Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   কোন বিতর্কে ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার কথা ভাবছিলেন জাকারবার্গ? কি নিয়ে বিশেষ চুক্তি মেটার?

কোন বিতর্কে ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার কথা ভাবছিলেন জাকারবার্গ? কি নিয়ে  বিশেষ চুক্তি মেটার?

কোন বিতর্কে ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার কথা ভাবছিলেন জাকারবার্গ? কি নিয়ে বিশেষ চুক্তি মেটার?

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ধনীদের সম্পদের ওপর এককালীন ৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য করের বোঝা এড়াতে অঙ্গরাজ্যটি ছেড়ে যাওয়ার কথা বিবেচনা করেছিলেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) মার্ক জাকারবার্গ। তবে তাকে ক্যালিফোর্নিয়ায় ধরে রাখতে বিশেষ শেয়ার চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা (Meta)।

গত বুধবার (২১ অক্টোবর) মেটা জানায়, প্রস্তাবিত সম্পদ কর কার্যকর হলে জাকারবার্গকে কয়েক শ কোটি ডলার কর দিতে হতে পারে। এ সম্ভাব্য দায় সামাল দিতে তাকে ভোটাধিকারহীন শেয়ার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিনিময়ে আগামী আট বছর ক্যালিফোর্নিয়ায় অথবা মেটার সদর দপ্তর যে অঙ্গরাজ্যে থাকবে, সেখানে বসবাসের অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

ফোর্বসের তালিকা অনুযায়ী, জাকারবার্গ বিশ্বের ষষ্ঠ ধনী ব্যক্তি। তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৯ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত কর কার্যকর হলে তার সম্পদের ওপর বড় অঙ্কের করের দায় তৈরি হতে পারে।

প্রস্তাবটি ‘প্রপোজিশন ৪০’ নামে পরিচিত। এর আওতায় ক্যালিফোর্নিয়ার ধনীদের সম্পদের ওপর এককালীন ৫ শতাংশ কর আরোপের কথা বলা হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত অনুমোদন পাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অঙ্গরাজ্যটিতে প্রায় ২৫০ জন ধনকুবেরের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ২ লাখ কোটি ডলারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভোটাধিকার ছাড়াই শেয়ার, নিয়ন্ত্রণ থাকবে জাকারবার্গের হাতে

চুক্তি অনুযায়ী, মেটা জাকারবার্গকে এমন শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যেগুলোর মালিকানা থাকলেও কোম্পানির সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি অতিরিক্ত ভোটাধিকার পাবেন না। এসব শেয়ারের ২০ শতাংশ বিক্রি করতে পারবেন তিনি। এর মাধ্যমে তার মোট অর্থনৈতিক মালিকানার ১০ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়া সম্ভব হবে।

শেয়ার বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে সম্ভাব্য সম্পদ কর পরিশোধ করতে পারবেন জাকারবার্গ। একই সঙ্গে ভোটাধিকার থাকা শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই থাকবে। ফলে কর পরিশোধের জন্য শেয়ার বিক্রি করলেও মেটার ওপর তার কর্তৃত্ব অক্ষুণ্ন রাখার সুযোগ থাকবে।

এদিকে, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে নতুন ধরনের ভোটাধিকারহীন ‘ক্লাস সি’ সাধারণ শেয়ার ইস্যু করার পরিকল্পনা করেছে মেটা। প্রতি দুটি বিদ্যমান শেয়ারের বিপরীতে একটি শেয়ার দেওয়ার এ পরিকল্পনার লক্ষ্য কৌশলগত অধিগ্রহণে অর্থ জোগানো, দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখা এবং কোম্পানিতে জাকারবার্গের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা

কোম্পানির নথিতে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে আগামী কয়েক বছরে কয়েক শ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করতে হবে মেটাকে। এ তহবিল সংগ্রহের কার্যক্রম ২০২৬ সালের শরৎকালেই শুরু হতে পারে।

মেটার পরিচালনা পর্ষদের একটি বিশেষ কমিটির মতে, জাকারবার্গের নেতৃত্ব বজায় রাখা এবং ক্যালিফোর্নিয়া থেকে কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনা করা গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতিতে প্রযুক্তি খাতে নজিরবিহীন প্রতিযোগিতা ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হওয়ায় তার নেতৃত্ব ধরে রাখার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত সম্পদ করকে ঘিরে জাকারবার্গের সম্ভাব্য স্থানান্তরের বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত করের প্রশ্ন নয়; এটি মেটার নেতৃত্ব, মালিকানা কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছে। তবে সম্পদ করের প্রস্তাব এখনো চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়নি। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, জাগোনিউজ