ইউনূসের সন্ত্রাস রুখে দিতে প্রবাসীদের দুর্বার ঐক্যের ডাক: জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ সম্মেলন
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশকে জঙ্গিদের অভয়ারণ্য বানিয়ে পুনরায় ভিক্ষুক রাষ্ট্রে পরিণত করার গভীর ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, গত বছরের জুলাই-আগস্টের কথিত অভ্যুত্থানের পর বেআইনিভাবে ক্ষমতায় বসা গোষ্ঠী আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক-বাহক ও শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত নেতাদের বিরুদ্ধে বিচার প্রহসন সাজাচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩ বিকৃত করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার যে নীলনকশা চলছে—তা জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
সোস্যাল মিডিয়া ও রাজপথে সরব ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার বলেন,
“১৯৭৩ সালের আইন কেবল ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য। আজ যা করা হচ্ছে তা বিচার নয়, এক নিছক প্রহসন। ইউনূসের অবৈধ সরকারের অধীনে এই আইনের কোনো বৈধতা নেই। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনেই এ প্রহসন রুখে দেওয়া হবে।”
তিনি জানান, জাতিসংঘ মানবাধিকার হাই কমিশনার ভল্কার তুর্কের নেতৃত্বে কথিত অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত যে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, সেটি আসলে ইউনূসের দীর্ঘমেয়াদি ষড়যন্ত্রের অংশ। এর প্রতিবাদে দায়িত্ব পালনকারী শতশত কর্মকর্তার সাক্ষ্য-ভিত্তিক দুই শতাধিক পৃষ্ঠার প্রতিবেদন ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়েছে, যা জেনিভা, ব্রাসেলস ও লন্ডনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে এবং এর কপি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন কংগ্রেসসহ আন্তর্জাতিক মহলে পাঠানো হচ্ছে।
সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ড. প্রদীপ কর বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩ একটি বিশেষায়িত আইন, যার সীমা শুধু ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধ পর্যন্ত। অথচ বর্তমানের বেআইনী প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জাতিকে বিভ্রান্ত করে নতুন হত্যাকাণ্ডকে এই আইনের আওতায় ফেলার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন। এতে মূল লক্ষ্য শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের দমন।”
তিনি আরো বলেন, “এ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হলে যত দ্রুত সম্ভব ইউনূসকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। প্রবাসীদের ঐক্যই এ লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শনিবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের এক পার্টি হলে আয়োজিত এ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন এডভোকেট শাহ বখতিয়ার। মঞ্চে আরো উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী এবং মূলধারার রাজনীতিক ড. রবি আলম।
প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন সাংবাদিক সনজীবন কুমার (সম্পাদক, সন্ধান পত্রিকা) এবং উত্তম কুমার সাহা (সম্পাদক ও প্রকাশক, প্রজ্ঞা পত্রিকা)।
সম্মেলন শেষে ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ড. প্রদীপ করের এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং সভাপতি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।



















