Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   প্রজ্ঞা নিউজের আয়োজনে বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচন ২০২৬ — ২৫ অক্টোবর, নেতৃত্ব বাছাইয়ে ভোটের মাঠে উত্তাপ

প্রজ্ঞা নিউজের আয়োজনে বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচন ২০২৬ — ২৫ অক্টোবর, নেতৃত্ব বাছাইয়ে ভোটের মাঠে উত্তাপ

প্রজ্ঞা নিউজের আয়োজনে বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচন ২০২৬ — ২৫ অক্টোবর, নেতৃত্ব বাছাইয়ে ভোটের মাঠে উত্তাপ

বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচন ২০২৬: ৭ লাখ ডলারের ব্যয়, স্বচ্ছতা, গঠনতন্ত্র ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে মুখ খুললেন কোষাধ্যক্ষ রুমি

প্রজ্ঞা নিউজের আয়োজনে | পর্ব–১

প্রশ্নোত্তরে নির্বাচন, বর্তমান দায়িত্ব, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখোমুখি মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি

প্রশ্ন করেছেন: কমিউনিটির চিন্তাবিদ কাজল মাহমুদ ও লিপটন খান
প্রার্থী: কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি
বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচন ২০২৬

উত্তম কুমার সাহা, প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :

নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক-এর ২০২৬ পর সালের নির্বাচনকে ঘিরে কমিউনিটিতে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ, আলোচনা ও উত্তাপ তৈরি হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ৩৫ হাজার ৩২১ জন ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন বলে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই সামনে আসছে প্রার্থীদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের ধরন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নানা প্রশ্ন।

এই প্রেক্ষাপটে প্রজ্ঞা নিউজের বিশেষ আয়োজন ‘বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচন ২০২৬’-এর প্রথম পর্বে মুখোমুখি হয়েছেন বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান কোষাধ্যক্ষ ও আসন্ন নির্বাচনের প্রার্থী মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি। কমিউনিটির চিন্তাবিদ কাজল মাহমুদ ও লিপটন খান তাঁর কাছে নির্বাচন, বর্তমান দায়িত্ব পালন, সোসাইটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান, গঠনতন্ত্র, নির্বাচনের সময়সূচি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নতুন প্রজন্ম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেন।

সাক্ষাৎকারে মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি বলেন, গত প্রায় ১৭ থেকে ১৯ মাসে বাংলাদেশ সোসাইটির বিভিন্ন কার্যক্রমে ডোনেশন ও সংগঠনের ফান্ডসহ আনুমানিক ৭ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই অর্থ বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্য ও কমিউনিটির মানুষের দেওয়া অর্থ। সোসাইটির বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কার্যক্রমে প্রয়োজন অনুযায়ী এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে একই অর্থ আরও পরিকল্পিতভাবে কমিউনিটির সেবায় ব্যবহার করা সম্ভব।

কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিজের দায়িত্ব ব্যাখ্যা করে রুমি বলেন, তাঁর কাজ হলো হিসাব সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং অনুমোদিত ইনভয়েসের ভিত্তিতে অর্থ প্রদান করা। কোন অনুষ্ঠানে কত টাকা খরচ হবে বা কোন খাতে অর্থ বরাদ্দ করা হবে—সে সিদ্ধান্ত কার্যকরী পরিষদ, সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট কমিটি গ্রহণ করে বলে তিনি জানান।

রুমি বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির অর্থ কোথা থেকে আসে এবং কোথায় ব্যয় হয়, সে বিষয়ে সদস্যদের সামনে আরও বিস্তারিত ও স্বচ্ছ হিসাব থাকা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, বর্তমান মেয়াদে তিনি হিসাব ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল ও আইটেমভিত্তিক পদ্ধতি চালু করেছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়-ব্যয় আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের নিয়মিত হিসাব সরবরাহ করা হচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশ সোসাইটির ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। তাঁর নির্বাচনী অবস্থানের অন্যতম বার্তা হচ্ছে ‘চেঞ্জ বাংলাদেশ সোসাইটি’। রুমি মনে করেন, সংগঠনের অর্থ শুধু অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষা, নতুন প্রজন্ম, সামাজিক সেবা এবং কমিউনিটির প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজে আরও কার্যকরভাবে বিনিয়োগ করা উচিত।

বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান ভবন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রুমি। তাঁর বক্তব্য, একটি ভবন সঠিকভাবে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা না গেলে নতুন আরেকটি ভবন কেনার চিন্তা করার আগে বর্তমান ভবনের সমস্যা সমাধান করা উচিত। তিনি দাবি করেন, বর্তমান ভবনে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভায়োলেশন রয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে যদি বছরের পর বছর ভায়োলেশন ঝুলে না থাকে, তাহলে বাংলাদেশ সোসাইটির ভবনে কেন দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক ভায়োলেশন থাকবে।

