হরমুজ সংকটে প্রথমবার সৌদি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তেল আমদানি শূন্যের কোঠায়, ৪০ বছরে ভাঙল আমদানির রেকর্ড
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৫ সালের পর এই প্রথম জুলাই মাসে সৌদি আরব থেকে এক ফোঁটাও অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগর দিয়ে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি তেলের চালান পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। অথচ বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের তেল শোধনাগারগুলো প্রতিদিন ৮ লাখ ব্যারেলেরও বেশি সৌদি অপরিশোধিত তেল আমদানি করছিল।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলো বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়েছে। শোধনাগার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফিলিপস-৬৬ জানিয়েছে, তাদের মোট কাঁচামালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের অংশ এখন এক শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মার্ক ল্যাশিয়ার বলেন, সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের হালকা ধরনের অপরিশোধিত তেল নিউ জার্সির শোধনাগারে পাঠানো হচ্ছে।
শেভরন ও পিবিএফ এনার্জির মতো বড় মার্কিন শোধনাগার কোম্পানিগুলোও দীর্ঘদিন ধরে সৌদি অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর মালিকানাধীন মোটিভা এন্টারপ্রাইজেস টেক্সাসের পোর্ট আর্থারে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শোধনাগার পরিচালনা করে, যেখানে সাধারণত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করা হয়।
এদিকে সৌদি তেলের ঘাটতির বড় সুবিধাভোগী হিসেবে উঠে এসেছে ভেনেজুয়েলা। জুলাই মাসে দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল আমদানি বেড়ে দৈনিক প্রায় ৬ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা বছরের শুরুতে ছিল প্রায় ১ লাখ ব্যারেল।
উল্লেখ্য, বছরের শুরুতে ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে পরিচালিত এক অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায় ট্রাম্প প্রশাসন। সূত্র: ব্লুমবার্গ, জাগোনিউজ



















