ক্যাম্পাস থেকে সংসদ—তরুণদের প্রশ্নেই গণতন্ত্রের শক্তি: মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘ক্যাম্পাস সে সংসদ’ উদ্যোগে মতবিনিময়
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘ক্যাম্পাস সে সংসদ’ কর্মসূচির আওতায় মতবিনিময়ের সুযোগ হয়েছে। সংসদ সদস্য শ্রী বিনোদ তাওড়ে জির উদ্যোগে আয়োজিত এই যুবসম্পৃক্ততা কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গণতন্ত্র, সংসদীয় ব্যবস্থা, জনজীবন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় বলা হয়, সংসদ কেবল এমন একটি ভবন নয়, যেখানে আইন নিয়ে বিতর্ক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সংসদ হচ্ছে এমন একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, যেখানে কোটি কোটি মানুষের আশা, আকাঙ্ক্ষা, উদ্বেগ ও মতামত সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ পায়।
তরুণদের জন্য পাঠ্যবইয়ের পাতার বাইরে গিয়ে সংসদ ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে কাছ থেকে জানার সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে তারা উপলব্ধি করতে পারে যে গণতন্ত্র শুধু উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া কোনো ব্যবস্থা নয়; বরং এতে নাগরিকদের অংশগ্রহণ, দায়িত্ববোধ এবং ভবিষ্যৎ গঠনের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ, কৌতূহল ও প্রশ্ন করার সাহস বিশেষভাবে উঠে আসে। প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে কাজ করে, জনজীবনে কীভাবে মানুষের সেবা করা যায় এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একজন নাগরিকের ভূমিকা কী—এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্ন ও আগ্রহ আলোচনাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
আলোচনায় আরও উঠে আসে, একটি দেশের গণতন্ত্র কেবল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ওপর নির্ভর করে না। গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী হয় যখন নতুন প্রজন্মের নাগরিকরা তথ্যভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করে, সমাজ ও রাষ্ট্রের বিষয়ে সচেতন থাকে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হয় এবং প্রয়োজন হলে প্রশ্ন করতে সাহসী হয়।
তরুণ প্রজন্মের আজকের কৌতূহল, জ্ঞানার্জনের আগ্রহ ও অংশগ্রহণই আগামী দিনের ভারতের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। আজ যারা জানতে চাইছে, প্রশ্ন করছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে বোঝার চেষ্টা করছে, ভবিষ্যতে তারাই দেশের জনজীবন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
‘ক্যাম্পাস সে সংসদ’ উদ্যোগের মূল বার্তাও যেন সেখানেই—তরুণদের গণতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তাদের ধারণা স্পষ্ট করা এবং ভবিষ্যতের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে তাদের প্রস্তুত করে তোলা।



















