Logo

আন্তর্জাতিক    >>   জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান কি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছেন?

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান কি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছেন?

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান কি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছেন?

নয়ন বিশ্বাস রকি:
বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির সমালোচকরা মনে করেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। কিছু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের দাবি, তাঁর নীতি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করে দিতে পারে।
এই সমালোচকদের মতে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। সরকার একদিকে প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো খাতে চীন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়তে চেয়েছে। বিরোধীদের যুক্তি, এই সমান্তরাল নীতির কারণে বাংলাদেশের কৌশলগত অগ্রাধিকার নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েল নীতি নিয়ে বিতর্ক 
সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলোর একটি হলো ইসরায়েলের প্রতি বাংলাদেশের নীতি। সমালোচকদের দাবি, ড. খলিলুর রহমান ইসরায়েলের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ততা এবং গাজা সংঘাত সম্পর্কিত পশ্চিমা উদ্যোগগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাকে সমর্থন করেছেন। এসব প্রস্তাব রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের মধ্যে বিতর্ক তৈরি করেছে।
একই সময়ে, সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশি পাসপোর্টে "ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ" শব্দগুলো পুনর্বহাল করেছে। সমর্থকরা এটিকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেন, অন্যদিকে সমালোচকরা সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে মিশ্র সংকেত দেখছেন।
বাণিজ্য ও কৌশলগত চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ
বিরোধীরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি চুক্তিরও সমালোচনা করেছেন। তাদের যুক্তি, এসব চুক্তি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের চেয়ে বিদেশি স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দেয়। তবে চুক্তির সমর্থকরা বলছেন, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বড় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক জরুরি।
রাজনৈতিক ঝুঁকি 
কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন যে বিতর্কিত পররাষ্ট্রনৈতিক সিদ্ধান্ত ক্ষমতাসীন জোটের ভেতরে এবং জনগণের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী অবস্থান থেকে সরে আসা যেকোনো নীতি ইসলামপন্থী দল, বিরোধী গোষ্ঠী এবং জনগণের একাংশের প্রতিরোধের মুখে পড়তে পারে।
অর্থনৈতিক ও শাসন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ 
পররাষ্ট্রনীতি বিতর্ক যাই হোক না কেন, বাংলাদেশ গুরুতর অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আইনশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক মেরুকরণ, বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি এবং দুর্বল বিনিয়োগ পরিস্থিতি জনগণের আস্থায় প্রভাব ফেলছে। অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সব দলের জন্য সমান রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মূল প্রশ্ন হলো, বর্তমান নীতিগুলো বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করবে, নাকি দেশের ভেতরে রাজনৈতিক বিভাজন আরও বাড়িয়ে দেবে।
নয়ন বিশ্বাস রকি , সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কর্মী।