Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবসে শান্তি ও মানবতার ডাক: শিশু নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবসে শান্তি ও মানবতার ডাক: শিশু নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবসে শান্তি ও মানবতার ডাক: শিশু নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক, নিউইয়র্ক:

শান্তি, মানবতা, বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি শিশু নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বানের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস পালিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং কমিউনিটির সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। শিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে কার্যকর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

গত ৩০ আগস্ট ২০২৬, রবিবার, গ্রিন টাচের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে মানবতা ও শান্তির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, সহিংসতামুক্ত ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে সহ-সভাপতি বি এম জাকির হোসাইন সভাপতিত্ব করেন এবং সংগীতশিল্পী সুপর্না সরকার রিমা সঞ্চালনা করেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট লেখক ড: রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কের ডিস্ট্রিক্ট ৩০ Assemblyman Brandon Castro। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি ভিক্টর এলাহী লিয়াকত, সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মিনহাজ আহমেদ সাম্মু, এম এ সাদেক এবং সোহেল হামিদ (সাহিত্য প্রবাহ)।

বক্তারা বলেন, শিশুরা কোনো সমাজের বোঝা নয়; তারাই আগামী দিনের পৃথিবীর নির্মাতা। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শিশুদের ওপর নির্যাতন, হত্যা, সহিংসতা ও বৈষম্যের ঘটনা মানবসভ্যতার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়—এটি সমাজ ও রাষ্ট্রেরও নৈতিক দায়িত্ব। তাই শিশু নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি এবং অপরাধ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বক্তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস কেবল বন্ধুত্ব উদযাপনের একটি দিন নয়; এটি মানুষের মধ্যে বিভেদ দূর করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও শান্তির বন্ধন দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও মতের ভিন্নতা ভুলে মানবতার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য ও পুরস্কার বিতরণে সহযোগিতা করেন আশিকুর রহমান ও মাহনুর রহমান নেহা।

অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন ইমন বিশ্বাস ও জুলি খাস্তগীর। নৃত্য পরিবেশন করেন রাইসী বিশ্বাস ও অধরা ঘোষ। কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী মুনমুন সাহা। বিশিষ্ট লেখক ও অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ড: রফিকুল ইসলাম তাঁর নিজের লেখা পরিবেশন করেন। এছাড়াও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন এম এ সাদেক, ইলাইনা (৩) ও তার মা। তাঁদের মনোজ্ঞ পরিবেশনায় অনুষ্ঠানে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন ও প্রাণবন্ত পরিবেশ।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিশু, কিশোর ও কিশোরীদের অংশগ্রহণ। সভাপতি ভিক্টর এলাহী লিয়াকত, প্রধান অতিথি ড: রফিকুল ইসলামসহ উপস্থিত অতিথিদের উপস্থিতিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিশু, কিশোর ও কিশোরীদের সার্টিফিকেট ও উপহার প্রদান করা হয়। শিশুদের উৎসাহিত করা এবং তাদের প্রতিভা বিকাশে সহযোগিতা করার এ উদ্যোগ উপস্থিত সবার প্রশংসা লাভ করে।

অনুষ্ঠানে সংগঠক ও কমিউনিটির নেতা সেলিম রেজা, প্রজ্ঞা নিউজের সম্পাদক ও প্রকাশক উত্তম কুমার সাহাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতা করেন তাহমিনা বেগম মিনা।

আয়োজকরা বলেন, একটি শিশুর মুখের হাসি রক্ষা করা মানেই মানবতার ভবিষ্যৎ রক্ষা করা। শিশুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে ঘর থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। শিশু নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ পৃথিবী নির্মাণই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে উপস্থিত সকল অতিথি, শিশু-কিশোর ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য নিউইয়র্কের জনপ্রিয় বৈশাখী রেস্টুরেন্টের সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করা হয়। এতে অনুষ্ঠানের আনন্দঘন পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

সবশেষে সংগঠনের সভাপতি ভিক্টর এলাহী লিয়াকত উপস্থিত অতিথি, আয়োজক, শিল্পী, শিশু-কিশোর, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি ভবিষ্যতেও শান্তি, মানবতা, বন্ধুত্ব ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবসের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কের প্রবাসী কমিউনিটিতে শান্তি, সম্প্রীতি, বন্ধুত্ব ও মানবতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি শিশু নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার একটি শক্তিশালী বার্তা উঠে আসে। অনুষ্ঠানটির সম্পূর্ণ সংবাদ ও কার্যক্রম প্রজ্ঞা নিউজ এবং প্রজ্ঞা নিউজ ইউটিউব চ্যানেল কাভার করে।