Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   গণপতি চক্রবর্তী ও পরিবারের হত্যার বিচার দাবিতে নিউইয়র্কে তীব্র প্রতিবাদ: মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি চর্চার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি

গণপতি চক্রবর্তী ও পরিবারের হত্যার বিচার দাবিতে নিউইয়র্কে তীব্র প্রতিবাদ: মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি চর্চার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি

গণপতি চক্রবর্তী ও পরিবারের হত্যার বিচার দাবিতে নিউইয়র্কে তীব্র প্রতিবাদ: মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি চর্চার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক, নিউইয়র্ক :

রংপুরের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের হত্যাকাণ্ডের বিচার, স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত এবং সংস্কৃতি চর্চায় সব ধরনের বাধা বন্ধের দাবিতে নিউইয়র্কে তীব্র প্রতিবাদ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা বলেছেন, হত্যা, সহিংসতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ কিংবা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা কোনোভাবেই একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজের চিত্র হতে পারে না। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা ৭টায় নিউইয়র্কের ডাইভার্সিটি প্লাজায় প্রবাসী নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। মুজাহিদ আনসারির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে নিউইয়র্কের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশি, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা রংপুরের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কোনো নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তা তার ধর্মীয় পরিচয়, মতাদর্শ, পেশা কিংবা সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে না। রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও অধিকার সুরক্ষিত রাখা।

তারা বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমাজে অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করে। তাই গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

বক্তারা স্বাধীন মত প্রকাশের ওপর যেকোনো ধরনের চাপ ও বাধার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংস্কৃতি চর্চার অধিকার একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম ভিত্তি। ভিন্নমতকে সম্মান করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। গান, নাটক, সাহিত্য, আবৃত্তি ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলে; তাই সংস্কৃতি চর্চার পথ রুদ্ধ করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক অধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, বাংলাদেশ হবে এমন একটি দেশ, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ নিরাপদে বাঁচবে, স্বাধীনভাবে কথা বলবে এবং নির্বিঘ্নে নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চা করতে পারবে—এটাই হওয়া উচিত রাষ্ট্র ও সমাজের প্রত্যাশা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কমিউনিটির নেতা শিতাংশু গুহ, হোসনেআরা বেগম হাসি, সাপ্তাহিক ঠিকানার সাবেক সম্পাদক মুহম্মদ ফজলুর রহমান, সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসেন, সংগঠক সৈয়দ মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সভাপতি নবীন্দু দত্ত, উদীচী নেতা হিরো চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগঠক মিনহাজ আহমদ, সৈয়দ জাকির রনি, আল আমিন বাবু, সংগঠক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মানবাধিকার কর্মী ও সাবেক ছাত্রনেতা জাকারিয়া অনু, মানবাধিকার কর্মী আলী হাসান কিবরিয়া, মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান সাপোর্ট কর্পোরেশনের সভাপতি মোহাম্মদ সোলায়মান আলী, মহিলা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ সম্পাদক সুলেখা পাল, উদীচী জ্যামাইকা শাখার সভাপতি আশীষ রায়, আবৃত্তিশিল্পী সুচরিত দত্ত, উপস্থাপিকা সাবিনা হাই উর্বি ,সমাজকর্মী শেফালি রওশান এবং দিলীপ মোদক।

সমাবেশ থেকে গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বাধীন মত প্রকাশের পরিবেশ বজায় রাখা এবং সংস্কৃতি চর্চায় সব ধরনের বাধা দূর করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান জানান। নিউইয়র্কের রাজপথে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা স্পষ্টভাবে বলেন—অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ থামানো যাবে না, ন্যায়বিচারের দাবি থামানো যাবে না এবং মানুষের স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না।