উগ্র ইসলাম প্রচারে কঠোর হুঁশিয়ারি ট্রাওরের, চরমপন্থি ইমামদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার ঘোষণা
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
বুরকিনা ফাসোর সামরিক শাসক ইব্রাহিম ট্রাওরে দেশটির কিছু মুসলিম আলেমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসলামের নামে উগ্রবাদ ও চরমপন্থা ছড়ানোর চেষ্টা করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। সম্প্রতি এক বক্তব্যে ট্রাওরে বলেন, “যারা ইসলামের নামে চরমপন্থা প্রচার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি এটাই আপনাদের ইসলাম হয়, তাহলে আমরা এর বিরুদ্ধে লড়ব। চরমপন্থিদের পরিবর্তন হতে হবে, না হলে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।”
তিনি জানান, সম্প্রতি পাস হওয়া ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন দেশের ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। নতুন আইনের আওতায় কোনো ইমাম খুতবা বা ধর্মীয় বক্তব্যে উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচার করলে তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।
তবে ট্রাওরে স্পষ্ট করেন, যারা শান্তিপূর্ণ ইসলাম ও সহাবস্থানের বার্তা প্রচার করেন, সরকার তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশি শক্তি ধর্মকে ব্যবহার করে বুরকিনা ফাসোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সরকারের সঙ্গে দেশটির মুসলিম আলেমদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। মে মাসে প্রভাবশালী সুন্নি আলেম ইমাম মোহাম্মদ ইসহাক কিন্দো নতুন ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের সমালোচনা করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে রাজধানী উয়াগাদুগুর বৃহত্তম সুন্নি মসজিদ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
এর আগে এপ্রিল মাসে ইমাম মাহমুদ বারোকেও একই ধরনের অভিযোগে আটক করা হয়। পশ্চিম আফ্রিকার গবেষণা প্রতিষ্ঠান টিম্বুক্তু ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, কিন্দোকে গ্রেপ্তারের পর থেকে তার অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।
২০ জুন অনুমোদিত নতুন আইনে ধর্মের নামে শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা, আর্থিক তথ্য গোপন করা এবং সরকারের নির্ধারিত বিভিন্ন বিধি লঙ্ঘনের জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সরকার বলছে, আইনটির উদ্দেশ্য ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী করা। তবে সমালোচকদের দাবি, এটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ।
এদিকে ট্রাওরে ঘোষণা দিয়েছেন, বিদেশে ইসলামি শিক্ষা নিতে যাওয়া বুরকিনাবে শিক্ষার্থীদের সরকারি অনুমতি নিতে হবে। পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে না এলে তাদের নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
একই সময়ে বুরকিনা ফাসো ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করছে। দেশটি সম্প্রতি নতুন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। পাশাপাশি বুরকিনা ফাসো, মালি ও নাইজার নিয়ে গঠিত অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস (Alliance of Sahel States)-এর সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তা সহযোগিতাও বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি সহিংসতায় জর্জরিত বুরকিনা ফাসোতে প্রভাবশালী মুসলিম আলেমদের সঙ্গে সরকারের এই সংঘাত দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সূত্র: দ্য নিউ আরব, আল জাজিরা, কালবেলা



















