Logo

আন্তর্জাতিক    >>   হোয়াইট হাউজে সৌদি যুবরাজকে ট্রাম্পের রাজকীয় অভ্যর্থনা: এক ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি, মানবাধিকার বিতর্ক চাপা পড়ল সৌহার্দ্যের আড়ালে

হোয়াইট হাউজে সৌদি যুবরাজকে ট্রাম্পের রাজকীয় অভ্যর্থনা: এক ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি, মানবাধিকার বিতর্ক চাপা পড়ল সৌহার্দ্যের আড়ালে

হোয়াইট হাউজে সৌদি যুবরাজকে ট্রাম্পের রাজকীয় অভ্যর্থনা: এক ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি, মানবাধিকার বিতর্ক চাপা পড়ল সৌহার্দ্যের আড়ালে

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
হোয়াইট হাউজে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) সফর এবার এক অভূতপূর্ব সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে এমন উষ্ণতা, এমন রাজকীয় সম্মাননা এর আগে কোনো বিদেশি নেতাকে দেওয়া হয়নি—এমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। লাল গালিচা, গার্ড অব অনার, সামরিক ব্যান্ড ও ফাইটার জেটের ফ্লাইওভার—সব মিলিয়ে সৌদি যুবরাজকে স্বাগত জানাতে হোয়াইট হাউজ ছিল রাজকীয় আয়োজনে সাজানো।
সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যুবরাজ এমবিএসকে অভিযুক্ত করার সাত বছর পর এ সফর অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটি ছিল আরও বেশি নজরকাড়া। মানবাধিকার ইস্যুকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প বন্ধু হিসেবে এমবিএসকে আখ্যা দিয়ে বলেন,
“তিনি বহু বছর ধরে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আজ তাকে ওভাল অফিসে স্বাগত জানাতে আমরা সম্মানিত।”
বাইডেন প্রশাসনের প্রতি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়েও ট্রাম্প বলেন, ২০২২ সালে সৌদি সফরে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুবরাজকে ফিস্ট বাম্প দিয়ে যে অভ্যর্থনা দেন, তা সৌদি রাজার মর্যাদাকে খাটো করেছে। ট্রাম্পের ভাষায়,
“একজন ভবিষ্যৎ রাজার সঙ্গে দেখা হলে হাত মেলানোই শোভনীয়। ট্রাম্প কখনো ফিস্ট বাম্প দেয় না।”
মুহূর্তেই তিনি যুবরাজের সঙ্গে করমর্দন করে নিজের কথার বাস্তব উদাহরণ দেন।
ওভাল অফিসে বৈঠকে দুই নেতা নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও সামরিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একাধিক চুক্তির ঘোষণা দেন। এর মধ্যে রিয়াদের কাছে উন্নত এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সিদ্ধান্ত ছিল সবচেয়ে আলোচিত। ইসরাইলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ট্রাম্প বলেন,
“দুই দেশই এমন পর্যায়ে আছে, যেখানে তাদের সর্বোত্তম যন্ত্রপাতি পাওয়া উচিত।”
পক্ষান্তরে, সৌদি যুবরাজ ইঙ্গিত দেন—ফিলিস্তিনের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ নিশ্চিত হলে সৌদি আরব ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পারে।
এছাড়া দুই দেশের মধ্যে ৩০০ ট্যাঙ্ক ক্রয়ের চুক্তিও চূড়ান্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার দিকেও এগোচ্ছে বলে জানান ট্রাম্প।
খাশোগি হত্যাকাণ্ড ও ৯/১১ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্প রুষ্ট প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন,
“অনেকেই খাশোগিকে পছন্দ করতেন না। যুবরাজ এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না—এখানেই বিষয়টি শেষ।”
এমবিএস ঘটনাটিকে সৌদি আরবের জন্য ‘যন্ত্রণাদায়ক’ উল্লেখ করে পুনরায় অস্বীকার করেন নিজের সংশ্লিষ্টতা।
বৈঠকের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ঘোষণা ছিল সৌদি আরবের যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ। এমবিএস জানান, তাদের দেশের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি ৬০০ বিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ১ ট্রিলিয়ন ডলার করা হবে। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জেট ইঞ্জিন, উচ্চপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক খাতে বিস্তৃত বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাতের নৈশভোজে ট্রাম্প সৌদি আরবকে ‘ন্যাটোর বাইরে অন্যতম প্রধান মিত্র’ হিসেবে মনোনীত করার ঘোষণা দেন, যা প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় দেশটিকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করবে।
এই সফর শুধু দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল না, বরং মানবাধিকার বিতর্ক, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ভূরাজনীতিতেও এক শক্তিশালী বার্তা ছড়িয়ে দিল।
সূত্র: হাকিকুল ইসলাম খোকন।