Logo

আন্তর্জাতিক    >>   বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের বিমান হামলায় নিহত ৫০: গভীর উদ্বেগ জাতিসংঘের

বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের বিমান হামলায় নিহত ৫০: গভীর উদ্বেগ জাতিসংঘের

বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের বিমান হামলায় নিহত ৫০: গভীর উদ্বেগ জাতিসংঘের

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও এলাকায় সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত ও ৫৮ জন আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ ও স্থানীয় সূত্র।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কিয়াউকতাও শহরের একটি ব্যস্ত বাজার ও এর কাছের কিসাপানাদি সেতু এলাকায় এই বিমান হামলা চালানো হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্কের দপ্তর জানিয়েছে, হামলার সময় বাজারটিতে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ২০০টির বেশি দোকান থাকা ওই বাজারে রাখাইন, রোহিঙ্গা, হিন্দু, দাইনেটসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ ব্যবসা করতেন।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক নিউইয়র্কে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। সর্বশেষ বিমান হামলা সেই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকার আইনের অধীনে নিজেদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও বলেছেন তিনি।

হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত আরাকান আর্মি (এএ) দাবি করেছে, বিমান হামলায় ৫০ জন নিহত ও অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় মানবিক সহায়তাকর্মী ওয়াই হুন অংও এই হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের দপ্তর জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের সময় নারী ও শিশুর মরদেহও পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থুকা অভিযোগ করেছেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ঘনবসতিপূর্ণ বাজার, স্কুল, বেসামরিক মানুষ ও আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। হামলার ঘটনায় প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। দেশটির সামরিক বাহিনী এর আগে বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের দাবি করেছে।

রাখাইনে ফেরার পরিবেশ নেই: জাতিসংঘ

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। জাতিসংঘ বলছে, রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সেখানে বেসামরিক মানুষ নিয়মিত বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও অন্যান্য সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস একই সঙ্গে সংঘাতের সব পক্ষকে জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা সংস্থার কর্মীদের নিরাপদ, টেকসই ও বাধাহীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো যায়। সূত্র: ডেমোক্রেটিক ভয়েস অব বার্মা (ডিভিবি), জাতিসংঘ, রয়টার্স, বিডি২৪লাইভ