Logo

আন্তর্জাতিক    >>   নিউইয়র্কে সিরাজুল আলম খানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ২২ জুন

নিউইয়র্কে সিরাজুল আলম খানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ২২ জুন

নিউইয়র্কে সিরাজুল আলম খানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ২২ জুন

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, স্বাধীন বাংলার নিউক্লিয়াসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশের রাজনীতির প্রজ্ঞাবান কাণ্ডারি সিরাজুল আলম খানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্কে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
গত ৯ জুন ছিল তাঁর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে আগামী ২২ জুন ২০২৫, রবিবার বিকাল সাড়ে ৬টায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এই স্মরণসভা।
স্মরণসভার আয়োজন করেছে “সিরাজুল আলম খান স্মৃতি পরিষদ, নিউইয়র্ক”।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন পরিষদের আহ্বায়ক ডা. মজিবুল হক, এবং সভা পরিচালনা করবেন সদস্য সচিব শাহাব উদ্দীন। আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে সকল প্রবাসী বাংলাদেশিদের উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সিরাজুল আলম খান স্বাধীন বাংলাদেশের এক স্বপ্নদ্রষ্টা ,১৯৪১ সালের ৬ জানুয়ারি, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার আলীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সিরাজুল আলম খান। পিতা খোরশেদ আলম খান ছিলেন স্কুল পরিদর্শক এবং মাতা সৈয়দা জাকিয়া খাতুন গৃহিণী।
তিনি ১৯৫৬ সালে খুলনা জিলা স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি, ১৯৫৮ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। থাকতেন ফজলুল হক হলে। তবে ‘কনভোকেশন মুভমেন্টে’ অংশগ্রহণের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হন।
তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে।
১৯৬১ সালে ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক ,১৯৬৩ সালে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ,এই সময়েই গড়ে তোলেন গোপন সংগঠন নিউক্লিয়াস, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের রূপরেখা নির্মিত হয় ।
নিউক্লিয়াসের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা প্রচারে ভূমিকা রাখেন এবং ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং সংগঠনে তাঁর অবদান ছিল ঐতিহাসিক।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে তিনি গড়ে তোলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও তথাকথিত ‘অভ্যুত্থান’-এর নেপথ্য পরিকল্পনায় তাঁর নাম উঠে আসে।
সিরাজুল আলম খান ভিন্ন ভিন্ন সময়ে প্রায় সাত বছর জেল খেটেছেন।
১৯৬৩ সালে গ্রেফতার ,১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমানের আমলে পুনরায় কারাবরণ ,
১৯৯২ সালে বিদেশগমনের প্রাক্কালে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার হন । তাঁর জীবনের বড় একটি সময় তিনি ব্যয় করেছেন নিঃশব্দ আন্দোলন ও সংগঠনের কাজে। তিনি ছিলেন কর্মে, চিন্তায় ও আদর্শে এক ব্যতিক্রমধর্মী রাজনৈতিক মনীষী।
সিরাজুল আলম খান ২০২৪ সালের ৯ জুন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি ছিলেন অসংখ্য অনুসারী, ছাত্রনেতা ও রাজনৈতিক কর্মীর অনুপ্রেরণা। তার আদর্শ, রাজনীতি এবং দৃষ্টিভঙ্গি আজও প্রাসঙ্গিক এবং গবেষণার বিষয়।
এই স্মরণসভা হবে তাঁর জীবন ও কর্মকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ আশা করছে আয়োজক সংগঠন।