Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার বার্ষিক বনভোজন: মেজবানি, সংস্কৃতি ও মিলনমেলায় মুখর চাটগাঁইয়া প্রবাসীরা

নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার বার্ষিক বনভোজন: মেজবানি, সংস্কৃতি ও মিলনমেলায় মুখর চাটগাঁইয়া প্রবাসীরা

নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার বার্ষিক বনভোজন: মেজবানি, সংস্কৃতি ও মিলনমেলায় মুখর চাটগাঁইয়া প্রবাসীরা

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক : 

প্রবাসে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা ইন্ক-এর বার্ষিক বনভোজন ও চাটগাঁইয়া মিলনমেলা ২৩ আগস্ট ২০২৬, রবিবার দিনব্যাপী আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুইন্সের ফ্লাশিং ম্যাডোস করোনা পার্কের Meadow Lake-এ আয়োজিত এ মিলনমেলায় নিউইয়র্কসহ আশপাশের বিভিন্ন স্টেট থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী চট্টগ্রামবাসী, অতিথি ও শুভানুধ্যায়ী অংশ নেন।

প্রবাসজীবনের ব্যস্ততা ও যান্ত্রিকতার বাইরে পরিবার-পরিজন নিয়ে একত্রিত হওয়া, নতুন প্রজন্মের কাছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য তুলে ধরা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্যকে আরও জোরদার করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। দিনব্যাপী মেজবানি চাটগাঁইয়া খাবার, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আড্ডা ও বর্ণিল র‌্যাফেল ড্রতে পুরো আয়োজন পরিণত হয় এক টুকরো চট্টগ্রামের মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের নবনির্বাচিত সাংসদ আবু সুফিয়ান। তিনি চট্টগ্রামবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও টাইটেল স্পন্সর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোল্ডেন এজের প্রেসিডেন্ট ও সিইও শাহ নেওয়াজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাটর্নি মইন চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার সভাপতি মাকসুদুল হক চৌধুরী বলেন, এত সুন্দর একটি আয়োজন সফল করতে চট্টগ্রামবাসীর সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে সুন্দর ও আকর্ষণীয় আয়োজন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এম বিল্লা উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সুন্দর ও আনন্দঘন পরিবেশে বনভোজন আয়োজনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। আয়োজনে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ হোসেন সিরাজী বলেন, এই বনভোজন চট্টগ্রামবাসীর একটি বৃহৎ মিলনমেলা। ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহজাহান সিরাজী বলেন, ঐক্যবদ্ধ সমিতির কোনো বিকল্প নেই।

প্রধান অতিথি শাহ নেওয়াজ বলেন, ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। সবাইকে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। এই আয়োজন প্রমাণ করেছে, চিটাগাংবাসী ঐক্যবদ্ধ।

বিশেষ অতিথি অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী বলেন, আমেরিকায় আসার পর থেকেই চিটাগাংবাসীর সঙ্গে তাঁর একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশনের এবারের আয়োজন ছিল চমৎকার ও অসাধারণ।

সংগঠনের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি মোঃ ফরহাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বনভোজনে অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

এবারের জমকালো আয়োজনের মূল পৃষ্ঠপোষক ও টাইটেল স্পন্সর ছিলেন গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের উদ্যোক্তা শাহ নেওয়াজ। গ্র্যান্ড স্পন্সর ছিলেন প্রখ্যাত আইনজীবী অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী। প্লাটিনাম স্পন্সর ছিলেন মোহাম্মদ শেখ ফরহাদ, ফরহাদ সিপিএ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতা করেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রবাসের বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ঐতিহ্যবাহী মেজবানি খাবারের স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি অতিথিরা গান, আড্ডা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন। বর্ণিল র‌্যাফেল ড্র ঘিরেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। র‌্যাফেল ড্রতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ছিল স্বর্ণের সেট, দ্বিতীয় পুরস্কার নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক এয়ার টিকেট। এছাড়া টিভি, ল্যাপটপ ও দামী স্মার্টফোনসহ ছিল আরও আকর্ষণীয় পুরস্কার।

