নিউইয়র্কে কে হবেন নগরপিতা? বাংলাদেশি-দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির শক্তিশালী সমর্থন এখন অ্যান্ড্রু কুয়োমোর পক্ষে — ধর্মীয় মূল্যবোধ, জননিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের প্রতিশ্রুতিতে জনমত ঝুঁকছে তাঁর দিকে
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
নিউইয়র্ক সিটিতে আসন্ন মেয়র নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা জ্যাকসন হাইটস, উডসাইড, জ্যামাইকা, ম্যানহাটন , স্ব্রঙ্কস , স্টেটেন আইল্যান্ড, ব্রুকলিন , থেকে শুরু করে কুইন্স সহ পাঁচ বোরোর —সব জায়গায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা ও ভোটের সমীকরণ। রেস্টুরেন্ট, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, বৌদ্ধ বিহার ও কমিউনিটি সেন্টারে জনগণের মুখে একটাই প্রশ্ন—
কে হবেন নিউইয়র্কের নগরপিতা?
আর সেই প্রশ্নে ক্রমেই প্রবল হচ্ছে সাবেক গভর্নর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে ঘিরে প্রত্যাশা।
অপরদিকে ধর্মীয় মূল্যবোধ বনাম বিতর্কিত অবস্থান — আলোচনার কেন্দ্র জোহরান মামদানি ।
প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট Zohran Mamdani নির্বাচনী ইশতেহারে পতিতাবৃত্তি বৈধকরণ ও সমকামীদের মতো বিষয়ে সমর্থন জানানোর পর মুসলিম ও ধর্মীয় কমিউনিটিতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন—“ইসলাম ধর্ম কোনোভাবেই পতিতাবৃত্তি ও অনৈতিকতা সমর্থন করে না। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় আমাদের সঠিক নেতৃত্ব দরকার।”এদিকে New York Post-এ প্রকাশিত অভিযোগ অনুযায়ী মামদানির প্রচারণায় প্রায় ১৩ হাজার ডলারের অবৈধ বিদেশি অনুদান গ্রহণের তথ্য ফাঁস হয়েছে—যা তাঁর প্রচারণায় বড় ধাক্কা বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
কুয়োমোর উন্নয়ন দর্শন — জননিরাপত্তা, শিক্ষা, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জোর
বিভিন্ন সমাবেশে কুয়োমো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—
পাবলিক স্কুলে মেয়রাল কন্ট্রোল পুনর্বহাল , Gifted & Talented প্রোগ্রাম সম্প্রসারণ , বিশেষায়িত হাই স্কুল সংখ্যা দ্বিগুণ , সাবওয়ে ও রাস্তায় নিরাপত্তা জোরদার , বাসস্থান সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ , ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটির আরও অংশগ্রহণ নিশ্চিত ।
কুয়োমোর বক্তব্য বলেন — “নিউইয়র্কের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে আমাকে শক্তিশালী নেতৃত্বের সুযোগ দিন। বাংলাদেশিদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পদে সুযোগ তৈরি করব।”
ধারাবাহিক সমর্থন সভার মধ্যে দক্ষিণ এশীয় ভোট ব্যাংকে কুয়োমোকে এগিয়ে নেয়ার জন্য ফ্রেশমেডো’সের গুজরাটি সোসাইটি হলে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন অনীল ভার্সা। প্রধান অতিথি ছিলেন অ্যান্ড্রু কুয়োমো।
উপস্থিত ছিলেন, ডেমোক্রেটিক ডিস্ট্রিক্ট লিডার ড. দিলীপ নাথ , কমিউনিটি বোর্ড সদস্য ফাহাদ সোলায়মান ,হারিস প্যাটেল ,ফয়সল আজিজ ,কমিউনিটির নেতা ইয়াসমিন ফাত্তাহ ,আমজাদ হোসেন সেলিম ,বিদ্যুৎ সরকার,ভবতোষ মিত্র,
মো. পারভেজসহ গুজরাটি ও বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতারা ।
এছাড়া আরেকটি বিশাল সমর্থন সমাবেশ হয় , লা গার্ডিয়া পারফর্মিং আর্টস সেন্টারের বাইরে—যেখানে “Vote for Andrew Cuomo” স্লোগানে মুখর হয় এলাকা।
হিন্দু সম্প্রদায়ের আনুষ্ঠানিক সমর্থন — নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তন
বেলরোজে বাংলাদেশ বেদান্ত সোসাইটির দুর্গাপূজা মঞ্চে হিন্দু সম্প্রদায় কুয়োমোর আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করে।
অনুষ্ঠানে কুয়োমোর হাতে শাল পরানো ও রাখি বাঁধা হয় শুভকামনার প্রতীক হিসেবে।
ড. দিলীপ নাথ বলেন—“আমরা বিভেদ চাই না, চাই একাত্মতা। কুয়োমোই পারবেন সমগ্র নিউইয়র্কের প্রতিনিধি হতে।”তিনি আরও বলেন, “এখন সময় আমাদের, জনগণের সিদ্ধান্ত জানানোর। ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করব। তাই সবাইকে অনুরোধ করছি— Vote for Andrew Cuomo!”
কমিউনিটি বোর্ড সদস্য ফাহাদ সোলায়মান বলেন , “নিউইয়র্ক সিটি বর্তমানে জননিরাপত্তা, শিক্ষা, বাসস্থান ও মানসিক স্বাস্থ্যসহ নানা সংকটে নিমজ্জিত। অ্যান্ড্রু কুয়োমো নির্বাচিত হলে শহরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করবেন।”তিনি আরও বলেন,“পাবলিক স্কুলে মেয়রাল কন্ট্রোল পুনর্বহাল, মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘Gifted & Talented’ প্রোগ্রাম সম্প্রসারণ এবং বিশেষায়িত হাই স্কুলের সংখ্যা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।”
এটর্নি নাসরিন আহমেদ বলেন “শহরের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলায় স্থিতিশীল নেতৃত্বের জন্য অ্যান্ড্রু কুয়োমোর বিকল্প নেই। তাই আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে তাঁকে ভোট দিতে হবে।”
কমিউনিটির নেতা নুরুজ্জামান সরদার বলেন,“অ্যান্ড্রু কুয়োমো নির্বাচিত হলে সাউথ এশিয়ানসহ সব অভিবাসী সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। বাংলাদেশি আমেরিকানরাও তখন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাবেন।”
প্রজ্ঞা ফাউন্ডেশনের সিইও উত্তম কুমার সাহা বলেন,“নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আমাদের সিদ্ধান্তের উপর। আমরা সবাই মিলে একটি নতুন, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ নিউইয়র্ক গড়ে তুলতে চাই। সেই লক্ষ্য পূরণে আমাদের প্রিয় প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুয়োমোকেই নির্বাচিত করতে হবে।
বাংলাদেশি আমেরিকানদের প্রত্যাশা— “নতুন, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ নিউইয়র্ক “।
ভোট যুদ্ধ ৪ নভেম্বর —
একপক্ষে অভিজ্ঞ এবং শক্ত নেতৃত্বের দাবিদার অ্যান্ড্রু কুয়োমো,
অন্যপক্ষে বিতর্কে জর্জরিত জোহরান মামদানি ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে—দক্ষিণ এশীয়, মুসলিম ও হিন্দু ভোটই এবার নির্ধারণ করবে কে হবেন নিউইয়র্ক সিটির নতুন নগরপিতা।



















