Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   নিউইয়র্কে দুর্গোৎসবে ভক্তদের ঢল, সপ্তমীর আরাধনায় সম্প্রীতির মহামিলন; বাংলাদেশে সনাতনীদের নিরাপত্তা ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি কামনায় প্রার্থনা

নিউইয়র্কে দুর্গোৎসবে ভক্তদের ঢল, সপ্তমীর আরাধনায় সম্প্রীতির মহামিলন; বাংলাদেশে সনাতনীদের নিরাপত্তা ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি কামনায় প্রার্থনা

নিউইয়র্কে দুর্গোৎসবে ভক্তদের ঢল, সপ্তমীর আরাধনায় সম্প্রীতির মহামিলন; বাংলাদেশে সনাতনীদের নিরাপত্তা ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি কামনায় প্রার্থনা

নিউইয়র্কে দুর্গোৎসবে ভক্তদের ঢল, সপ্তমীর আরাধনায় সম্প্রীতির মহামিলন; বাংলাদেশে সনাতনীদের নিরাপত্তা ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি কামনায় প্রার্থনা

উত্তম কুমার সাহা , প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :

নিউইয়র্ক, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬। প্রবাসের মাটিতে শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রোচ্চারণ, পূজা-অর্চনা ও ভক্তদের প্রার্থনায় শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে নিউইয়র্কের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপ। মা দুর্গার সপ্তমী পূজাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ভক্তি, বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য এবং প্রবাসী সনাতনীদের মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে এবারের শারদীয় উৎসব। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ৪০টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, নানা ধরনের সাজসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আনন্দের পাশাপাশি বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি কামনায় প্রার্থনার বিষয়টিও স্থান পাচ্ছে বিভিন্ন আয়োজনে। ধর্মীয় উৎসবের আনন্দের সঙ্গে ঐতিহ্য, মানবিকতা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন প্রবাসীরা।

নিউইয়র্কের এলমহার্স্ট, জ্যাকসন হাইটস, উডসাইড, জ‍্যামাইকা, ব্রুকলিন, গ্লেন ওকস, লং আইল্যান্ড ও আলবানিসহ বিভিন্ন এলাকায় দুর্গাপূজার আয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। স্থানভেদে পূজার সময়সূচি ও কর্মসূচিতে ভিন্নতা থাকলেও সব আয়োজনের কেন্দ্রে রয়েছে মা দুর্গার আরাধনা, ভক্তদের প্রার্থনা এবং শারদীয় উৎসবের আনন্দ। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে পরিবার-পরিজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে মিলিত হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রবাসী বাঙালিরা নিজেদের ধর্মীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ পাচ্ছেন।

এবারের দুর্গোৎসবে অংশ নিচ্ছে নিউইয়র্ক ও আশপাশের এলাকার বহু পরিচিত ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু মন্দির (এলমহার্স্ট), বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ নিউইয়র্ক ইনক. (কুইন্স প্যালেস), ইস্ট কোস্ট কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন (গুজরাটি সমাজ হল, নিউইয়র্ক), বাংলাদেশ বেদান্ত সোসাইটি নিউইয়র্ক ইনক. (গোল্ডেন ইয়ার্স পার্টি হল), আলবানি সার্বজনীন দুর্গাপূজা (আলবানি সনাতনী মন্দির), বাংলাদেশ হিন্দু কমিউনিটি (আলবানি), হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ আন্তর্জাতিক মতুয়া মিশন ইউএসএ (শ্রীশ্রী হরি মন্দির), জ্যাকসন হাইটস পূজা ফাউন্ডেশন (সত্যনারায়ণ মন্দির), মহামায়া মন্দির (জামাইকা), ওম শক্তি টেম্পল (উডসাইড), রাধাকৃষ্ণ ভক্তিজ্যোতি অব ইউএসএ (ভেস্টাল), শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘ ইউএসএ (শ্রীকৃষ্ণ মন্দির), সর্বজনীন পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ইউএসএ ইনক. (গীতামন্দির , উডসাইডস ), শ্রীশ্রী গৌর-নিতাই মন্দির (ব্রুকলিন), শ্রীশ্রী রাধামাধব মন্দির (ব্রুকলিন), সনাতন সেবাশ্রম ফাউন্ডেশন ইনক. (মহাকালী মন্দির), উত্তর আমেরিকা হিন্দু কল্যাণ সংঘ (বাবা বালকনাথ মন্দির), জ‍্যামাইকা কালী মন্দির (জ‍্যামাইকা), সাহা বাড়ির দুর্গাপূজা (উডসাইড), বাংলাদেশ সেবা সংঘ নিউইয়র্ক (আল-আকসা পার্টি হল), দেবালয় মন্দির ( 260-01 HILLSIDE AVE, GLEN OAKS, NY 11004 ), বেঙ্গলি ক্লাব ইউএসএ (ডাইভার্সিটি প্লাজা দুর্গাপূজা), টাইমস স্কয়ার দুর্গোৎসব অ্যাসোসিয়েশন (ফাদার ডাফি স্কয়ার), হিন্দু মিলন মেলা নিউইয়র্ক ইনক. (উডসাইড), বেঙ্গলি ক্লাব ইউএসএ (টাইমস স্কয়ার), বাংলাদেশ পূজা সমিতি অব নিউইয়র্ক ইনক. (গুজরাটি সমাজ হল, নিউইয়র্ক), রাধাকৃষ্ণ সেবক সংঘ ইউএসএ ইনক. (সেন্ট হেলেনা ক্যাথলিক চার্চ), সনাতনী সংঘ লং আইল্যান্ড নিউইয়র্ক (রনকনকোমা) এবং সর্বজনীন হিন্দু পরিষদ লং আইল্যান্ড (আমেরিকান লিজিয়ন পোস্ট ১৫৫)।