বৃহৎ এই আয়োজন সফল করতে ‘বনভোজন উদযাপন কমিটি ২০২৬’-এর নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন উপকমিটির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেন। কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন মোঃ আইয়ুব আনছারী; যুগ্ম-আহ্বায়ক মোহাম্মদ হারুন মিয়া ও আক্তার উল আজম; প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ ফরহাদ; সমন্বয়কারী নূরুস সোফা ও মোহাম্মদ শাহ আলম; সদস্য সচিব শিমুল বড়ুয়া; যুগ্ম-সদস্য সচিব মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন (আতিক) ও মোঃ এ ওদুদ।

অর্থ উপকমিটিতে ছিলেন সুমন উদ্দিন ও তমাল কে চৌধুরী। অভ্যর্থনা ও আপ্যায়নের দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ এস এম বিল্লাহ, আলী আকবর বাপ্পী ও ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুশান্ত দত্ত এবং ক্রীড়া পরিচালনায় ছিলেন মোহাম্মদ জাহেদুল আজম (জাহেদ) ও মোঃ শওকত আলী।

আয়োজন সফল করতে সংগঠনের প্রাণপুরুষ ও আজীবন সদস্যদের প্রতিও বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ শাহজাহান সিরাজী (সাবেক সদস্য, ট্রাস্টি বোর্ড, বাংলাদেশ সোসাইটি), মেহেরুবর রহমান বাদল (সাবেক সাধারণ সম্পাদক), হাসান চৌধুরী (প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার), নুরুল আলম (নুরু) (সাবেক ট্রাস্টি ও উপদেষ্টা), আল জুবায়ের মানিক (প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক), সরোয়ার চৌধুরী সিপিএ (আজীবন সদস্য ও সাবেক সভাপতি), মোঃ আহসান হাবীব (আজীবন সদস্য ও সাবেক সভাপতি), মোঃ জসিম উদ্দিন (আজীবন সদস্য ও সাবেক উপদেষ্টা), শাহজাহান মাহমুদ (আজীবন সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক), মজিবুল হক (আজীবন সদস্য ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার), হাজী সফিকুল আলম (আজীবন সদস্য ও সাবেক উপদেষ্টা), আফসার উদ্দিন (আজীবন সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক), ডা. আতাউল ওসমানী (আজীবন সদস্য), সাইয়েদুল আলম (আজীবন সদস্য), নাসির উদ্দিন আহমেদ (প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বিশিষ্ট সমাজসেবক), আলহাজ্ব এম. এ. জাফর (আজীবন সদস্য ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার), মীর কাদের রাসেল (আজীবন সদস্য ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার), ইকবাল হোসেন (আজীবন সদস্য), একেএম মেজবাহ উদ্দিন (সাধারণ সম্পাদক, বাক), মহিউদ্দিন চৌধুরী খোকন (আজীবন সদস্য), আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া (আজীবন সদস্য), খোকন কে চৌধুরী (আজীবন সদস্য ও সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি), সরোয়ার আলম (কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট), আব্দুল হামিদ (কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট) এবং মোহাম্মদ দিদার (সাবেক দপ্তর সম্পাদক)।