রুমি মনে করেন, বাংলাদেশ সোসাইটির গঠনতন্ত্রও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সংগঠনের কার্যকরী পরিষদের মেয়াদ তিন বছর হওয়া উচিত কি না—এ প্রশ্নে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভিন্নমত পোষণ করেন। তাঁর মতে, দুই বছর পরপর নির্বাচন হলে সংগঠনে নেতৃত্বের পরিবর্তন, জবাবদিহি ও গতিশীলতা আরও বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, বিদায়ী কমিটি ও নতুন কমিটির মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক ট্রানজিশন পিরিয়ড থাকা দরকার। নির্বাচনের পর বিদায়ী কমিটি যেন নতুন কমিটির কাছে হিসাব, নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় সব তথ্য প্রকাশ্যে বুঝিয়ে দিয়ে যেতে পারে—এমন একটি ব্যবস্থা থাকা উচিত। এ বিষয়ে তিনি সাধারণ সভায় প্রস্তাব দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানান।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ সোসাইটির ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। লিপটন খান জানতে চান, এই আয়োজন থেকে সাধারণ সদস্যদের কী লাভ হয়েছে। জবাবে রুমি বলেন, ৫০ বছর পূর্তি ছিল বাংলাদেশ সোসাইটির একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক উদযাপনের অনুষ্ঠান। তবে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় যৌক্তিক ছিল কি না, এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার সদস্যদের রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই ব্যয়ের সিদ্ধান্তের জবাবদিহির দায়িত্ব কার্যকরী পরিষদ, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের।

আলোচনায় নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশ সোসাইটির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। রুমি বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ সোসাইটিকে তরুণ প্রজন্মের জন্য আরও আকর্ষণীয় ও কার্যকর করে তুলতে হবে। তিনি মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত বৃত্তি কার্যক্রম চালুর প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, প্রতিবছর কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে বেছে নিয়ে তাদের শিক্ষায় সহায়তা করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাংলাদেশ সোসাইটিকে নিজেদের সংগঠন হিসেবে ভাবতে শিখবে।

তিনি আরও বলেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে, কিন্তু অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে সবাই প্রয়োজনীয় শিক্ষার সুযোগ পায় না। বাংলাদেশ সোসাইটি যদি নিয়মিতভাবে তাদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে ভবিষ্যতে অনেক তরুণ চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারে এবং কমিউনিটির প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা তৈরি হবে।

রুমি বাংলাদেশ সোসাইটির মাধ্যমে একটি ননপ্রফিট ফিউনারেল ফান্ড গঠনের প্রস্তাবও দেন। তাঁর বক্তব্য, কবরস্থানের জায়গার ব্যয়ের তুলনায় নিউইয়র্কে একটি পরিবারের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে অনেক বেশি অর্থ প্রয়োজন হয়। একটি সংগঠিত ফিউনারেল ফান্ড থাকলে মৃত্যুর সময় বিপদগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হবে। তিনি মনে করেন, নতুন ভবন কেনার চেয়ে এই মুহূর্তে মানুষের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ সোসাইটির সর্বজনীন চরিত্র ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। কাজল মাহমুদ প্রশ্ন তোলেন, সংগঠনের বড় বড় অনুষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের শিল্পী, সদস্য এবং আজীবন সদস্যদের অংশগ্রহণ কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিল্পীদের পর্যাপ্ত অংশগ্রহণ না থাকার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন।

জবাবে রুমি বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটি সকল জাতি, শ্রেণি, পেশা ও ধর্মের মানুষের সংগঠন হওয়া উচিত। কোনো ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার না দিয়ে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা নিজেরাও একটি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী। তাই সংখ্যালঘু হিসেবে অন্য সম্প্রদায়ের অনুভূতি ও অধিকার বোঝা এবং সম্মান করা জরুরি।

রুমি বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির বড় অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে নিউইয়র্কের বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় রাখা উচিত। সংগঠনটি যেন কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক বিভাজনের জায়গায় না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

