কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে ‘লেখকের অঙ্গন’-এর ২৭তম গ্রন্থালোচনা সভা—প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চার বিকাশে বইপাঠ, আলোচনা ও মুক্ত মতবিনিময়ের প্রাণবন্ত আয়োজন
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয়ে নিউইয়র্কের কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘লেখকের অঙ্গন’-এর ২৭তম গ্রন্থালোচনা সভা। গত ১১ জুলাই (শনিবার) আয়োজিত এ সাহিত্যসভায় কবি, লেখক, সাহিত্যপ্রেমী ও পাঠকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ নিয়ে গভীর আলোচনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শহীদ কাদরীর সাহিত্যভাবনাকে ধারণ করে ‘লেখকের অঙ্গন’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক নীরা কাদরী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চার এক অনন্য পরিমণ্ডল গড়ে তুলেছেন। তাঁর উদ্যোগে নবীন ও প্রবীণ লেখকদের মধ্যে বইপাঠ, গ্রন্থালোচনা এবং সাহিত্যবিষয়ক মুক্ত মতবিনিময়ের মাধ্যমে সৃজনশীল এক সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে, যা প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কবি ও সাবেক ব্যাংকার মোহাম্মদ মহিবুর রহমান হুমায়ূন আহমেদের গল্পসমগ্র নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদের গল্পে সাধারণ মানুষের জীবন, সুখ-দুঃখ, প্রেম, সম্পর্ক ও মানবিক অনুভূতি অসাধারণ মমত্ববোধে ফুটে উঠেছে। তাঁর সহজ অথচ শক্তিশালী ভাষাশৈলী এবং জীবন্ত চরিত্র নির্মাণ পাঠককে গল্পের গভীরে নিয়ে যায়। মানবজীবনের সূক্ষ্ম মনস্তত্ত্ব ও বাস্তবতাকে শিল্পিতভাবে উপস্থাপনের মধ্য দিয়েই তিনি বাংলা কথাসাহিত্যে অনন্য স্থান অধিকার করেছেন।
এরপর কবি ও সাহিত্যিক এ. বি. এম. সালেহউদ্দিন সিরাজুল হকের বেদনার তিমিরে গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বইটি গভীর জীবনবোধ, মানবিক অনুভূতি ও আত্মঅনুসন্ধানের এক অনন্য সাহিত্যকর্ম। লেখকের সংবেদনশীল ভাষা ও আবেগঘন উপস্থাপনা পাঠককে দীর্ঘক্ষণ ভাবনার জগতে আবিষ্ট রাখে।
কবি ও লেখক সুরীত বড়ুয়া সাদাত হাসান মান্টোর কালো সীমানা নিয়ে আলোচনা করে বলেন, মান্টোর সাহসী ও আপসহীন লেখনী সমাজবাস্তবতার নির্মম সত্যকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরেছে। দেশভাগ, সহিংসতা, সাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক বিপর্যয়ের চিত্রায়ণে তাঁর অসাধারণ সাহিত্যিক শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়।
বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক হাসান ফেরদৌস আব্দুল্লাহ জাহিদের আমেরিকায় রবীন্দ্রনাথ গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বইটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্বজনীনতা এবং আমেরিকায় তাঁর সাহিত্য, দর্শন ও চিন্তার প্রভাবকে গবেষণাভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছে। তথ্যসমৃদ্ধ ও প্রাঞ্জল ভাষায় রচিত এ গ্রন্থ রবীন্দ্রগবেষণায় একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।
লেখক ও সাহিত্যিক ওবায়দুল্লাহ মামুন বেবী হালদারের আলো আঁধারি নিয়ে আলোচনা করে বলেন, এটি সংগ্রাম, আত্মমর্যাদা, বঞ্চনা ও আত্মপ্রতিষ্ঠার এক মর্মস্পর্শী জীবনকথা। লেখিকার অকপট লেখনী সমাজের বৈষম্য ও নারীর জীবনসংগ্রামের কঠিন বাস্তবতাকে পাঠকের সামনে উন্মোচন করেছে।
সবশেষে লেখক ও গবেষক আহমাদ মাযহার আব্দুল হক জন্মশতবর্ষ স্মারক গ্রন্থ (সম্পাদক: সৈয়দ আজিজুল হক ও মোবারক হোসেন) নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ভাষাবিদ ও সাহিত্যিক আব্দুল হকের জীবন, কর্ম, চিন্তা ও অবদানকে ধারণ করে গ্রন্থটি একটি মূল্যবান প্রামাণ্য সংকলনে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন গবেষক ও লেখকের প্রবন্ধে তাঁর বহুমাত্রিক কর্মজীবন ও সাহিত্যভাবনা গভীরভাবে উঠে এসেছে।
অনুষ্ঠানে লেখিকা রানু ফেরদৌস, শৈবালসহ প্রবাসের বিশিষ্ট সাহিত্যপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন। সভার শেষে সঞ্চালক নীরা কাদরী কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরির ম্যানেজার শান্তে গেন্সসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
খবর : প্রেস বিজ্ঞপ্তি



