নিউইয়র্কে সার্বিক তত্ত্বাবধানে সহযোগিতা করেন মোহাম্মদ শাহজাহান সিরাজী, মেহবুবর রহমান বাদল, হাসান চৌধুরী, আবুল কাসেম ভূঁইয়া, নুরুল আলম (নুরু), আহসান হাবীব, জসিম উদ্দীন, সরওয়ার জামান চৌধুরী, একেএম ওয়াহিদী, শাহজাহান মাহমুদ, আল জোবায়ের মানিক, আফসার উদ্দিন, আলহাজ্ব এম এ জাফর, হাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম, মজিবুল হক, নুরুল আজিম, মীর কাদের রাসেল, মফিজুল আহমেদ, আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া, আব্দুল কাসেম, আব্দুল হামিদ, ইকবাল হোসেন, সরওয়ার আলম, নবী হোসেন, একেএম মেজবাহ উদ্দিন, মনজুরুল আলম, মোহাম্মদ জাফর চৌধুরী, মুহাম্মদ দিদার, মহিউদ্দীন চৌধুরী খোকন, সাধন কর, জয়নাল আবেদীন জাহাঙ্গীর, বাবু মনোরঞ্জন, খোরশেদ আলম, আব্দুল মান্নান, জয়নাল আবেদীন, মোঃ হারুনুর রশীদ, আবুল হালীম, মোঃ সেলিম, মোহাম্মদ আলী নূর, মোহাম্মদ ইয়াসিন, মোহাম্মদ আকতার হোসেন, মোহাম্মদ আলী, এরশাদ চৌধুরী, মুরাদ চৌধুরী, মোহাম্মদ হোসেন, মোহাম্মদ ইকবাল, রিদুয়ানুল হক, হাফিজ উদ্দিন, গোলাম মওলা, সমিরুল হক বাবুল, মোহাম্মদ শফি, খায়রুল বাসার ও নওশের চৌধুরী।

কানেকটিকাটের হ্যামন্ডন থেকে হাবিবুর রহমানসহ অমল বিকাশ বড়ুয়া, শিশির বড়ুয়া, প্রণমেশ বড়ুয়া, বাবু মং, সজল বড়ুয়া, সুমিত বড়ুয়া, সঞ্জীব বড়ুয়া, সুজয় বড়ুয়া, প্রসেনজিৎ বড়ুয়া, অভিজিৎ বড়ুয়া, উজ্জ্বল বড়ুয়া এবং সজল বড়ুয়াও সার্বিক সহযোগিতায় অংশ নেন।

নিউ জার্সি টিমে ছিলেন আবদুর রফিক, দিনার চৌধুরী, মোহাম্মদ সরওয়ার, মোঃ এনাম, কাউসার চৌধুরী, মুজিবুল হক, আনিস মাহমুদ, মোহাম্মদ সেলিম, হাফেজ মোহাম্মদ ইদ্রীস, বুলবুল চৌধুরী, মুন্তাসির বিল্লাহ, কাজী জোবায়ের ও ফয়েজ আলম।

স্ট্যামফোর্ড, কানেকটিকাট টিমে ছিলেন মোহাম্মদ জামান, মোহাম্মদ ছালাম নূর, নুরুল হক, জামাল উদ্দিন, জাফর সালেহ, সেলিম জামান, মোস্তাক জামান, মোহাম্মদ জসিম ও ইমরান রহিম।

ব্রিজপোর্ট, কানেকটিকাট টিমে ছিলেন এম শওকত হোসেন চৌধুরী, এম জাসমুল আলম জাসু, আরিফ এম জোবায়ের, ইহসান খসরু ও মোজার আহমেদ।

ফিলাডেলফিয়া টিমে ছিলেন মেয়র মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, এনাম চৌধুরী, মঈনউদ্দীন, গিয়াস উদ্দিন, জাহেদ চৌধুরী ও ফেরদৌস হাসান (সাবেক কাউন্সিলর)।

দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মেজবানি চাটগাঁইয়া খাবার, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও ব্যাপক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার এবারের বার্ষিক বনভোজন পরিণত হয় প্রবাসের মাটিতে এক টুকরো চট্টগ্রামের প্রাণের মিলনমেলায়।

আয়োজনে অংশ নেওয়া নেতৃবৃন্দ ও প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীদের মতে, এ ধরনের অনুষ্ঠান শুধু বিনোদনের উপলক্ষ নয়; বরং প্রবাসে নিজেদের শেকড়, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ঐক্য, সংস্কৃতি ও মানবতার বন্ধন অটুট রেখে চট্টগ্রামবাসীকে আরও সুসংগঠিত করার প্রত্যয়েই এবারের আয়োজন স্মরণীয় হয়ে থাকল।
সূত্র: জলি আহমেদ ।