Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   রংপুরের চার হত্যার রেশ না কাটতেই চাঁদপুরে হিন্দু পরিবারের ৪ সদস্য নিখোঁজ

রংপুরের চার হত্যার রেশ না কাটতেই চাঁদপুরে হিন্দু পরিবারের ৪ সদস্য নিখোঁজ

রংপুরের চার হত্যার রেশ না কাটতেই চাঁদপুরে হিন্দু পরিবারের ৪ সদস্য নিখোঁজ

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক, বাংলাদেশ/নিউইয়র্ক :

রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই চাঁদপুরে একই পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চাঁদপুর শহরের আখন্দ মার্কেটের নিচতলায় ‘এস কে শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস, তাঁর স্ত্রী রিমি দাস এবং তাঁদের দুই ছেলে—দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়ম দাস ও রুপম দাস—গত ২০ আগস্ট থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি।

তবে তাঁরা স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে গেছেন, নাকি তাঁদের সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে—এ মুহূর্তে তা নিশ্চিত নয়। চাঁদপুর সদর মডেল থানা জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পরিবারের সদস্যদের সন্ধানের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, পিন্টু দাস আর্থিক সংকটে ছিলেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির স্বর্ণ বন্ধক রাখার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বন্ধক রাখা স্বর্ণ সময়মতো ফেরত দিতে না পারা এবং ঋণের চাপের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তাঁর মাসতুতো বোন উপমা দে জানিয়েছেন, পিন্টু দাসকে হুমকি দেওয়ার কথাও তাঁরা শুনেছেন। তবে এসব তথ্যের কোনোটি থেকেই তাঁর নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিন্টু দাসের কাছে স্বর্ণ বন্ধক রাখা কয়েকজন ব্যক্তি স্বর্ণ ফেরত না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। একজন গ্রাহক এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগও করেছেন বলে জানা গেছে। ব্যবসায়িক লেনদেন, ঋণের চাপ এবং বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত দিতে না পারার বিষয়গুলোও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে থাকলে তাঁদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। আবার তাঁদের সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ফলে এখন পর্যন্ত ঘটনাটিকে অপহরণ, হত্যা কিংবা সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে নিশ্চিত করার মতো কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

এর মধ্যেই রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় দেশ-বিদেশে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। নিহত পরিবারের সদস্যদের হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।

রংপুরের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, দায়ীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের ডাইভার্সিটি প্লাজায় ইউনাইটেড হিন্দুস অব ইউএসএ-এর উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা রংপুরের হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেন। তাঁদের বক্তব্যে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর বা সাজানো ব্যাখ্যার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা আড়াল না করা এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি উঠে আসে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইউনাইটেড হিন্দুস অব ইউএসএ-এর সভাপতি ভজন সরকার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নিউইয়র্কের সাবেক সভাপতি নবেন্দু দত্ত, সংগঠনের নেতা নিত্যানন্দ কিশোর দাস, কমিউনিটি লিডার প্রিয়তোষ দে, সুশীল সিনহা, গোবিন্দ জি বানিয়া, সমর রায় , রনজিৎ সাহা , গোবিন্দ দাস , প্রনব চক্রবর্তী,
গোপাল সাহা, ভবতোষ মিত্র, জয়দেব গাইন, Ritendra Deb Tapan, তাপস সাহা, সঞ্জিত কুমার ঘোষ, সুতিপা রায়, নিতাই পালসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, রংপুরের হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কোনো ধরনের গাফিলতি বা একতরফা তদন্ত গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা নিহত পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

রংপুরের চার হত্যাকাণ্ডের পরপরই চাঁদপুরে একই পরিবারের চার সদস্যের একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তবে দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে—এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। একইভাবে চাঁদপুরের নিখোঁজের ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক কারণে ঘটেছে—এমন দাবির পক্ষেও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য নেই।

তাই গুজব বা অনুমানের পরিবর্তে পিন্টু দাস, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের অবস্থান দ্রুত শনাক্ত করে তাঁদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা এবং তাঁরা কেন নিখোঁজ হয়েছেন—তার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা জরুরি। একই সঙ্গে রংপুরের চার হত্যাকাণ্ডেরও নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য জাতির সামনে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন প্রতিবাদকারীরা।

প্রজ্ঞা নিউজের পক্ষ থেকে দাবি—চাঁদপুরের নিখোঁজ চার সদস্যের সন্ধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক এবং রংপুরের চার হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

তথ‍্য -সংগৃহীত , ছবি - কানু দত্ত।