Logo

আন্তর্জাতিক    >>   ডাকসু সংগ্রহশালায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছবি উপেক্ষার অভিযোগ, জিন্নাহ-মালেকের ছবি প্রদর্শনে ক্ষুব্ধ গণমুক্তি পার্টি: ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যথাযথভাবে উপস্থাপনের দাবি এম এ আলীম সরকারের

ডাকসু সংগ্রহশালায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছবি উপেক্ষার অভিযোগ, জিন্নাহ-মালেকের ছবি প্রদর্শনে ক্ষুব্ধ গণমুক্তি পার্টি: ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যথাযথভাবে উপস্থাপনের দাবি এম এ আলীম সরকারের

ডাকসু সংগ্রহশালায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছবি উপেক্ষার অভিযোগ, জিন্নাহ-মালেকের ছবি প্রদর্শনে ক্ষুব্ধ গণমুক্তি পার্টি: ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যথাযথভাবে উপস্থাপনের দাবি এম এ আলীম সরকারের

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রতিফলন ঘটানো ছবি যথাযথভাবে প্রদর্শন না করে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও তৎকালীন ছাত্রনেতা আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি (বিজিপি)। দলটির সভাপতি এম এ আলীম সরকার বলেছেন, বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, যথাযথ তথ্য ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। বিবৃতিতে ডাকসু সংগ্রহশালার প্রদর্শনী পুনর্মূল্যায়ন করে বাংলাদেশের দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসু কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এম এ আলীম সরকার বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালা কেবল ছবি ও ঐতিহাসিক নিদর্শন প্রদর্শনের স্থান নয়, এটি জাতির রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের স্মৃতি সংরক্ষণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ফলে সেখানে ঐতিহাসিক ব্যক্তি, ঘটনা ও আন্দোলন উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সময়ের বাস্তবতা এবং প্রামাণ্য ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরা অপরিহার্য।

তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন, আত্মত্যাগ ও প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাই স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর ভূমিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রামাণ্য দলিল, ঐতিহাসিক আলোকচিত্র ও নিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং প্রদর্শন করা ইতিহাসচর্চার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিবৃতিতে এম এ আলীম সরকার আরও বলেন, ঐতিহাসিক সংগ্রহশালায় কোনো ব্যক্তির ছবি প্রদর্শন করা নিজে থেকেই আপত্তিকর নয়। তবে সেই ছবি কোন সময়ের, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক অবস্থানে ছিলেন এবং বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে তাঁর ভূমিকার সম্পর্ক কী—এসব বিষয় স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। অন্যথায় দর্শনার্থীদের কাছে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ও ঘটনাবলির প্রকৃত তাৎপর্য অস্পষ্ট হয়ে পড়তে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, ডাকসু সংগ্রহশালায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভূমিকার যথাযথ প্রতিফলন না থাকা এবং জিন্নাহ ও আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ বিষয়ে আবেগনির্ভর বিতর্কের পরিবর্তে প্রামাণ্য দলিল, ঐতিহাসিক তথ্য ও গবেষণার ভিত্তিতে প্রদর্শনীর যথার্থতা পর্যালোচনা করা দরকার বলে তিনি মত দেন।

ডাকসু কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টির সভাপতি বলেন, সংগ্রহশালার প্রদর্শনী পুনর্মূল্যায়নের জন্য ইতিহাসবিদ, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যথাযথ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দের প্রতিফলন হওয়া উচিত নয়। বরং এটি বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস সংরক্ষণের একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠুক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরতে ঐতিহাসিক দলিল ও আলোকচিত্র সংরক্ষণে সর্বোচ্চ পেশাগত সততা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসু কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যাশা জানানো হয়।

বার্তা প্রেরক:
লেখক অমূল্য কুমার বৈদ্য
সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি (বিজিপি)