‘জুলাই ঘোষণা’ চাপিয়ে দিতে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট অসাংবিধানিক ষড়যন্ত্র: রাষ্ট্র ও সংবিধান রক্ষায় ‘লন্ডন ঘোষণা’
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
প্রেস রিলিজ | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | লন্ডন
বাংলাদেশের সংবিধান, রাষ্ট্র কাঠামো ও জনগণের সার্বভৌম অধিকারকে পাশ কাটিয়ে তথাকথিত ‘জুলাই ঘোষণা’ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট আয়োজনের উদ্যোগকে অসাংবিধানিক, গণবিরোধী ও ষড়যন্ত্রমূলক ধারাবাহিক অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে লন্ডনভিত্তিক নাগরিক প্ল্যাটফর্ম হৃদয়ে’৭১। সংগঠনটি জানায়, এ ধরনের উদ্যোগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী এবং এর মাধ্যমে রাষ্ট্রকে পরিকল্পিতভাবে সাংবিধানিক ধারার বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।
২৬ জানুয়ারি ২০২৬ পূর্ব লন্ডনের একটি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ‘লন্ডন ঘোষণা’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ডাকসুর সাবেক সদস্য ও হৃদয়ে’৭১–এর আহ্বায়ক দেওয়ান গৌস সুলতান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নেতা অ্যাডভোকেট শাহ ফারুক আহমেদ, রাজনৈতিক সংগঠক ও ব্যবসায়ী মতিউর রহমান মতিন, হৃদয়ে’৭১–এর সংগঠক আলিমুজ্জামান, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও রাজনীতিবিদ মুজিবুর রহমান মনি, ছমিরুন চৌধুরী, কিটন শিকদার, ভিপি আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা, আবদুল অদুদ, রেজাউল হক চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী, সাংবাদিক মোরছালিন মিজান, চৌধুরী মুরাদ, আব্দুল বাছির, শহীদুল ইসলাম সাগরসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে দেওয়ান গৌস সুলতান, অ্যাডভোকেট শাহ ফারুক আহমেদ ও মতিউর রহমান মতিন বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে গভীর সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করেন। তারা বলেন, একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রকৌশলের মাধ্যমে দেশকে সাংবিধানিক ধারার বাইরে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চলছে। তাদের ভাষায়, “১২ ফেব্রুয়ারির তথাকথিত গণভোট সংবিধানের বাইরে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্বিন্যাসের বিপজ্জনক পদক্ষেপ। এটি গণতন্ত্রের বিকল্প নয়; বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া স্থগিত করার কৌশল।”
হৃদয়ে’৭১ স্পষ্টভাবে জানায়, ১৯৭২ সালের সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয়। গণভোটের নামে জাতিকে বিভক্ত করার প্রচেষ্টা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী এবং অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র পুনর্গঠন কার্যত গণতন্ত্র স্থগিত করার শামিল।
লন্ডন ঘোষণায় একটি ঐক্যভিত্তিক সাংবিধানিক বিকল্প পথনকশা উপস্থাপন করা হয়, যেখানে ১৯৭২ সালের সংবিধানের সর্বোচ্চ মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, মব সহিংসতা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
১৭–১৮ জানুয়ারি লন্ডনকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার গণতন্ত্রকর্মী, গবেষক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে ‘লন্ডন ঘোষণা’ গৃহীত হয়।
হৃদয়ে’৭১ আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক শক্তি, মানবাধিকার সংগঠন এবং রাষ্ট্রসমূহের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে, বাংলাদেশের সাংবিধানিক শাসন, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় নীতিনিষ্ঠ ও সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।



















