শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম প্রয়াণ দিবসে উদীচী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক, নিউইয়র্ক, ২৬ জুন ২০২৫:
আজ ২৬ জুন, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম প্রয়াণ দিবসে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, যুক্তরাষ্ট্র সংসদ গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে জাতির এক অনন্য সন্তানকে, যিনি শুধু একজন মা নন—একটি আদর্শ, একটি আন্দোলন, একটি ইতিহাসের নাম।
এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি ক্ল্যারা রোজারীও ও সাধারণ সম্পাদক কল্লোল দাশ বলেন,“শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ছিলেন নির্ভীক লেখক, আদর্শনিষ্ঠ শিক্ষাবিদ এবং একাত্তরের ঘাতক দালালবিরোধী আন্দোলনের অগ্রদূত। তাঁর লেখনী ‘একাত্তরের দিনগুলি’ শুধু ব্যক্তিগত বেদনাকে ধারণ করে না—বরং মুক্তিযুদ্ধের নির্মম বাস্তবতা ও ইতিহাসের এক অনন্য দলিল। তাঁর জীবন, তাঁর সংগ্রাম নতুন প্রজন্মের জন্য আলোকবর্তিকা।”
জাহানারা ইমামের জন্ম ১৯২৯ সালের ৩ মে, বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায়। বাবা সৈয়দ আবদুল আলী ছিলেন ব্রিটিশ প্রশাসনের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, মা সৈয়দা হামিদা বেগম। কঠোর রক্ষণশীল এক পরিবারে জন্ম নিয়েও জাহানারা ইমাম উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন। ১৯৪৭ সালে কলকাতার লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ থেকে বিএ পাস করেন, এরপর ঢাকায় শিক্ষকতা ও শিক্ষা সংগঠক হিসেবে কাজ করেন দীর্ঘদিন।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র শফি ইমাম রুমী অংশ নেন গেরিলা অপারেশনে এবং পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে নির্মমভাবে শহীদ হন। স্বামী প্রকৌশলী শরীফ ইমাম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অল্প কিছুদিন পর মৃত্যুবরণ করেন। সেই অসহনীয় ব্যক্তিগত শোককে শক্তিতে পরিণত করে জাহানারা ইমাম দাঁড়িয়ে যান জাতির সামনে, সকল মুক্তিযোদ্ধার মা হয়ে ওঠেন তিনি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়,“যে সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি তোলা ছিল একপ্রকার আত্মহননের শামিল, সেই সময়ে তিনি জনগণকে সংগঠিত করেছেন। ১৯৯২ সালে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠন করে গণআদালতের আয়োজন, দেশব্যাপী প্রচারণা—সবকিছুতেই তিনি ছিলেন অগ্রণী। তাঁর বপন করা চেতনাই পরবর্তীকালে ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলনের ভিত্তি রচনা করে।”
জাহানারা ইমামের শিক্ষকতা জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় কেটেছে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে শিক্ষা সনদ নিয়েও দেশে ফিরে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর জীবন প্রতিটি পর্যায়ে ছিল সংগ্রাম ও আদর্শের প্রতীক।
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, যুক্তরাষ্ট্র সংসদ তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করে এবং নতুন প্রজন্মকে তাঁর জীবন, আদর্শ ও লেখনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার আহ্বান জানায়।
“শহীদ জননী জাহানারা ইমাম যে আন্দোলন শুরু করেছিলেন, আজ তা ফলপ্রসূ হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তাঁকে চলে যেতে হয়েছিল রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ মাথায় নিয়ে—যা ইতিহাসের এক নির্মম পরিহাস। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা সেই অপমান মোচনের দায়ও জাতি হিসেবে স্মরণ করি।”
শেষে বিবৃতিতে বলা হয়,“জাহানারা ইমামের মতন আদর্শবান নেতৃত্বের পথ ধরেই আমরা মানবিক মূল্যবোধ, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধিতা এবং সাংস্কৃতিক চেতনায় বিশ্বাসী একটি সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের লড়াই অব্যাহত রাখব।”



















