নিউইয়র্কে ইমিগ্রেশন কোর্টের সামনে গ্রেপ্তার মেয়র পদপ্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডার: আইসিইর আচরণে ক্ষোভ, উদ্বেগে অভিবাসী সম্প্রদায়
হাকিকুল ইসলাম খোকন, প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের প্রধান হিসাবরক্ষক (কম্পট্রোলার) ও সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডারকে প্রকাশ্যে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার, ১৭ জুন, নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল ইমিগ্রেশন কোর্টের সামনে, যা ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ল্যান্ডার একজন অভিবাসী বিচারপ্রার্থীকে আদালত থেকে বের করে আনছিলেন, এমন সময় মুখোশ পরা কয়েকজন আইসিই এবং এফবিআই সদস্য আকস্মিকভাবে এসে তাকে ঘিরে ফেলেন। এরপর তাকে হাতকড়া পরিয়ে দ্রুত একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভিডিও ফুটেজে ল্যান্ডারকে বলতে শোনা যায়, “তোমাদের কোনো বিচারিক ওয়ারেন্ট নেই!” — যা যুক্তরাষ্ট্রে কাউকে আটক করতে হলে আইনি বাধ্যবাধকতা।
ল্যান্ডারের স্ত্রী মেগ বারনেট সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমি যা দেখেছি তা ভয়াবহ। একজন মার্কিন নাগরিককে এভাবে তুলে নেওয়া আইন ও সংবিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘন। সে শুধু একজন অভিবাসীকে সহায়তা করছিল।”
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, ব্র্যাড ল্যান্ডার “ফেডারেল অফিসারদের কাজে বাধা প্রদান ও আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করেছেন।” তাঁকে “সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হবার উদ্দেশ্যে জননিরাপত্তা বিপন্ন করার” অভিযোগেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই ডেমোক্র্যাট নেতৃবৃন্দ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতা জোহরান মামদানি বলেন, “আইসিই এখন একটি আতঙ্ক সৃষ্টিকারী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।”
সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো এই ঘটনাকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের “গুন্ডামি সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে অভিবাসন আইন প্রয়োগে কঠোরতা দেখা গেছে, যার প্রভাব এখনও বিদ্যমান। ক্যালিফোর্নিয়ায় এক প্রতিবাদে অংশ নেওয়ায় ডেমোক্র্যাট সিনেটর আলেক্স পাডিলাকে হাতকড়া পরানো হয় এবং গভর্নর গ্যাভিন নিউসমকেও গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
এই ঘটনার ফলে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে ভীতি ছড়িয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এমন ঘটনাগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে ভয় ও অনাস্থা তৈরি করছে, যা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি।
ব্র্যাড ল্যান্ডারের গ্রেপ্তার নিয়ে বিতর্ক এখন জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে অভিবাসননীতি, মানবাধিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, যা আগামী নির্বাচনী প্রেক্ষাপটেও প্রভাব ফেলতে পারে।



















