বাবা: মুক্তা লোহ
বাবা…
মুক্তা লোহ
মোবাইলে একটা নাম্বার খুঁজতে খুঁজতে—
হঠাৎ করে তোমার নাম্বারটা সামনে এলো…
আর ঠিক তখনই—
বুকের ভিতরটা ভীষণভাবে কেঁপে উঠলো।
আমি স্তব্ধ হয়ে বসে রইলাম…
চোখ দুটো টলমল করছে—
ফোনটা হাত থেকে পড়ে গেলো।
তোমার নাম্বার থেকে আর কোনো ফোন আসে না, বাবা।
“হ্যাঁ বাবা, বলো…”—
এই কথাটা আর বলা হয় না, গো!
জানো বাবা?
এখন আর কেউ
বাসার সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকে না—
আমি ফিরবো বলে কেউ অপেক্ষায় থাকে না…
বারান্দার সেই পুরনো সোফায়—
আর কেউ বসে থাকে না, চোখে পথ চেয়ে।
দুপুর ১২টার দিকে,
চুপচাপ বাসা থেকে বের হয়ে গিয়ে—
আর কেউ গরম গরম জিলাপি নিয়ে আসে না…
অন্তত, তোমার মতো করে তো নয়!
দুপুরে খাওয়ার পর,
আমি যখন শুয়ে পড়ি—
কয়েলটা আর কেউ ধরিয়ে দেয় না, বাবা…
রাতেও না।
আর চলে আসার দিন—
কেউ বারবার তাড়া দেয় না,
“তাড়াতাড়ি করো, ট্রেনের সময় হয়ে গেছে!”
স্টেশনে দাঁড়িয়ে—
আর কেউ বলে না, “সাবধানে যাস”।
তখন নিজেকে…
ভীষণ অসহায় লাগে।
তুমি কেন চলে গেলে, বাবা?
যখন কোনো সমস্যায় পড়ি—
তোমার মুখটা ভেসে ওঠে,
কোনো সমাধান দিতে পারে না কেউ!
সবাই যে…
নিজ নিজ জীবনে ব্যস্ত।
আমি জানি না—
তুমি আমার কথা শুনতে পাচ্ছো কি না…
তবুও বলি…
তুমি যেখানেই থাকো, আমাদের জন্য আশীর্বাদ রেখো—
আর…
তুমিও খুব ভালো থেকো, বাবা।


