দুর্গাপূজার সময় বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েও সাক্ষাৎকারে আলোচনা হয়। কাজল মাহমুদ বলেন, দুর্গাপূজা ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবের মাঝখানে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে রুমি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি উত্থাপনের পর নির্বাচন কমিশন ও কার্যকরী পরিষদ বিষয়টি বিবেচনা করে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করে ২৫ অক্টোবর নির্ধারণ করেছে। তিনি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তাঁর মতে, আগের তারিখটি সম্ভবত অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল এবং পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে সংশোধন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সোসাইটির যেকোনো বড় কর্মসূচি নির্ধারণের আগে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলো বিবেচনায় নেওয়া উচিত। এতে সংগঠনের সর্বজনীন চরিত্র আরও শক্তিশালী হবে।

সাক্ষাৎকারে আর্থিক হিসাবের অডিট ও স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। কাজল মাহমুদ জানতে চান, ৫০ বছর পূর্তি, ইফতারসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার যথাযথ নিরীক্ষা হয়েছে কি না এবং সদস্যরা ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য পেয়েছেন কি না।

জবাবে রুমি বলেন, হিসাব ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন আয় ও ব্যয়ের তথ্য বিস্তারিতভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান ও ইফতারসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে কার কাছ থেকে কত অর্থ এসেছে এবং কোথায় কত অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা নামভিত্তিকভাবে হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি দাবি করেন, বর্তমান মেয়াদে বাংলাদেশ সোসাইটির হিসাব ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের হিসাব আলাদা করে সফটওয়্যারের মাধ্যমে আইটেমাইজ করা হচ্ছে। কার্যকরী পরিষদের সদস্যরা সভার আগে হিসাব দেখতে পাচ্ছেন এবং সাধারণ সভায় হিসাব উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

রুমি বলেন, তিনি আগামী মেয়াদেও বাংলাদেশ সোসাইটির আর্থিক হিসাবকে স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও জবাবদিহিমূলক রাখতে চান। সদস্যরা তাঁকে আবার সুযোগ দিলে আরও দুই বছর স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সংগঠনের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক পরিচয় ও বাংলাদেশ সোসাইটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতির বিষয়টিও উঠে আসে। কাজল মাহমুদ প্রশ্ন করেন, সোসাইটির অনুষ্ঠানে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতাদের বেশি দেখা যায় কেন এবং রিপাবলিকান নেতাদের তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায় কেন। জবাবে রুমি বলেন, ডেমোক্রেটিক নেতারা বর্তমানে ক্ষমতায় থাকায় এবং ডেমোক্রেটিক মেয়রসহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির উপস্থিতির কারণে তাদের বেশি দেখা যায়। তবে বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্যরা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অনুসারী নন বলেও তিনি জানান।

রুমি বারবার বাংলাদেশ সোসাইটিকে অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁর মতে, সংগঠনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির কল্যাণ এবং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখা।

তিনি বলেন, মুসলমানদের জন্য যেমন মৃত্যুর পর কবরের ব্যবস্থা নিয়ে বাংলাদেশ সোসাইটি কাজ করে, তেমনি অন্য ধর্মাবলম্বী সদস্যদের জন্যও তাদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা থাকা উচিত। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব দেন তিনি।

সাক্ষাৎকারের শেষদিকে রুমি বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির ভবিষ্যৎকে আরও গতিশীল করতে গঠনতন্ত্র সংস্কার, আর্থিক স্বচ্ছতা, নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ, সামাজিক সেবা, ফিউনারেল ফান্ড, শিক্ষা সহায়তা এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আসন্ন নির্বাচনে মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি কুনু-ফিরোজ পরিষদের হয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পরিষদের নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু ও সন্দ্বীপ সোসাইটির বর্তমান সভাপতি ফিরোজ আহমেদ। নির্বাচনী প্রচারে রুমিকে সফল কোষাধ্যক্ষ, স্বচ্ছতার প্রতীক, অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতার অধিকারী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচন ২০২৬ এখন কেবল ব্যক্তি বা প্যানেলের জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়; বরং সংগঠনটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কোন পথে যাবে, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কতটা স্বচ্ছতা থাকবে, গঠনতন্ত্র কতটা সময়োপযোগী হবে, নতুন প্রজন্মকে কীভাবে যুক্ত করা হবে এবং নিউইয়র্কের বহুধর্মীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্য কীভাবে আরও শক্তিশালী হবে—এসব প্রশ্নও এবারের নির্বাচনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছে।

প্রজ্ঞা নিউজের বিশেষ আয়োজন ‘বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচন ২০২৬’-এর প্রথম পর্বে মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমির বক্তব্যে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। ধারাবাহিক এই আয়োজনের পরবর্তী পর্বগুলোতে অন্যান্য প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, নির্বাচনী অবস্থান, পরিকল্পনা এবং কমিউনিটির প্রত্যাশাও তুলে ধরা হবে।