Logo

আন্তর্জাতিক    >>   জাফর ইকবাল-সাদ্দামসহ ৫ জনকে আত্মসমর্পণে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ

জাফর ইকবাল-সাদ্দামসহ ৫ জনকে আত্মসমর্পণে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ

জাফর ইকবাল-সাদ্দামসহ ৫ জনকে আত্মসমর্পণে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য এএসএম মাকসুদ কামাল, লেখক ও অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ পলাতক পাঁচ আসামিকে আত্মসমর্পণ করতে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। মামলার অপর তিন পলাতক আসামি হলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন।

মামলাটিতে মোট আসামি আটজন। তাঁদের মধ্যে সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১২ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

অভিযোগের পটভূমি ও প্রসিকিউশনের বক্তব্য

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনাপ্রবাহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও ভূমিকা দীর্ঘ তদন্তের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।

প্রসিকিউশনের দাবি, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘রাজাকারের নাতি-পুতি’ বলে অভিহিত করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বক্তব্য আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ওই দিন রাতে শেখ হাসিনা ও তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এএসএম মাকসুদ কামালের মধ্যে হওয়া একটি ফোনালাপে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশনা-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার কথাও আনুষ্ঠানিক অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন শতাধিক নিরস্ত্র আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর ওপর ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীরা হামলা চালান। এতে শিক্ষার্থীদের মারধর, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত ও গুলিতে অনেকে আহত হন। পরে আহতদের একটি অংশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাফর ইকবালের লেখাও অভিযোগের অংশ

মামলায় অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের একটি লেখাকে অভিযোগের অংশ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুই পৃষ্ঠার ওই চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার বিশ্ববিদ্যালয়, আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু আমার মনে হয়, আমি আর কখনো এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে চাইবো না। শিক্ষার্থীদের দেখলে আমার মনে হবে, তারা হয়তো ‘রাজাকার’।’

প্রসিকিউশনের ভাষ্য, আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ হিসেবে চিহ্নিত করার বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট লেখার মাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানো, উসকানি এবং পরবর্তী হামলার পক্ষে পরিবেশ তৈরির অভিযোগ তদন্তে বিবেচনা করা হয়েছে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় জাফর ইকবালের কথিত ভূমিকা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসবই প্রসিকিউশনের অভিযোগ; মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, জাফর ইকবালের লেখাটি ১৬ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন ১৭ জুলাই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাঁকে আজীবনের জন্য ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো (ইংরেজি), জাগোনিউজ