Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে আয়ের কঠোর শর্ত, দুই সদস্যের পরিবারে বছরে ২৭,০৫০ ডলার: পরিবারের সদস্য বাড়লে বাড়বে আয়ের বাধ্যবাধকতা, আয় কম হলে রয়েছে যৌথ স্পনসর ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ; ফরম আই-৮৬৪-এ স্বাক্ষর মানেই আইনগত আর্থিক দায়বদ্ধতা

গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে আয়ের কঠোর শর্ত, দুই সদস্যের পরিবারে বছরে ২৭,০৫০ ডলার: পরিবারের সদস্য বাড়লে বাড়বে আয়ের বাধ্যবাধকতা, আয় কম হলে রয়েছে যৌথ স্পনসর ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ; ফরম আই-৮৬৪-এ স্বাক্ষর মানেই আইনগত আর্থিক দায়বদ্ধতা

গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে আয়ের কঠোর শর্ত, দুই সদস্যের পরিবারে বছরে ২৭,০৫০ ডলার: পরিবারের সদস্য বাড়লে বাড়বে আয়ের বাধ্যবাধকতা, আয় কম হলে রয়েছে যৌথ স্পনসর ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ; ফরম আই-৮৬৪-এ স্বাক্ষর মানেই আইনগত আর্থিক দায়বদ্ধতা

উত্তম কুমার সাহা | প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক : 
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের মাধ্যমে স্বজনদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দিতে চাইলে স্পনসরকে শুধু আবেদন করলেই চলবে না, প্রমাণ করতে হবে তাঁর আর্থিক সক্ষমতাও। পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী নির্ধারিত ন্যূনতম আয় পূরণ, কর-সংক্রান্ত নথি দাখিল এবং আর্থিক সহায়তার আইনগত অঙ্গীকার—সবই গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য আবেদন করার আগে আয়ের সীমা, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং স্পনসরের দায়বদ্ধতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, অধিকাংশ পরিবারভিত্তিক অভিবাসন স্পনসরকে ফরম আই-৮৬৪ (Affidavit of Support) দাখিল করতে হয়। এর মাধ্যমে স্পনসর ঘোষণা করেন যে, তিনি নির্দিষ্ট আইনগত শর্তে স্পনসর করা অভিবাসীর আর্থিক সহায়তার দায়িত্ব গ্রহণ করছেন।

৪৮টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে সাধারণত প্রযোজ্য ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১২৫ শতাংশ হিসাবে দুই সদস্যের পরিবারের জন্য বার্ষিক ন্যূনতম আয়ের সীমা ২৭,০৫০ ডলার। তিন সদস্যের পরিবারের জন্য ৩৪,১৫০ ডলার এবং চার সদস্যের পরিবারের জন্য ৪১,২৫০ ডলার। পাঁচ সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে তা ৪৮,৩৫০ ডলার। পরিবারের সদস্যসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। আলাস্কা ও হাওয়াইয়ের ক্ষেত্রে পৃথক আয়ের সীমা প্রযোজ্য।

তবে আবেদনকারীদের মনে রাখতে হবে, পরিবারের সদস্যসংখ্যা গণনার সময় শুধু স্পনসর ও যাঁকে স্পনসর করা হচ্ছে, তাঁদের দুজনকে হিসাব করলেই হবে না। প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী স্পনসরের স্বামী বা স্ত্রী, নির্ভরশীল সন্তান, কর নথিতে উল্লেখিত নির্ভরশীল ব্যক্তি এবং আগের আর্থিক অঙ্গীকারের আওতায় থাকা নির্দিষ্ট অভিবাসীদেরও হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হতে পারে। ফলে পরিবারের প্রকৃত আকার নির্ধারণে ভুল হলে প্রয়োজনীয় আয়ের হিসাবেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

স্পনসরের আয় নির্ধারিত সীমার নিচে থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে যৌথ স্পনসর নেওয়া যেতে পারে। একই পরিবারের কোনো সদস্যের আয় যুক্ত করার সুযোগও রয়েছে। এ ছাড়া যোগ্য ক্ষেত্রে ব্যাংকে জমা অর্থ, বিনিয়োগ বা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য সম্পদ দিয়ে আয়ের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। তবে এসব বিকল্প ব্যবহারের ক্ষেত্রে পৃথক যোগ্যতা ও প্রমাণপত্রের শর্ত রয়েছে। যৌথ স্পনসর থাকলেও মূল পিটিশনারের নিজের আর্থিক অঙ্গীকারপত্র দাখিলের বাধ্যবাধকতা সাধারণত বহাল থাকে।

ফরম আই-৮৬৪-এ স্বাক্ষর করাকে নিছক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি আইনগতভাবে কার্যকর আর্থিক অঙ্গীকার। সাধারণত স্পনসর করা অভিবাসী মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করা অথবা সামাজিক নিরাপত্তা আইনের অধীনে ৪০টি যোগ্য কর্ম-ত্রৈমাসিক অর্জন করার মতো নির্ধারিত ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত এই দায়বদ্ধতা বহাল থাকতে পারে। শুধু বিবাহবিচ্ছেদ বা পারিবারিক সম্পর্কের অবসান ঘটলেই স্পনসরের দায়িত্ব শেষ হয় না। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অভিবাসীর কিছু সরকারি সুবিধার ব্যয় স্পনসরের কাছ থেকে ফেরত চাওয়ার বিধানও রয়েছে।

স্পনসরকে সাধারণত কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক অথবা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হতে হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর স্থায়ী বসবাসের ঠিকানা থাকতে হয়। আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণের জন্য কর-সংক্রান্ত নথি, আয়ের বিবরণ, চাকরি ও বেতনের তথ্য এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পদের কাগজপত্র দাখিল করতে হতে পারে।

নিউইয়র্কের বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু আয়ের শর্ত পূরণ করলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারী কোন শ্রেণির আত্মীয়, স্পনসর মার্কিন নাগরিক নাকি বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা এবং সংশ্লিষ্ট অভিবাসন শ্রেণিতে ভিসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও বিবেচ্য।

তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী আয়ের সীমা ও প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা উচিত। সরকারি তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: www.uscis.gov/i-864 এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের travel.state.gov ওয়েবসাইট। জটিল আর্থিক বা অভিবাসন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

সতর্কতা: এখানে উল্লেখিত আয়ের অঙ্ক নির্দিষ্ট দারিদ্র্যসীমার হিসাবের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট বছরের সর্বশেষ সরকারি নির্দেশিকা ও প্রযোজ্য ফরমের সঙ্গে অঙ্কগুলো মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।