Logo

আন্তর্জাতিক    >>   আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষপাতদুষ্ট ও অস্বচ্ছ বিচার দেশে আইনের শাসনকে ব্যাহত করবে—১১৫ জন শীর্ষ সাংবাদিকের উদ্বেগ ও প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষপাতদুষ্ট ও অস্বচ্ছ বিচার দেশে আইনের শাসনকে ব্যাহত করবে—১১৫ জন শীর্ষ সাংবাদিকের উদ্বেগ ও প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষপাতদুষ্ট ও অস্বচ্ছ বিচার দেশে আইনের শাসনকে ব্যাহত করবে—১১৫ জন শীর্ষ সাংবাদিকের উদ্বেগ ও প্রতিবাদ

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ১১৫ জন অভিজ্ঞ ও শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আদালতে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাম্প্রতিক রায় নিয়ে তীব্র উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছেন। তাঁরা মনে করছেন, আইসিটির বর্তমান বিচারিক পরিবেশে অসংগতি, অস্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে, যা আইনের শাসনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
সাংবাদিকরা বলেন, সাম্প্রতিক রায়কে ঘিরে যে প্রশ্ন, বিতর্ক ও অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে জনগণের আস্থাকে নড়বড়ে করেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং পাঁচ বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আইসিটি আদালতের রায় নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
একতরফা তথ্য উপস্থাপন, অভিযুক্তদের আইনজীবী নিয়োগে বাধা, প্রতিপক্ষের পক্ষপাতদুষ্ট আইনজীবীকে শেখ হাসিনার আইনজীবী হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া, আদালতের ওপর অস্বাভাবিক চাপ—সব মিলিয়ে বিচার প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। মামলার সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীদের ওপর হামলা এবং মব সন্ত্রাসের অভিযোগ সাংবাদিকদের আরও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।
বিবৃতিতে ১১৫ জন সাংবাদিক চার দফা স্পষ্ট দাবি উত্থাপন করেন—
১. বিতর্কিত ও পক্ষপাতদুষ্ট এই রায় বাতিল করে সমস্ত বিচারিক প্রক্রিয়া পুনরায় স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও চাপমুক্ত পরিবেশে পরিচালনা করতে হবে।
২. আদালতকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখতে হবে।
৩. সকল পক্ষকে নিজস্ব আইনজীবী নিয়োগের অধিকার এবং সমানভাবে বক্তব্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
৪. যে কোনো রায় আইন, সত্য ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে হতে হবে; কোনোভাবেই প্রভাবিত সিদ্ধান্ত বা প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ যেন না হয়।
সাংবাদিকরা বলেন, গণমাধ্যমের দায়িত্ব সত্য প্রকাশ করা—আর সত্য ও ন্যায়বিচারই গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখে। ফরমায়েশি ও সাজানো রায় রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করে দেয় এবং দেশকে বিপজ্জনক পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়।
বিবৃতিতে যুক্ত হয়েছেন সৈয়দ বদরুল আহসান, ফরিদা ইয়াসমিন, মঞ্জুরুল ইসলাম, হাকিকুল ইসলাম খোকন, শাবান মাহমুদ, আবু জাফর সূর্য, সোহেল হায়দার চৌধুরী, আকতার হোসেন, প্রণব সরকার, সৈয়দ বোরহান কবির, এম জি কিবরিয়া চৌধুরীসহ দেশ-বিদেশের ১১৫ জন প্রখ্যাত সাংবাদিক, সম্পাদক, সংবাদ সংগঠনের নেতা ও প্রবাসী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।
তাঁরা একযোগে বলেন—গণতন্ত্র, স্বাধীন সাংবাদিকতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন রক্ষায় আমরা ঐক্যবদ্ধ। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে রাষ্ট্র ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে যাবে।
বার্তা প্রেরক:
তৈমুর ফারুক তুষার
সিনিয়র সাংবাদিক