Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’: যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় কঠিন সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’: যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় কঠিন সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’: যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় কঠিন সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:

পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ঠেকানো এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত এ অভিযান দীর্ঘায়িত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এটিকে জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দীর্ঘ সংঘাতে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের ব্যাপ্তি ও প্রভাবকে তুলনামূলকভাবে সীমিত হিসেবে তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

ইরানভিত্তিক মেহের নিউজ এজেন্সি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে ‘ছোট গোল আলুর জন্য বড় বিল দিচ্ছেন ট্রাম্প’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যয় নিয়ে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। তবে তেহরানের রাষ্ট্রীয় ও সরকারঘনিষ্ঠ প্রচারণার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো—ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় সামরিক চাপ প্রয়োগ প্রয়োজনীয় ছিল।

যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল সামরিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত দাবিগুলো মেনে নিতে বাধ্য করা। ইরান প্রতিরোধ অব্যাহত রাখায় সংঘাত দীর্ঘায়িত হলেও এতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ও মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ওয়াশিংটনের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।

সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হরমুজ প্রণালি। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও পরিবহন ব্যয় বাড়াতে পারে। ফলে ইরানের ওপর চাপ বজায় রেখে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।

দীর্ঘ সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ, সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা মোতায়েনে ব্যয় বাড়লেও ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের কাছে জাতীয় নিরাপত্তার মূল্যকে অর্থনৈতিক ব্যয়ের সঙ্গে সরলভাবে তুলনা করা হচ্ছে না। বরং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ও আঞ্চলিক সামরিক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর চাপ বজায় রাখাকেই দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ তৈরির দাবি করেছে ইরানপন্থী বিভিন্ন মহল। তবে এ ধরনের রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেও  ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা, মিত্রদের সুরক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিপক্ষের প্রভাব মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান অব্যাহত রেখেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যে কঠোর নীতি নিয়েছে, তার প্রভাব শুধু বর্তমান সংঘাতেই নয়, ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোতেও পড়তে পারে। সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি, জাগোনিউজ