আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বাংলাদেশের তিন সেনা কর্মকর্তাসহ আটজনের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের সময় থেকে সাম্প্রতিক সময়ে গোপালগঞ্জে ঘটে যাওয়া নির্মম গণহত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দুইটা মামলা দায়ের করা হয়েছে। হিউস্টেন থেকে জনাব নাদিম ভুঁইয়া এবং টেক্সাস আওয়ামী লীগের নেত্রী মিস নাহিদা নাসের মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডের বিচার চেয়ে এই মামলা দায়ের করেন। গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে সংগঠিত হওয়া গণহত্যা নিয়ে বেশ কয়েকজন আর্মি অফিসারকে লোকেট করা হয়েছে। বিশেষ করে যশোরের জিওসি এম. জে ইমদাদুল ইসলাম, ব্রিগেড কমান্ডার এমডি মিজানুর রহমান, ফিল্ড অফিসার লেফটেনেন্ট কর্নেল মাবরুক হাসান।
এছাড়াও সেনা প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস, স্বরাষ্ট্র ও প্রতিমন্ত্রী লেফটেনেন্ট জাহাঙ্গির, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং এনসিপির সারজিস আলম নাহিদ, হাসনাতদের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জের গনহত্যাকে সামনে এনে সমস্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রোম স্ট্যাটিউট (Rome Statute) এর আর্টিকেল ৫০-এর অধিনে এই মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা হয়। কেননা জনাব নাদিম ভূঁইয়া মনে করেন বাংলাদেশের অবৈধ সরকার এই গণহত্যার বিচার করবেনা। তাই তিনি আন্তর্জাতিক আদালতের সরণাপন্ন হয়েছেন। জনাব নাদিম ভূঁইয়া ও নাহিদা নাসেরের দায়ের করা মামলায় আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন নিঝুম মজুমদার।
ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার
প্রথম অভিযোগ সম্পর্কে জনাব নাদিম ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশ আর্মি গোপালগঞ্জে যে নারকীয় গণহত্যা ঘটাচ্ছে তা ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি আর্মিদের করা অত্যাচারের থেকেও বেশি ভয়ানক। ভিডিও ফুটেজে যেমনটা দেখা গেছে কিভাবে তারা একটা ছাত্রকে আহত করে বুকের মধ্যে পারা দিয়ে যেভাবে মেরেছে তা অবর্ণনীয়-কল্পনাতীত। এই ভায়াবহ বর্বরোচীত ঘটনা সহ্য করতে না পেরেই জনাব নাদিম আন্তর্জাতিক আদালতে নিজের অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানান।
দ্বিতীয় অভিযোগ দায়ের করেন টেক্সাস আওয়ামী লীগের নেত্রী নাহিদা নাসের। তিনি জানান, গতবছর বিদেশী সহায়তায় বা স্বড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলার টোকাই-সন্ত্রাসীরা যখন অন্যায়ভাবে রাষ্ট্র দখল করেছে তখন ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত তারা তিন (৩) ধরনের অন্যায় করেছে। তখন তারা পুলিশের গণহত্যা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীদের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের গণহত্যা-নির্যাতন, সংখ্যালঘু হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানদের গণহত্যা ও নির্যাতন করা হয়েছে সেই অপরাধগুলোর বিচার চেয়ে মামলা দায়ের করেন টেক্সাস আওয়ামী লীগের নেত্রী নাহিদা নাসের। মিস নাহিদা নাসের জানান, অবৈধ সরকার বলেছে এই মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোর কোনো বিচার হবেনা তাই তিনি মনে করেন এই অপরাধের বিচার তিনি আন্তর্জাতিক আদালতে চাইবেন। সেই কারনেই তিনি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে রোম স্ট্যাটিউট (Rome Statute) এর আর্টিকেল ৫০-এর অধিনে এই মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য যে, সিলেটের মাননীয় মেয়র জনাব আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী গত বচরের ৮ নভেম্বরে একটি অভিযোগ আনেন। টরেন্টোতে দ্বিতীয় অভিযোগ অনেন এমডি হাসান। এবং এবারে তৃতীয় অভিযোগ আনেন নাহিদা নাসের।
তিনি বলেন, আমরা জানি এই মুহূর্তে আমাদের দেশে যে অবস্থা হচ্ছে এটা তখনোই মেনে নেওয়া যায়না। একটা স্বাধীন দেশে একজন কথা বলতে পারবেনা, অথবা একজন স্বৈরাচারি সরকার যখন একজন গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমাতা দখল করেছে। সেই সাথে আমরা সবাই জানি যে, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ ছিলো এবং আমরা সবাই শান্তিতে বসবাস করে আসছিলাম।
কিন্তু সেখানে ইউনূস সরকার এসে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ধরে ধরে অত্যাচার-নির্যাতন করেছে, মহিলাদের ধর্ষণ করছে, বাচ্চাদের জীবন ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে নিচ্ছে। সেই সাথে আমাদের সকলকে নিরাপত্তা দেওয়া পুলিশদের উপর পৈচাশিক নির্যাতন করছে। তারা একজন গর্ভবতী নারীকে নির্যাতন করে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। বিশেষ করে স্বাধীনতার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জুতার মালা গলায় দিয়ে অপমান-অসম্মান করছে। এটার থেকে নারকীয় ঘটনা আর হতে পারেনা। সেজন্য একজন নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি এটা আমার অধিকার যে আমি সৈরাচার ইউনূস এবং তার যত দোষর আছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবো। এবং এই মামলা দায়ের করার ক্ষেত্রে আমাদের ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার সলিসিটর আইনি সহায়তা করছেন।
মিস নাহিদা নাসির মনে করেন, শুধু তিনি নন বরং প্রতিটা বাংলাদেশীকে এই বিষয়ে সোচ্চার হওয়া এবং বিশেষ আদালতে মামলার আবেদন করা উচিত। কেননা, অবৈধ সরকার কখনোই আমাদের মামলা নিবেনা। আর সেই জন্যই আমরা আন্তর্জাতিক আদালতে এই মামলাটা দায়ের করেছি। তিনি আশা করেন, হিউস্টন থেকে আরো অনেক মামলা করা হবে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং আমরা সফল হবো।
সিলিসিটার জনাব নিঝুম মজুমদার জানান, গোপালগঞ্জের নির্যাতন-গণহত্যা নিয়ে দায়ের করা জনাব নাদিম ভুঁইয়ার অভিযোগে সম্ভাব্য আট (৮) জনকে আসামী ধরে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই সাথে টেক্সাস আওয়ামী লীগের নেত্রী মিস নাহিদা নাসেরের করা অভিযোগে ৬৪ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করে হয়েছে। এবং তদন্তের পর অপরাধীর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: নিঝুম মজুমদারের ইউটিউব চ্যানেল এবং ভিডিওটি দেখতে ক্লিক করুন:-



















