নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু জোহরান মামদানি: প্রবাসী কমিউনিটির দৃষ্টি ও সমর্থন প্রত্যাশা
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক , নিউইয়র্ক, ইউএসএ, ২২জুন :
নিউইয়র্ক সিটির আসন্ন মেয়র নির্বাচনে সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির উদীয়মান নেতা, সিটি কাউন্সিলম্যান জোহরান মামদানি। হিন্দু মা ও শিয়া মুসলিম বাবার সন্তান মামদানি এই মুহূর্তে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ব্যতিক্রমী প্রার্থীর নাম হয়ে উঠেছেন।
চলমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক আস্থাহীনতার প্রেক্ষাপটে মামদানির মতো একজন তরুণ, প্রগতিশীল, এবং নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিকের উত্থান অনেকের কাছেই এক নতুন আশার বার্তা। তিনি প্রাইমারি নির্বাচনে মুখোমুখি হচ্ছেন নিউইয়র্ক স্টেটের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো এবং অন্যান্য বিতর্কিত প্রার্থীদের সঙ্গে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু জোহরান মামদানি
বিশেষভাবে প্রবাসী বাংলাদেশি, ভারতীয় ও পাকিস্তানি কমিউনিটি মামদানির পক্ষে ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত ২১ জুন ২০২৫ শনিবার নিউইয়র্ক শহরের বহুজাতিক প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজা-তে মামদানির পক্ষে এক গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ছাড়াও চাইনিজ, কোরিয়ান, লাতিনো-হিস্প্যানিক সহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
এই আয়োজনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন মামদানির টিমের সক্রিয় সদস্যা রওশন আরা নিপা। নিপা ও তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া কন্যার উদ্যমী প্রচেষ্টায় এই জনসম্পৃক্ততা নজর কাড়ে। নিপা বলেন, “মামদানির পরিকল্পনাগুলো যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে নিউইয়র্কবাসী স্বাস্থ্য, আবাসন, শিক্ষা, পরিবহন ও কর্মসংস্থান খাতে একটা বাস্তব পরিবর্তন দেখতে পাবে।”
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি আমেরিকানরা তাদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও উৎসাহের মধ্য দিয়ে মামদানির প্রতি তাদের সমর্থনের বার্তা পৌঁছে দেন। অনেকেই বলছেন, এটি ২০০৮ সালের ওবামা প্রচারণার মতোই এক নতুন রাজনীতির সূচনা ঘটাতে পারে। তবে মামদানির প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি কিছু বিতর্কও সামনে এসেছে। ধর্মীয় পরিচয়, নামাজ না পড়া, শিয়া মুসলমান হওয়া, পুলিশ ‘ডিফান্ড’ নীতির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ – এসব নিয়ে কিছু গোষ্ঠী আপত্তি জানালেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব অভিযোগ মামদানির রাজনৈতিক আদর্শ, স্বচ্ছতা এবং জনপ্রিয়তার সামনে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রবীণ সাংবাদিকদের মতে, “একজন ভালো মেয়র হওয়ার জন্য সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে সততা, দূরদর্শিতা ও নাগরিকদের প্রতি দায়বদ্ধতা। মামদানির মধ্যে সেই গুণগুলো স্পষ্ট।”
জ্যাকসন হাইটসের ড্রাইভারসিটি প্লাজায় মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে বক্তব্য রাখছেন জোহরান মামদানি
ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (DSA)-র সমর্থিত প্রার্থী মামদানি বর্তমানে তরুণ ভোটারদের মাঝে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। বার্নি স্যান্ডার্স ও আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের মত প্রগতিশীল নেতাদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ মামদানি নিউইয়র্ক শহরকে আরও বাসযোগ্য, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক একটি শহরে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখছেন।
নিউইয়র্ক সিটির এই নির্বাচন হয়তো গোটা বিশ্বের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে তেমন ঢেউ তুলবে না, কিন্তু নিউইয়র্কবাসীর জীবনে এর প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী। বর্তমান বৈশ্বিক নৈরাশ্য আর সংকটের মধ্যে জোহরান মামদানির মতো নেতৃত্ব ভবিষ্যতের জন্য এক সাহসী দৃষ্টান্ত হতে পারে।
তথ্য ও ছবি: মিনহাজ আহমেদ , ২১ জুন ২০২৫ শনিবার ।
ফটোগ্রাফার ও কলামিস্ট- মিনহাজ আহমেদ


















