জাতিসংঘের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল-সমর্থিত একটি তথ্য অনুসন্ধানী মিশনের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউজ। মিশনটি ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে চালানো দুটি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হওয়ার ‘যুক্তিসংগত কারণ’ রয়েছে বলে জানিয়েছে।
জাতিসংঘের Independent International Fact-Finding Mission on Iran বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, মিনাবের একটি স্কুল এবং লামার্দের একটি ক্রীড়া স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় চালানো দুটি হামলায় অন্তত ১৭৮ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। মিশনটির দাবি, এসব হামলা বেসামরিক স্থাপনা ও মানুষের ওপর নির্বিচার হামলার পর্যায়ে পড়ে।
প্রতিবেদনে দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের Shajareh Tayyebeh Primary School-এ হামলার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ১৬৮ জন নিহত হন, যাদের বেশির ভাগই শিশু। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, স্কুল ভবনটিই হামলার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত লক্ষ্য ছিল এবং এটিকে অন্য কোনো সামরিক স্থাপনায় হামলার অনিচ্ছাকৃত ক্ষতি হিসেবে ব্যাখ্যা করার মতো তথ্য তারা পাননি।
মিশনের মতে, ওই হামলাসহ দুটি ঘটনায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও বেসামরিক স্থাপনার ক্ষতির বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। তবে জাতিসংঘের এই তথ্য অনুসন্ধানী মিশন কোনো আদালত নয় এবং তারা নিজেরা ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে পারে না। তাদের প্রতিবেদন ভবিষ্যতে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আদালতের আইনি প্রক্রিয়ায় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র আনা কেলি (Anna Kelly) জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সংস্থাটি কয়েক দশক ধরে মানবাধিকার বিষয়ে কার্যকর কিছু করতে পারেনি এবং ‘অগুরুত্বপূর্ণ কথাবার্তা’ বলেছে। কেলির দাবি, চলমান সংঘাতে যুদ্ধাপরাধ করেছে একমাত্র ইরানি সরকার।
এদিকে, স্কুলে হামলার ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসন এখনো সরাসরি দায় স্বীকার করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরও জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে তাদের তদন্ত এখনো চলছে এবং এ মুহূর্তে নতুন কোনো তথ্য প্রকাশের মতো নেই।
জাতিসংঘের মিশন একই প্রতিবেদনে ইরানের অভ্যন্তরে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় ইরানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তুলেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও ইরানের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি—দুই দিকের অভিযোগই প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, জিও নিউজ, জাগোনিউজ



















