নিউইয়র্কের জীবনযাত্রার সংকট সমাধানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক চান মেয়র জোহরান মামদানি
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত ১১১তম মেয়র জোহরান মামদানি নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো স্পষ্ট করে জানালেন—নগরবাসীর জীবনযাত্রার চরম ব্যয় সংকট মোকাবিলায় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে প্রস্তুত। দীর্ঘদিন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত হলেও, নিউইয়র্কবাসীর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়াতে চান বলে জানান তিনি।
এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রসিকতা করে মামদানি বলেন, “হোয়াইট হাউস এখনো আমাকে অভিনন্দন জানায়নি। তবে আমি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বসে নিউইয়র্কবাসীর জন্য কীভাবে কাজ করা যায়—তা নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী।”
তিনি স্পষ্ট করেন যে, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোই তার প্রশাসনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার, আর এই একই প্রতিশ্রুতি দিয়েই ট্রাম্পও জাতীয় পর্যায়ে ভোটারদের
মামদানি বলেন, “খেটে খাওয়া মানুষের সংকট শুধু চিহ্নিত করলেই হবে না—সেই সংকট কমাতে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।” তিনি ট্রাম্পের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় খাদ্যদ্রব্যের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, শাটডাউনের সময় প্রেসিডেন্ট খাদ্য সহায়তা স্থগিতের চেষ্টা করেছিলেন—যা গরিব মানুষের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করে।
নির্বাচনে মামদানির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো।
উচ্চমূল্যস্ফীতি, ভাড়া বৃদ্ধি, বাজার খরচ বৃদ্ধি—এই তিন ইস্যুকেই সামনে রেখে তিনি কুয়োমোর শক্তিশালী প্রচার প্ল্যাটফর্মকে পরাজিত করেন। তার প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল , সিটি বাসে ফ্রি যাতায়াত ,বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করা ,শিশুদের জন্য বিনামূল্যে ডে-কেয়ার ।
নির্বাচনের পর মামদানি বলেন, “রিপাবলিকানরা ভয় পাচ্ছেন কারণ তারা জানেন—আমরা এই এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বুধবার তিনি তার ট্রানজিশন টিমে পাঁচজন নারীকে কো-চেয়ার হিসেবে ঘোষণা করেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ।
লিনা খান, জো বাইডেন প্রশাসনের অধীন ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (FTC) চেয়ারম্যান ,মারিয়া টরেস-স্প্রিংগার, যিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বিদায়ী মেয়র এরিক অ্যাডামসের সম্পর্ক নিয়ে মতানৈক্যের জেরে ডেপুটি মেয়রের পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন ।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে মামদানি স্পষ্ট করছেন যে তিনি একটি বৈচিত্র্যময়, স্বচ্ছ ও প্রগতিশীল প্রশাসন গঠনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সূত্র: হাকিকুল ইসলাম খোকন।



















