Logo

আন্তর্জাতিক    >>   আমি মুজিব কন্যা বলছি, ডিসেম্বরেই ফিরব: দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা; ছাত্র আন্দোলন, অন্তর্বর্তী সরকার ও দেশের অর্থনীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা

আমি মুজিব কন্যা বলছি, ডিসেম্বরেই ফিরব: দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা; ছাত্র আন্দোলন, অন্তর্বর্তী সরকার ও দেশের অর্থনীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা

আমি মুজিব কন্যা বলছি, ডিসেম্বরেই ফিরব: দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা; ছাত্র আন্দোলন, অন্তর্বর্তী সরকার ও দেশের অর্থনীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি মুজিব কন্যা বলছি। তারা আমাকে জেলে ভরতে পারে, মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে পারে, এমনকি হত্যাও করতে পারে। কিন্তু আমি বাংলাদেশে ফিরবই। দেশের মানুষের জন্য ফিরব, দেশকে আবার সঠিক পথে আনার জন্য ফিরব। ডিসেম্বরেই ফিরব।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) ভারতের দিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার আয়োজনে এটি ছিল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জনসমক্ষে তাঁর প্রথম সরাসরি বক্তব্য।

শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না; বরং ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে এটি সুপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়েছিল। তিনি বলেন, শুরুতে সরকার শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আলোচনা ও সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছিল, কোটা ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল এবং তিনজন মন্ত্রী আলোচনায় অংশ নেন। কিন্তু পরবর্তীতে আন্দোলনের চরিত্র পরিবর্তিত হয়ে সহিংস রূপ নেয় এবং তাঁর পদত্যাগের দাবিতে তা পরিচালিত হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ১৫ জুলাইয়ের পর আন্দোলন সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা লাভ করে এবং দেশের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। তাঁর ভাষায়, এটি কোনো শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না; বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা ছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে যেমন বাংলাদেশের ইতিহাসে কালো অধ্যায় রচিত হয়েছিল, তেমনি ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহও দেশের গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য গভীর সংকট সৃষ্টি করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁর সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে পড়েছে। শিল্প উৎপাদন কমেছে, ঋণখেলাপির পরিমাণ বেড়েছে, বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে এবং বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার প্রতি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়ে সরকারি ব্যয় পরিচালনা করছে এবং শত শত ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহতদের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার ১৮ জুলাই একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই তদন্ত আর এগোতে দেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর প্রশ্ন, যদি সত্যের ভয় না থাকে, তবে তদন্ত সম্পন্ন হতে দেওয়া হলো না কেন?

নিজের বিরুদ্ধে বিচার ও মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হতেও তিনি প্রস্তুত। তবে তাঁর বক্তব্য, জনগণের কাছে ফিরে যাওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

তিনি ১৯৮১ সালের প্রসঙ্গ স্মরণ করে বলেন, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলেও তাঁকে দেশে ফিরতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফিরে এসেছিলেন। এবারও সব বাধা অতিক্রম করে দেশে ফিরবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মী, সংবাদমাধ্যম ও বিরোধী মতের মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চলছে এবং দেশ ক্রমেই চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাবের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক শাকিব আল হাসান, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক পলাশ, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু ওবায়দাহ আরিন এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইউএসএর পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহ মো. বখতিয়ার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার এই বক্তব্য কেবল তাঁর ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা নয়; বরং বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটেও তা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। সাম্প্রতিক সময়ে তিস্তা ইস্যু, সীমান্ত পরিস্থিতি, চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার এই ভাষণ দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে শেখ হাসিনার বক্তব্যকে ঘিরে দেশ-বিদেশে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর ঘোষিত প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা, চলমান মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগামী মাসগুলোতে নতুন মোড় নিতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।সূত্র: সনজীবন সরকার,সোমনাথ রায়, সংবাদ প্রতিদিন।