ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করতে প্রথমে আপত্তি ছিল সেনাপ্রধান ওয়াকারের, দাবি আসিফ নজরুলের: দুটি কারণ তুলে ধরেছিলেন ওয়াকার; ছাত্রদের অনড় অবস্থানের পর শেষ পর্যন্ত সম্মতি—প্রথম আলোর সাক্ষাৎকারে সাবেক আইন উপদেষ্টার দাবি
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে শুরুতে আপত্তি জানিয়েছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সম্প্রতি প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন দাবি করেছেন।
আসিফ নজরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সকালে সেনা সদর দপ্তরে ডেকে পাঠিয়ে সেনাপ্রধান তাঁর সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেন। তখন তিনি ছাত্রনেতাদের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসই এই দায়িত্বের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।
তবে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান দুটি কারণ দেখিয়ে আপত্তি তোলেন বলে দাবি করেন আসিফ নজরুল। প্রথমত, ইউনূস বাংলাদেশের শ্রম আইনসংক্রান্ত একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। দ্বিতীয়ত, তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপের অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন সেনাপ্রধান।
এর জবাবে আসিফ নজরুল যুক্তি দেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় যে কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রচারের অংশ এবং দেশ-বিদেশে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূসের বিকল্প নেই।
সাক্ষাৎকারে আসিফ আরও জানান, সেনাপ্রধান পরে তৎকালীন বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রধানকে আলোচনায় যুক্ত করেন। তাঁদের মতামত শোনার পর তাঁর মনে হয়েছিল, সেনাপ্রধান আপত্তি থেকে সরে এসেছেন।
তবে একই দিন সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে দাবি করেন তিনি। সেখানে সেনাপ্রধান আন্দোলনকারী ছাত্রনেতাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন, যা প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। বৈঠক শেষে ছাত্রনেতারা এসে জানান, তাঁরা অধ্যাপক ইউনূসের নামেই অনড় থেকেছেন এবং অন্য কোনো প্রস্তাবে সম্মতি দেননি।
আসিফ নজরুলের দাবি, ওই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল অধ্যাপক ইউনূস ছাড়া অন্য কাউকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে বিবেচনা করা। কিন্তু আন্দোলনকারী ছাত্রদের দৃঢ় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত মুহাম্মদ ইউনূসের নামেই ঐকমত্য গড়ে ওঠে।
সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়েও আত্মসমালোচনা করেন আসিফ নজরুল। তিনি স্বীকার করেন, জনতা কর্তৃক আইন হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা (মব), মামলায় ভুয়া আসামি অন্তর্ভুক্তির সংস্কৃতি, বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে হামলা, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়ি রক্ষা এবং হামের টিকা সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রত্যাশিত সাফল্য দেখাতে পারেনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সেই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সূত্র: সন্ধান২৪. , প্রথম আলোকে দেওয়া অধ্যাপক আসিফ নজরুলের সাক্ষাৎকার; আনন্দবাজার পত্রিকা।



















