Logo

আন্তর্জাতিক    >>   গাজা নিয়ে নতুন শান্তি পরিকল্পনার জন্য নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

গাজা নিয়ে নতুন শান্তি পরিকল্পনার জন্য নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

গাজা নিয়ে নতুন শান্তি পরিকল্পনার জন্য নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের অবসানে একটি নতুন শান্তি পরিকল্পনা উত্থাপন করতে যাচ্ছেন। আজ সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউজে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে এই পরিকল্পনা সামনে আনার কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে। এরপর ইসরায়েল আজীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েকশ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে। শান্তিতে রাজি হলে হামাসের সদস্যদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ও গাজা থেকে নিরাপদে চলে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে হামাসের সব সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে।

এছাড়া ইসরায়েলি সেনারা ধীরে ধীরে গাজা থেকে সরে আসবে ও সেখানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠিত হবে। পরিকল্পনায় ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে ও সংস্কার সম্পন্ন হলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) ভূমিকা রাখার কথাও উল্লেখ আছে।

এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন। আগে তারা গাজার জনগণকে সরিয়ে দিয়ে অঞ্চলটিকে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন ‘রিভেরা’ হিসেবে গড়ে তোলার পক্ষে ছিল। এবার প্রস্তাবে ফিলিস্তিনিদের গাজাতেই থাকার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।

তবে নেতানিয়াহুর জন্য এই পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে না। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র মেনে নেবেন না এবং পিএ-কে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। তার জোটের কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রীরাও গাজায় দখল ধরে রাখা ও সেখানে নতুন ইহুদি বসতি স্থাপনের পক্ষে।

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) লিখেছেন, তার দল কখনো এমন কোনো পরিকল্পনায় রাজি হবে না, যেখানে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র বা পিএ’র ভূমিকার কথা উল্লেখ থাকবে।

ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বলেছেন,হামাসকে পরাজিত না করে যুদ্ধ শেষ করার কোনো ম্যান্ডেট নেতানিয়াহুর নেই। তবে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ বলেছেন, জিম্মি মুক্তি ও যুদ্ধ অবসানে একটি সমঝোতা সমর্থন করবেন তিনি। তার দাবি, নেতানিয়াহুর পক্ষে সংসদে ও জনগণের মধ্যে পর্যাপ্ত সমর্থন রয়েছে।

জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধের অবসান চেয়ে ইসরায়েলের জনগণের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। গাজায় এখনো ৪৮ জন জিম্মি রয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের পরিবারও দ্রুত সমঝোতার দাবি তুলছে।

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কাতার বিমান হামলায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন, পশ্চিম তীর দখল সংযুক্ত করতে দেবেন না। জাতিসংঘ অধিবেশনের সময় তিনি সৌদি আরব, মিশর, কাতার ও তুরস্কসহ মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ও এটিকে নিজের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক’ হিসেবে দাবি করেন।

এর আগে গত শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদেরকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয়, আমরা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছি। তবে নেতানিয়াহু রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) জানান, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অন্যদিকে, হামাস জানিয়েছে, তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব পাঠানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে কয়েক দিনের মধ্যেই কোনো না কোনো ধরনের সাফল্যের ঘোষণা আসতে পারে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের হামলায় প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত হন। সেই সঙ্গে ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেদিন থেকেই গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৬ হাজার ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা ইসরায়েল দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করছে। সূত্র: বিবিসি