বিভিন্ন পূজামণ্ডপে পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি, আরতি ও প্রসাদ বিতরণের পাশাপাশি ধর্মীয় সংগীত, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং সামাজিক মিলনমেলার আয়োজন রাখা হয়েছে। পূজার সাজসজ্জা, প্রতিমার সামনে ভক্তদের প্রার্থনা এবং একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ছে কমিউনিটির মধ্যে। শিশু-কিশোর, তরুণ ও প্রবীণদের অংশগ্রহণে এসব আয়োজন প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরতেও ভূমিকা রাখছে।

দুর্গাপূজার ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি প্রবাসে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে পূজামণ্ডপগুলোতে মানুষ একত্রিত হচ্ছেন, পরিচিতজনদের সঙ্গে মিলিত হচ্ছেন এবং নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন করে সংযোগ স্থাপন করছেন। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে এই উৎসব পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যদের একত্র হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

এবারের দুর্গোৎসবে ধর্মীয় আনন্দের পাশাপাশি বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিয়েও প্রবাসীদের উদ্বেগ ও প্রত্যাশা উঠে আসছে। সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পূজার অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য প্রার্থনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি কামনায় প্রার্থনার বিষয়টিও কিছু আয়োজনে গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রবাসী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে। ধর্মীয় উৎসবের এই সময়ে শান্তি, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান তাঁরা। মা দুর্গার কাছে অশুভ শক্তির বিনাশ, মানুষের কল্যাণ, বিশ্বশান্তি এবং সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা করছেন ভক্তরা।

নিউইয়র্কের দুর্গোৎসব প্রবাসে বাঙালির শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ অটুট রাখারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। হাজার মাইল দূরে থেকেও পূজা-অর্চনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, পারিবারিক মিলন ও সামাজিক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রবাসীরা নিজেদের ঐতিহ্যকে ধারণ করছেন। ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি মানবিকতা, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার যে বার্তা দুর্গোৎসব বহন করে, তা প্রবাসী সমাজেও নতুন করে তুলে ধরছে এই আয়োজন।
এছাড়া আয়োজকরা প্রজ্ঞা নিউজকে জানান , একই ভাবে আগামীকাল শুরু হবে দূর্গা মায়ের অষ্টমী পূজা ।

সব মিলিয়ে, নিউইয়র্কের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব হয়ে উঠেছে ধর্মীয় ভক্তি, বাঙালির ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও সামাজিক সম্প্রীতির সম্মিলিত প্রকাশ। মা দুর্গার সপ্তমী পূজাকে ঘিরে এই উৎসব প্রবাসী বাঙালির মনে জাগিয়ে তুলছে শিকড়ের টান, মিলনের আনন্দ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রত্যাশা।