নিউইয়র্কে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপনে আবেগঘন সাংস্কৃতিক উৎসব: ড. রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, স্বপ্নীল সজীব, দুই বাংলার শিল্পীবৃন্দ এবং আবৃত্তিকার গোপন সাহা ও শুক্লা রায় (চুমকি)-এর অনবদ্য পরিবেশনা
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
নিউইয়র্কের উডসাইডে এক ব্যতিক্রমধর্মী ও ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় উদযাপিত হলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৪তম জন্মবার্ষিকী। ২৫ বৈশাখ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৮ মে ২০২৫ তারিখে কুইন্স প্যালেস (৩৭-১১ ৫৭ স্ট্রিট, উডসাইড) প্রাঙ্গণটি রূপ নেয় এক অনন্য বাংলা সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্রে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান, কবিতা ও দর্শনের মাধুর্যে মুখরিত হয় এই দিনটি, যেখানে দুই বাংলার খ্যাতনামা শিল্পী, আবৃত্তিকার ও সংস্কৃতি-প্রেমী প্রবাসী বাঙালিরা মিলিত হন এক গভীর শ্রদ্ধার আবেশে।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন কিংবদন্তি রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ড. রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। তার কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীতের প্রতিটি উচ্চারণ যেন শ্রোতাদের হৃদয় গভীর থেকে আলোড়িত করে তোলে। তার সঙ্গে ছিলেন জনপ্রিয় শিল্পী স্বপ্নীল সজীব এবং দুই বাংলার আরও বহু স্বনামধন্য শিল্পীবৃন্দ।
বিশেষ আবৃত্তি পরিবেশন করেন প্রবাসে পরিচিত মুখ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোপন সাহা এবং আবৃত্তিশিল্পী শুক্লা রায় (চুমকি)। তাদের কণ্ঠে কবিগুরুর কবিতা যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে—মুহূর্তে মুহূর্তে দর্শকদের চোখে জল এনে দেয়, প্রাণে বইয়ে দেয় কাব্যের ঢেউ।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনার অংশ হিসেবে গান, নৃত্য, দলীয় সংগীত ও আবৃত্তিতে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, প্রকৃতি সংগঠন, রেশমি মির্জা সহ অসংখ্য নিবেদিতপ্রাণ শিল্পী। কবিগুরুর সৃষ্টির নানা দিককে নান্দনিকভাবে মঞ্চস্থ করে তারা।
অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন সমাজসেবক ও সংস্কৃতি অনুরাগী নুরুল আমিন বাবু, যিনি ড. বন্যাকে উত্তরীয় পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং এক হৃদয়গ্রাহী বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথ শুধু একজন কবি নন, তিনি আমাদের আত্মিক পরিচয়ের প্রেরণা। প্রবাসে তাঁর গান, কবিতা আর চিন্তা-দর্শনকে ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য।”
উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা প্রদীপ কর, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, প্রবাসের সাংস্কৃতিক সংগঠক গোপাল স্যানালসহ বিশিষ্টজনেরা।
অনুষ্ঠানটি পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব দেন রাশেদ আহমেদ, আয়োজক ছিলেন আবদুল হামিদ, স্বীকৃতি বড়ুয়া, গোপাল স্যানাল ও পিনাকী তালুকদার। সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ ক্লাব ইউ.এস.এ, এবং অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেন এম. উদ্দিন আলমগীর, শিবলী সাদেক, সুমন মাহমুদ, আজহার চৌধুরী, পংকজ তালুকদারসহ আরও অনেকে।
দুপুর ৩টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি চলে একটানা। উপস্থিত হাজারো দর্শক মুগ্ধ হন পরিবেশনার বৈচিত্র্য ও গভীরতায়। আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রচেতনার যে রূপমাধুর্য তুলে ধরা হয়, তা ছিল স্মরণীয়।
নিউইয়র্কের জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট বৈশাখী ( Astoria, Queens )
এবং কথাগ্রীল ( Jackson highlights ) ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের স্টল সরবরাহ করে দর্শনার্থীদের আরও একবার নিজের মাটির স্বাদ উপহার দেয়।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান পৃষ্ঠপোষক নুরুল আমিন বাবু সকল দর্শক, শিল্পী, সহযোগী ও অতিথিদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ঘোষণা দেন, “প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি ও রবীন্দ্র-উৎসবের এই ধারাবাহিকতা আগামীতেও বজায় থাকবে।”
এই অনবদ্য আয়োজন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাঙালির হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ রয়েছেন চিরজাগরূক এক সত্তা হিসেবে। তাঁর সৃষ্টির চিরন্তন আলোয় এই সন্ধ্যা ছিল এক প্রজন্মান্তরের সাহিত্যের সঙ্গে সংযোগের গভীরতম উপলক্ষ।


















