Logo

আন্তর্জাতিক    >>   যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যোগে কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমানের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যোগে কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমানের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যোগে কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমানের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অগ্রনায়ক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক-বাহক এবং বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমানের স্মরণে যুক্তরাষ্ট্রে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
“আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে” গানটির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর উদীচীর বন্ধুরা, প্রগ্রেসিভ ফোরাম ও মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ অধ্যাপক বদিউর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ক্ল্যারা রোজারিও। সূচনা বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক কল্লোল দাশ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সুপর্না সরকার রীমা ও মুনমুন সাহা।


অধ্যাপক বদিউর রহমানের দীর্ঘদিনের সহকর্মী এবং বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের নেতা ও প্রগ্রেসিভ ফোরামের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন বাচ্চু স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন—
“অধ্যাপক বদিউর শুধু একজন সাংস্কৃতিক কর্মীই নন, তিনি ছিলেন এক নিরলস সংগ্রামী, যিনি সারাজীবন প্রগতিশীল মূল্যবোধ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে লালন করেছেন।”
পরে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন—
লিলি মজুমদার, আশীষ রায় (সভাপতি, উদীচী জামাইকা শাখা), গোলাম মোস্তফা (সাবেক ছাত্রনেতা), উত্তম কুমার সাহা (সম্পাদক ও প্রকাশক, প্রজ্ঞা পত্রিকা), সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মিনহাজ আহমেদ শাম্মু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম, এডভোকেট মিয়া জাকির, রাবেয়া আক্তার (মহিলা পরিষদ), আবৃত্তিকার গোপন সাহা, প্রাক্তন ছাত্রনেতা মুজাহিদ আনসারী, সাগর লোহানী (সম্পাদক, বাঙালীয়ানা টিভি), প্রগ্রেসিভ ফোরামের সহ-সভাপতি ওবাইদুল্লাহ মামুন, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের সাবেক ডিন মতলুব আলী।
বক্তাদের আলোচনায় অধ্যাপক বদিউর রহমানের জীবনী ও অবদান-
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বরিশালে জন্ম নেওয়া অধ্যাপক বদিউর রহমান ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল আন্দোলন, সাংস্কৃতিক চর্চা ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শেষে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন এবং তরুণ প্রজন্মকে মুক্তবুদ্ধির চর্চায় উদ্বুদ্ধ করেন।


১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি শাসকদের সংস্কৃতিবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে গণমানুষকে সম্পৃক্ত করতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
দীর্ঘদিন উদীচীর কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে তিনি সংগঠনকে সারা দেশে শক্তিশালী করে তোলেন। বিশেষ করে ১৯৯৯ সালে যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে ভয়াবহ বোমা হামলায় শিল্পীরা প্রাণ হারালে, সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে উদীচীকে সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ করেন। তাঁর নেতৃত্বে উদীচী হয়ে ওঠে কেবল শিল্প-সংগীত চর্চার সংগঠন নয়, বরং মানবমুক্তির সংগ্রামের এক প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক মঞ্চ।
বক্তারা আরও বলেন, অধ্যাপক বদিউর রহমান ছিলেন ধর্মীয় মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও সংস্কৃতিবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে এক সাহসী কণ্ঠস্বর। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম প্রাণপুরুষ হয়ে ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অনুষ্ঠিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেন—রাবেয়া আক্তার, লিলি মজুমদার, সুপর্না সরকার রীমা, সুলেখা পাল, মুনমুন সাহা, শুভ্রা নন্দী, স্নিগ্ধা আচার্যী, জুলি খাস্তগীর। তবলায় সহযোগিতা করেন বিশিষ্ট তবলাবাদক স্বপন দত্ত।
সভায় বক্তারা একবাক্যে মত দেন যে, অধ্যাপক বদিউর রহমানের জীবন, সংগ্রাম ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি আগামী প্রজন্মের জন্য দিশারী হয়ে থাকবে।