জলপথকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতির পরও প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উভয় পক্ষের বিরোধ অব্যাহত ছিল। ইরানের দাবি, তাদের উপকূলসংলগ্ন নির্ধারিত রুট ব্যবহার করে চলাচলকারী জাহাজের ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ ও ফি আদায়ের অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও মিত্ররা ওমান উপকূলঘেঁষা দক্ষিণাঞ্চলীয় নিরাপদ রুট ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখে।

ইরাকে যৌথ বিমান হামলা

উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান ইরাকে অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র মিলিশিয়াদের কয়েকটি অবস্থানে যৌথ বিমান হামলা চালায়। সম্প্রতি সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় সংঘটিত ড্রোন হামলার জন্য এসব গোষ্ঠীকে দায়ী করেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে অভিযুক্ত মিলিশিয়াদের কথিত ড্রোন হামলার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ইরাকের ভূখণ্ডকে কোনো বন্ধুপ্রতীম বা প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

তবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র জোট ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক সৌদি আরবের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং সাম্প্রতিক হামলার পেছনে ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর সম্পৃক্ততার বিষয়টিই বেশি বিশ্বাসযোগ্য। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, অ্যাক্সিওস, জাগোনিউজ।