আমরা সবাই শহীদ হবো, শেখ হাসিনাকে দেশে আনবো— দেশব্যাপী দাবি, তরুণদের শপথ
নয়ন বিশ্বাস রকি:
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক পরিসর—বিভিন্ন জায়গায় উচ্চারিত হচ্ছে একটি স্লোগান—
আমরা সবাই শহীদ হবো, শেখ হাসিনাকে দেশে আনবো।
এটি কেবল একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়—সমর্থকদের কাছে এটি আদর্শ, রাজনৈতিক বিশ্বাস ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ। শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তনকে তাঁরা শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রীর প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখছেন না; বরং গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারাবাহিকতার সঙ্গেও যুক্ত করছেন।
প্রিয় সহযোদ্ধারা, প্রিয় তরুণ প্রজন্ম...
আজকের তরুণরাই আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই তরুণ প্রজন্মের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো ইতিহাসকে জানা, সত্যকে বোঝা এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেওয়া।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের দিয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ। লাখো মানুষের আত্মত্যাগ, অসংখ্য মানুষের ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা কোনো সাধারণ অর্জন নয়। আবার ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় জনগণের ঐক্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিটি প্রজন্মের সামনে ইতিহাস আলাদা দায়িত্ব নিয়ে হাজির হয়। ১৯৭১ সালে একটি প্রজন্ম স্বাধীনতার জন্য লড়েছে। ১৯৯০ সালে আরেক প্রজন্ম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। আজকের তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব হলো গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখা।
শেখ হাসিনা ও উন্নয়নের প্রশ্ন
শেখ হাসিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জড়িয়ে আছে। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, ডিজিটাল বাংলাদেশসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। তাঁর সমর্থকেরা এসব অর্জনকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত অগ্রগতির উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করেন।
তাঁদের কাছে শেখ হাসিনা শুধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নন; তিনি আওয়ামী লীগের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের একজন গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকারী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শের ধারক।
তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো—ভিন্নমত থাকবে, বিতর্ক থাকবে, সমালোচনা থাকবে। কিন্তু সেই ভিন্নমত যেন সহিংসতা, প্রতিহিংসা বা বিভাজনে পরিণত না হয়—এটাই হওয়া উচিত আমাদের সবার প্রত্যাশা।
তরুণদের প্রতি আহ্বান...
প্রিয় ভাই-বোনেরা,
তোমাদের হাতেই আগামীর বাংলাদেশ। তাই শুধু ফেসবুকের কমেন্ট, পোস্ট কিংবা বিতর্কে নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে ইতিহাস পড়ো, দেশের সংবিধান সম্পর্কে জানো, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানো এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন হও।
ফেসবুকে শুধু কমেন্ট নয়—সচেতন হও।
ট্রল নয়—ইতিহাস পড়ো।
হতাশা নয়—দেশকে বোঝার চেষ্টা করো।
রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়। রাজনীতি মানে মানুষের অধিকার, মানুষের মর্যাদা, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করা।
আমাদের মনে রাখতে হবে—মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ কোনো ব্যক্তি বা দলের একার নয়। এই বাংলাদেশ সব নাগরিকের। তাই রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে আমাদের গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পথেই এগিয়ে যেতে হবে।
ভয় নয়, গণতান্ত্রিক অধিকার চাই
আমরা ভয় পেতে চাই না। আমরা পিছু হটতে চাই না। কিন্তু আমাদের সংগ্রামের পথ হতে হবে শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক।
যে জাতি নিজের ইতিহাসকে মনে রাখে, সে জাতি ভবিষ্যৎ নির্মাণের শক্তি অর্জন করে। তাই তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে।
শেখ হাসিনার সমর্থকদের প্রত্যাশা—তিনি নিরাপদে দেশে ফিরে এসে আবারও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। তাঁর দ্বিতীয় স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে তাঁরা একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখতে চান।
আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশে এমন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হোক, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক তার রাজনৈতিক মত ও বিশ্বাস শান্তিপূর্ণভাবে প্রকাশ করতে পারে; যেখানে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা থাকবে এবং জনগণের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
ইতিহাসের পথ ধরে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক
আজকের তরুণদের মনে রাখতে হবে—দেশ কোনো একক ব্যক্তির নয়, কোনো একক দলেরও নয়। দেশ সবার। আর এই দেশকে এগিয়ে নিতে হলে প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা, মানবিকতা ও আইনের শাসনের প্রতি অবিচল বিশ্বাস।
শেখ হাসিনার সমর্থকদের কণ্ঠে আজ যে প্রত্যয় উচ্চারিত হচ্ছে—
আমরা সবাই শহীদ হবো, শেখ হাসিনাকে দেশে আনবো।
এই প্রত্যয় যেন প্রাণহানি বা সংঘাতের আহ্বান না হয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার ও রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি শান্তিপূর্ণ অঙ্গীকারে পরিণত হয়—এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।
শেখ হাসিনার দ্বিতীয় স্বদেশ প্রত্যাবর্তন হোক ঐতিহাসিক।
বাংলাদেশ এগিয়ে যাক গণতন্ত্র, মানবিকতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে।
জয় বাংলা।
জয় বঙ্গবন্ধু।
নয়ন বিশ্বাস রকি,
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, সমাজসেবক ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কর্মী



















