Logo

আন্তর্জাতিক    >>   নিউইয়র্কে ঐতিহাসিক জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা: ভক্তি, সংস্কৃতি ও ঐক্যের মহোৎসবে মেয়রের পদযাত্রা

নিউইয়র্কে ঐতিহাসিক জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা: ভক্তি, সংস্কৃতি ও ঐক্যের মহোৎসবে মেয়রের পদযাত্রা

নিউইয়র্কে ঐতিহাসিক জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা: ভক্তি, সংস্কৃতি ও ঐক্যের মহোৎসবে মেয়রের পদযাত্রা

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
গত ২৪ আগষ্ট ২০২৫ রবিবার বিকেলে নিউইয়র্কের জ‍্যামাইকায় নিউইয়র্কে প্রবাসী হিন্দু সমাজের সর্ববৃহৎ ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোর একটি জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা এবার পদার্পণ করল এক দশকে। বৈদিক আমেরিকান ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং নিউইয়র্ক হিন্দু কমিউনিটির আয়োজনে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলো ১০ম বার্ষিক জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা।

শোভাযাত্রার মূল কেন্দ্র ছিল কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকা, বিশেষত হিলসাইড এভিনিউর “লিটল বাংলাদেশ” স্ট্রেচ। সকাল থেকে ভক্তরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে, হাতে কীর্তন-ঢোল, মঞ্জিরা ও শঙ্খ নিয়ে সমবেত হতে শুরু করেন। শোভাযাত্রা জুড়ে ভক্তরা একসাথে গাইতে থাকেন ভজন ও হরিনাম সংকীর্তন, আর শিশু-কিশোররা কৃষ্ণ-রাধার সাজে রঙিন আবহ তৈরি করে।

এবারের শোভাযাত্রায় ছিল এক বিশেষ মুহূর্ত— নিউইয়র্ক সিটির মেয়র স্বয়ং হাজির হয়ে ভক্তদের সঙ্গে মিশে যান। আয়োজকরা তাঁকে উত্তরীয় ও ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করেন। তিনি নিজ হাতে আনুষ্ঠানিক ঢাক বাজিয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন এবং কৃষ্ণজন্মাষ্টমীর প্রতীকী মুকুট পরে অনুপ্রেরণাদায়ক বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তিনি নিউইয়র্কের হিন্দু কমিউনিটির সাংস্কৃতিক অবদান ও সমাজে তাঁদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার প্রশংসা করেন।

এরপর মেয়র ভক্তদের সঙ্গে শোভাযাত্রায় হাঁটেন— ১৭৫ স্ট্রিট থেকে ১৬২ স্ট্রিট পর্যন্ত দীর্ঘ পথ তিনি পদযাত্রী হয়ে অতিক্রম করেন। ভক্তদের সঙ্গে হাত মেলানো, শিশুদের সঙ্গে ছবি তোলা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার মধ্য দিয়ে তিনি কমিউনিটির কাছে আরও কাছের মানুষ হয়ে ওঠেন।

শোভাযাত্রায় নিউইয়র্কের অসংখ্য হিন্দু সংগঠন নিজেদের ব্যানার নিয়ে অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে ছিল—
বৈদিক আমেরিকান ফাউন্ডেশন (NY Hindu Community), ভক্ত সংঘ, বেদান্ত সোসাইটি, মতুয়া হরী মন্দির, গুরু চক্র পরিবার, পূজা পার্বণ কালচারাল সোসাইটি, বাংলাদেশ সেবা সংঘ, সনাতন যুব সংঘ, শ্রীমৎ ভাগবত গীতা স্টাডি সেন্টার, হিন্দু কালচার অ্যান্ড হেরিটেজ সেন্টার।
বাংলাদেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তাঁদের উদ্যোগে শোভাযাত্রায় যুক্ত হয় বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ঝান্ডা, রঙিন রথ ও ধর্মীয় প্রতীক, যা উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

পুরো অনুষ্ঠানটি কেবল ধর্মীয় ভক্তির প্রকাশ নয়, বরং প্রবাসী হিন্দুদের সাংস্কৃতিক গৌরব, ঐক্য এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রবাসের মাটিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন করে হিন্দু সমাজ প্রমাণ করল— ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি সীমানা পেরিয়ে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে।
সবশেষে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রিয় তোষ দে অংশ গ্রহণ কারী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও সবার মঙ্গলকামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।