ভারতের সঙ্গে বিএনপির বর্তমান অবস্থান বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতী: ওবায়দুল কাদের
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক—শফিক বাবু/হাকিকুল ইসলাম খোকন:
প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বিএনপি যে পথে এগোচ্ছে, তা বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতী ও চরম ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গত সোমবার (১৭ আগস্ট ২০২৬) বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী সাংবাদিক, কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের সংগঠন স্মরণে ৭১, হৃদয়ে বাংলাদেশ আয়োজিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রতিবেশী দেশকে উপেক্ষা করে তারেক রহমান ইতোমধ্যে দুই দেশ সফর করেছেন। চিকেন নেকের পাশে চীনকে করিডর দেওয়ার বিষয়সহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ভারতের সঙ্গে এমন একটি অনড় অবস্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা দেশের জন্য চরম ক্ষতিকর।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইউনূস সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমানে অত্যাচার-নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়েছে। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এই তিন দলের হেডকোয়ার্টার পাকিস্তানে।
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ইউনূস জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের যে দরজা খুলে দিয়েছেন, সেটি এখনো খোলা রয়েছে। প্রতিনিয়ত মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, বিএনপি গত ১৭ বছর জামায়াতকে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দুই দেশের সুসম্পর্কে ভারতেরও স্বার্থ রয়েছে। কারণ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক খারাপ হলে ভারতের জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশে ঘাঁটি গড়ে তুলতে পারে, যা ভারতের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
তারেক রহমানের ভারত সফর এবং শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ভারতের কোনো দ্বিচারিতা নেই। আবেগের বশে ভারতবিরোধী স্লোগান দিয়ে বাংলাদেশ কতটা ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, তা অতীতেও দেখা গেছে। এ ধরনের অবস্থান কখনো দেশের জন্য শুভ হতে পারে না।
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, নেত্রী দেশে ফেরার ঘোষণা শুধু বলার জন্য দেননি। তিনি দেশকে বাঁচাতে, দেশের জনগণকে বাঁচাতে এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে রক্ষা করতে দেশে ফিরবেন। শেখ হাসিনা যা বলেছেন, তা তিনি করবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কথা শুনে ক্ষমতাসীনরা ও ইউনূসের অনুসারীরা ভয়ে কাঁপছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, জঙ্গিবাদের উত্থানের সময় দেশের তরুণ প্রজন্ম প্রতারিত হয়েছিল। তবে এখন তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছে। প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, তরুণ সমাজকে দেশের কাজে সম্পৃক্ত করে দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ভেঙে ফেলা, অগ্নিসংযোগ এবং বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার পেছনে ইউনূস ও তারেক রহমানের হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি ইউনূসকে জঙ্গি উত্থানের নায়ক হিসেবেও আখ্যায়িত করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ ভারতের সঙ্গে কোনো গোলামির চুক্তি করেনি। তবে ইউনূস সরকারের বিদায়ের তিন দিন আগে তড়িঘড়ি করে যে চুক্তি করা হয়েছে, সেটিই গোলামির চুক্তি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, ওই চুক্তির কারণে বাংলাদেশের মানুষের মাথায় হাত পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান অহেতুক ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে মুখোমুখি অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছেন।
শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সুসম্পর্ক—এই দুটি বিষয়ে সবসময় পরিষ্কার অবস্থানে ছিলেন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আধুনিক সেনাবাহিনী হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তাঁর সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ, সীমান্ত চুক্তি এবং ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও শেখ হাসিনার কাছে তাঁর অনেক ঋণ রয়েছে। এখন সেই ঋণ শোধ করাই তাঁর দায়িত্ব। শারীরিক কারণে রাজনীতিতে আগের মতো সক্রিয় হতে না পারলেও যতটুকু সম্ভব তিনি কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান।
ইউনূস সরকারের সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ৪৫০টির বেশি মামলা করা হয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন করেন, কাকে কখন হত্যা করেছেন বা কাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন—তা তাঁর জানা নেই। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে যেন দেশে তাঁর মতো কোনো রাজনৈতিক নেতার সৃষ্টি না হয়, সে কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়েছে।
আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এদেশে রাজনীতি করে তাঁর অপরাধ কী? কেউ কি বলতে পারবেন, রাজনীতি অথবা মন্ত্রী হয়ে তিনি কমিশন নিয়েছেন কিংবা ঘুষ খেয়েছেন? রাজনীতি তাঁদের কাছে ব্যবসা নয়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে স্কুলজীবন থেকেই রাজনীতির প্রতি তাঁর তীব্র আকর্ষণ তৈরি হয় এবং সেই আকর্ষণেই তিনি রাজনীতিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি, দুর্নীতি করেননি, বিদেশে বাড়ি করেননি। অথচ শুধু আওয়ামী লীগ করার কারণে তাঁদের খুনি, লুটেরা ও দুর্নীতিবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনাকে ঘিরেই আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, নেত্রীই তাঁদের নেতা এবং তাঁর নেতৃত্বেই তাঁরা এগিয়ে যাবেন। তাঁকে ঘিরেই নতুন স্বপ্নের মালা গাঁথা হচ্ছে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে তিনি সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।
সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংবাদিক সাজেদা পারভীন সাজুর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব, সাংবাদিক ও নাট্যব্যক্তিত্ব শফিক বাবুর সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক, সাবেক কূটনীতিক ও লেখক আমিনুল হক পলাশ, বাংলা নিউজ নেটওয়ার্কের সম্পাদক সুলতানা রহমান, বাঙালি সংস্কৃতি মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভূঁইয়া, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদ উল্ল্যা খান সোহেল, বিশিষ্ট নিউরোসার্জন অধ্যাপক ডা. শাহনেওয়াজ বারী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকন, সংগঠনের আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট মানিক লাল ঘোষসহ দেশ-বিদেশের সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা।



















